খুলনা | শুক্রবার | ১০ এপ্রিল ২০২৬ | ২৭ চৈত্র ১৪৩২

সুন্দরবনকে যেকোনো মূল্যে বিষমুক্ত করা হবে : বন প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম

নিজস্ব প্রতিবেদক, সাতক্ষীরা |
০৫:১২ পি.এম | ০১ এপ্রিল ২০২৬


পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেছেন, সুন্দরবনে বিষ দিয়ে মাছ শিকার করা একরকম আত্মহত্যার শামিল। এতে আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মৎস্য সম্পদ ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে এবং জলজ ও বনজ সম্পদ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যেকোনো মূল্যে সুন্দরবনকে বিষমুক্ত করা হবে।

বুধবার (১ এপ্রিল) সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার সুন্দরবন সংলগ্ন বুড়িগোয়ালিনী ফরেস্ট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে মধু আহরণ মৌসুমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, সুন্দরবনে বিষ প্রয়োগ করে মাছ ধরা বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। প্রতিটি মৎস্য আড়তে নিয়মিত অভিযান চালিয়ে মাছে বিষের উপস্থিতি পরীক্ষা করা হবে। কোনো আড়তে বিষাক্ত মাছ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট আড়ৎদারকে গ্রেফতার করা হবে এবং যারা এসব মাছ সরবরাহ করে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি জানান, তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত এ অভিযান বিস্তৃত করা হবে।

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, সুন্দরবন ব্যবস্থাপনায় নতুন নীতিমালা করা হচ্ছে। আগামী বছর থেকে নির্দিষ্ট সংখ্যার (৫০০টির বেশি নয়) অতিরিক্ত নৌকা সুন্দরবনে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। যারা অনিয়ম করবে, তাদের তালিকা তৈরি করে ভবিষ্যতে বনে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হবে। পাশাপাশি প্রবেশ নিয়ন্ত্রণে ফিঙ্গারপ্রিন্টসহ বনজীবীদের একটি সমন্বিত ডাটাবেজ তৈরি করা হচ্ছে, যাতে কেউ ভিন্ন পরিচয়ে বারবার প্রবেশ করে অপরাধ করতে না পারে।

মধু আহরণকারীদের উদ্দেশে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ভেজালমুক্ত মধু সংগ্রহ করতে পারলে তা দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এবং আন্তর্জাতিক বাজারেও এর চাহিদা বাড়বে। তিনি সতর্ক করে বলেন, মধুতে ভেজাল মিশিয়ে স্বল্পমেয়াদি লাভের চিন্তা না করে দীর্ঘমেয়াদি সম্পদের কথা ভাবতে হবে।

সামাজিক মূল্যবোধের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, অসৎ পথে উপার্জিত অর্থে কখনোই ভালো ভবিষ্যৎ গড়ে ওঠে না। সুন্দরবনে অপরাধমূলক কর্মকান্ড থেকে বিরত থেকে সৎভাবে জীবিকা নির্বাহ করতে হবে।  

প্রতিমন্ত্রী বলেন, জলদস্যু-বনদস্যু আমাদের আশেপাশেই বিরাজ করছে। আমরা যদি সামাজিকভাবে সচেতন হই এবং রুখে দাঁড়াই, তারা টিকতে পারবে না। এখানে ৫০০ মানুষ আছেন বনদস্যুর বিরুদ্ধে। আপনারা যদি সাহসী ভূমিকা নেন, সঠিক পদক্ষেপ নেন, তাদেরকে সনাক্ত করেন এবং প্রশাসনকে সত্যিকার অর্থে সহযোগিতা করেন, তাহলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব। আপনারা যখন দেখছেন আপনার ভাই বা চাচা বনদস্যু, তখন তার বিরুদ্ধে কথা বলছেন না, শুধু প্রশাসনের ওপর দোষ চাপাচ্ছেন।

সুন্দরবন পশ্চিম বন বিভাগ, সাতক্ষীরা রেঞ্জের আয়োজনে অনুষ্ঠানে খুলনা অঞ্চলের বন সংরক্ষক ইমরান আহমেদের সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য রাখেন, সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম, জেলা প্রশাসক মিজ্ আফরোজা আখতার, পুলিশ সুপার মো.আরেফিন জুয়েল, জেলা বিএনপির আহবায়ক রাহমাতুল্লাহ পলাশ, যুগ্ম আহবায়ক ড. মনিরুজ্জামান, সদস্য সচিব আবু জাহিদ ডাবলু প্রমুখ। 

প্রিন্ট

আরও সংবাদ