খুলনা | বৃহস্পতিবার | ২৯ জানুয়ারী ২০২৬ | ১৬ মাঘ ১৪৩২
রাজনৈতিক অস্থিরতা, জ্বালানি নিরাপত্তার অভাব, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি, ব্যাংক ঋণের উচ্চ সুদহার, ডলার সংকটসহ নানা কারণে দেশে বিনিয়োগের অনুকূল পরিবেশ নেই। এ কারণে নতুন করে বিনিয়োগ হচ্ছে না বললেই চলে। আর নতুন করে শিল্প-কারখানা না হওয়ায় কর্মসংস্থানও বাড়ছে না, অথচ প্রতিনিয়ত কর্মক্ষম জনসংখ্যা বাড়ছে। বেকারত্ব ক্রমেই আকাশচুম্বী হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ থেকে পুঁজি বাইরে চলে যাচ্ছে। পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিদেশে বাংলাদেশিদের বিনিয়োগ বেড়েছে ১২ শতাংশের বেশি।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, এই পুঁজির বড় একটি অংশ যাচ্ছে প্রতিবেশী দেশ ভারতে। অর্থনীতিবিদ ও খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, দেশে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং দীর্ঘমেয়াদি ডলার সংকটের কারণে আস্থার অভাবে উদ্যোক্তারা বিদেশে নিরাপদ আশ্রয় খুঁজছেন।
আবার কেউ কেউ দেশ থেকে পাচার করা অর্থ এখন বিদেশের মাটিতে বিনিয়োগ হিসেবে দেখিয়ে বৈধতা পাওয়ার চেষ্টা করছেন। আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স ইন বাংলাদেশের (অ্যামচেম) সভাপতি সৈয়দ এরশাদ আহমেদ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘ব্যবসায়ীরা ব্যবসা করবে। তারা ব্যবসা ছাড়া অন্য কিছু করতে পারবে না। দেশে যদি অনুকূল পরিবেশ ও সুযোগ না পায়, তাহলে তারা লাভের জায়গা খুঁজে বিদেশেই বিনিয়োগ করবে।’
অর্থনীতিবিদরা বলছেন, দেশের ভেতর বেসরকারি খাতের ঋণ প্রবৃদ্ধি যেখানে ৬ শতাংশের নিচে, সেখানে বিদেশে বিনিয়োগ বেড়ে যাওয়া অর্থনীতির জন্য একটি ‘অশনিসংকেত’। এর মানে হলো দেশে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে দেশীয় উদ্যোক্তাদের আস্থায় ঘাটতি রয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর শেষে বিদেশে বাংলাদেশিদের মোট বিনিয়োগের স্থিতি দাঁড়িয়েছে ৩৬ কোটি ২১ লাখ মার্কিন ডলারে। ২০২৪ সালের ডিসেম্বর শেষে এর পরিমাণ ছিল ৩২ কোটি ২২ লাখ ডলার। অর্থাৎ মাত্র ৯ মাসের ব্যবধানে বিদেশে বিনিয়োগ বেড়েছে তিন কোটি ৯৯ লাখ ডলার।
বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সাবেক পরিচালক এবং ডেনিম এক্সপার্ট লিমিটেডের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোঃ মহিউদ্দিন রুবেল বলেন, ‘যাদের এই খাতে বড় বড় লগ্নি আছে তারা এখন চিন্তা করছে দেশে পুরোপুরি বিপদে পড়ার চেয়ে যেখানে কম খরচ, নিশ্চয়তা বেশি, সেখানে রাখবে; যাতে দেশে কোনো সমস্যা হলে অন্যভাবে ক্রেতার চাহিদা পূরণ করতে পারে। দেশে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে যেসব সমস্যা আছে তা অগ্রাধিকার দিয়ে সমাধান করা উচিত।’ বিশ্লেষকদের মতে, পুঁজি যখন দেশ ছাড়ে, তখন শুধু অর্থ যায় না, সঙ্গে যায় মেধা এবং সম্ভাবনাও। ভারতের মতো প্রতিযোগী দেশগুলোতে বিনিয়োগ বাড়লে দীর্ঘ মেয়াদে বাংলাদেশের রপ্তানি বাজার ও দেশীয় শিল্প অস্তিত্ব সংকটে পড়বে। এখনই যদি এই পুঁজি পাচার ঠেকানো না যায়, তবে দেশের অর্থনীতির চাকা অচল হয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
শ্রমশক্তি জরিপ অনুযায়ী, দেশে বেকারত্বের হার, বিশেষ করে যুব বেকারত্বের হার দ্রুত বাড়ছে। এ অবস্থায় বিনিয়োগের স্থবিরতা কাটাতেই হবে। আমরা আশা করছি, নির্বাচিত সরকার এলে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা অনেকটাই কেটে যাবে। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নয়নের পাশাপাশি গ্যাস-বিদ্যুতের পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। সুদহার কমানোসহ ঋণপ্রাপ্তি সহজ করতে হবে। এককথায় দেশে বিনিয়োগের জন্য উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করতে হবে।
সম্পাদকীয়
প্রায় ৭ দিন আগে