সময়ের খবর

খুলনা | বুধবার | ২৮ জানুয়ারী ২০২৬ | ১৫ মাঘ ১৪৩২

ইরানের সঙ্গে উত্তেজনা

মধ্যপ্রাচ্যে বিশাল সামরিক মহড়ার ঘোষণা যুক্তরাষ্ট্রের

খবর প্রতিবেদন |
০৫:৪১ পি.এম | ২৮ জানুয়ারী ২০২৬


ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যের জলসীমায় বিশাল সামরিক মহড়ার ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ইতোমধ্যেই ইরানের আরও কাছে পৌঁছেছে মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ‘ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন’ এবং বেশ কিছু যুদ্ধজাহাজ।

মঙ্গলবার মার্কিন সামরিক বাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ড (সেন্টকম) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ‘মার্কিন বিমান বাহিনী মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে বহু-দিনের প্রস্তুতি মহড়া পরিচালনা করবে, যাতে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড এলাকা জুড়ে যুদ্ধ বিমান মোতায়েন, শত্রু বিমান বাহিনীকে ছত্রভঙ্গ এবং যুদ্ধ পরিস্থিতিতে নিজেদের টিকে থাকার ক্ষমতা পরীক্ষা করা যায়। বেশ কিছুদিন এই মহড়া চলবে।’

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘নবম বিমান বাহিনী (এয়ার ফোর্সেস সেন্ট্রাল) এর নেতৃত্বে পরিচালিত এই মহড়ার লক্ষ্য দ্রুত চলমান বিমান এবং কর্মীদের জন্য পদ্ধতি যাচাই করা, বিক্ষিপ্ত আকস্মিক অবস্থান থেকে পরিচালনা করা এবং ন্যূনতম লজিস্টিক পদচিহ্নসহ মিশন বজায় রাখা। এই মহড়াটি আঞ্চলিক অংশীদারদের অনুমোদনক্রমে এবং বেসামরিক ও সামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের সাথে সমন্বয়ের মাধ্যমে পরিচালিত হবে।’

মার্কিন কেন্দ্রীয় কমান্ডের বিমান বাহিনী কেন্দ্রীয় এবং সম্মিলিত বাহিনী বিমান কম্পোনেন্টের কমান্ডার লেফটেন্যান্ট জেনারেল ডেরেক ফ্রান্স বলেন, ‘আমাদের বিমানবাহিনী প্রমাণ করছে যে তারা কঠিন পরিস্থিতিতে - নিরাপদে, সুনির্দিষ্টভাবে এবং আমাদের অংশীদারদের সাথে - শত্রু বিমান বাহিনীকে ছত্রভঙ্গ এবং যুদ্ধ অভিযান পরিচালনা করতে পারে।’

এরআগে সোমবার মার্কিন কেন্দ্রীয় কমান্ড জানিয়েছে, দক্ষিণ চীন সাগর থেকে যাত্রা করা বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনের নেতৃত্বে বিশাল নৌবহর ভারত মহাসাগরে মার্কিন কেন্দ্রীয় কমান্ডের জলসীমায় প্রবেশ করেছে। তবে ইরানের বিরুদ্ধে যেকোনও সম্ভাব্য হামলার জন্য এটি এখনও প্রস্তুত নয়।

বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনে এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান এবং এফ/এ-১৮ জেট ফাইটার ছাড়াও ইএ-১৮এ গ্রোলার ইলেকট্রনিক-ওয়ারফেয়ার বিমান রয়েছে। এর সাথে গাইডেড-মিসাইল ডেস্ট্রয়ারও রয়েছে।

এছাড়া ওপেন-সোর্স ফ্লাইট ট্র্যাকাররা জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র জর্ডানের মুওয়াফাক সালতি বিমান ঘাঁটিতে এফ-১৫ যুদ্ধবিমানের একটি স্কোয়াড্রন তৈরি করেছে। এতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কাছে বিকল্প পথ খোলা থাকবে, কারণ উপসাগরীয় দেশগুলো ইতোমধ্যেই ইরানের ওপর হামলা চালানোর জন্য তাদের আকাশসীমা বা সুযোগ-সুবিধা ব্যবহারের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে।

এদিকে ইরানে সম্ভাব্য মার্কিন হামলা ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে চরম উত্তেজনার মধ্যেই একজন উপসাগরীয় কর্মকর্তা জানিয়েছেন, চলতি সপ্তাহেই ইরান সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ও সামরিক কমান্ডারদের লক্ষ্য করে দেশটিতে ব্যাপক হামালার পরিকল্পনা করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এর জন্য প্রয়োজনীয় সামারিক সরঞ্জাম ও গোলাবারুদের সরবরাহ বাড়িয়েছে মার্কিন বাহিনী। এতে ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার শঙ্কা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্য-ভিত্তিক সংবাদমাধ্যম মিডেল ইস্ট আই এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ওই কর্মকর্তা বলেছেন, এ সপ্তাহে শেষের দিকেই হামলা হওয়ার সম্ভাবনা আছে। তবে সেই সময় পরিবর্তনও হতে পারে।

তিনি আরও জানান, ‘ইরানে হামলা চালালে দেশটির পাল্টা প্রতিক্রিয়া কেমন হবে- তা নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের মধ্যে আলোচনা চলছে, তবে এ নিয়ে প্রশাসনের অভ্যন্তরে বিভক্তি দেখা দিয়েছে।’

অন্যদিকে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী। এছাড়াও যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালালে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত দেশগুলোতে থাকা মার্কিন সেনা ঘাঁটিতে হামলা চালানোর হুমকি দিয়েছে তেহরান। এরপরই সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত ঘোষণা দিয়েছে তারা ইরানের বিরুদ্ধে কোনও সামরিক অভিযানে তাদের আকাশসীমা, ভূখণ্ড এবং জলসীমা ব্যবহারের অনুমতি দেবে না বলে ঘোষণা দেয়।
সূত্র: ইরান ইন্টারন্যাশনাল 

্্ট

আরও সংবদ