খুলনা | শুক্রবার | ০৩ এপ্রিল ২০২৬ | ১৯ চৈত্র ১৪৩২

ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠিত হোক

|
১২:১৪ এ.এম | ০২ এপ্রিল ২০২৬


নিকট অতীতে অনেক ব্যাংকে লুটপাট হয়েছে। ঋণের নামে হাজার হাজার কোটি টাকা লোপাট করা হয়েছে। লাখ লাখ গ্রাহক নিঃস্ব হয়েছেন। অনেকে পরিবারের চরম বিপদেও ব্যাংক থেকে কোনো অর্থ পাচ্ছেন না।এর জন্য দায় কি শুধু নির্দিষ্ট ব্যাংকটির। নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংকের কি কোনো দায় নেই? অভিযোগ আছে, বাংলাদেশ ব্যাংকের অনেক কর্মকর্তার যোগসাজশে দিনের পর দিন চলেছে এসব অনিয়ম। এখন ব্যাংক মার্জার করে দিলেই কি সব সমস্যার সমাধান হবে? উদ্যোক্তা পরিচালকদের কী হবে? আমানতকারীদের কী হবে? এমনকি এসব ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে সৎ ব্যবসায়ীরাও বিপদে আছেন। মার্জারের আওতায় যাওয়া এসব ব্যাংকের ঋণগ্রহীতারা ছাড়পত্রের অভাবে অন্য ব্যাংক থেকে ঋণ নিতে পারছেন না। ফলে অনেকে ব্যবসা গুটিয়ে ফেলতে বাধ্য হচ্ছেন।
প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, সাত-আট বছর ধরে একটি লাভজনক ব্যাংককে হাতে ধরে ধ্বংস করা হয়েছে। কিন্তু সব জানার পরও কিছু বলেনি ব্যাংকটির কর্মকর্তা এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থা। সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক ধ্বংসের জন্য একটি বিশেষ ব্যবসায়ী গ্র“প (এস আলম) যেমন দায়ী, তেমনি বাংলাদেশ ব্যাংকও অনেকাংশে দায়ী।
কেননা তারা অনিয়ম বন্ধ না করে গ্র“পটির দুর্নীতি চোখ মেলে দেখেছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত ওই অপরাধের জন্য কোনো কর্মকর্তা বা বাংলাদেশ ব্যাংকের কারো বিচার হয়নি। আর এখন অনভিজ্ঞ প্রশাসকের স্বেচ্ছাচারিতায় ব্যাংকটি আরো দুর্বল হচ্ছে। প্রকৃত ব্যবসায়ীদের সহযোগিতা করছে না বর্তমান প্রশাসন। মার্জ  না করে তা প্রকৃত মালিকদের ফিরিয়ে দেওয়ারও দাবি করেছেন উদ্যোক্তা-পরিচালকরা।
সোমবার জাতীয় প্রেসক্লাবে ব্যাংকটির উদ্যোক্তা-পরিচালকদের ব্যানারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকের উদ্যোক্তা পরিচালক ও সাবেক চেয়ারম্যান মেজর (অবঃ) ডাঃ রেজাউল হক এবং তাঁর আইনজীবী মোঃ মাহমুদুল হাসান। লিখিত বক্তব্যে সাবেক চেয়ারম্যান মেজর (অবঃ) ডাঃ রেজাউল হক বলেন, ‘গত দেড় বছরে সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক পরিচালনার জন্য যাঁদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, তাঁরা আসলে ব্যাংকটিকে হত্যা করেছেন। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের একক সিদ্ধান্তে শেয়ার শূন্যের মাধ্যমে শেয়ারহোল্ডারদের পথে বসানো হয়েছে। এস আলমের দুর্নীতির দায় সাধারণ বিনিয়োগকারীদের ঘাড়ে চাপানো হয়েছে। তাই এই ব্যাংকটি যেন মার্জার প্রক্রিয়া থেকে বের করে দেওয়া হয় তার জন্য আমরা সরকারের কাছে সুপারিশ করেছি।’
আমরা ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে স্বচ্ছতা দেখতে চাই। রাজনৈতিক ও আমলতান্ত্রিক প্রভাবমুক্ত হয়ে ব্যাংকগুলো প্রকৃত অর্থেই দেশে বিনিয়োগের সহায়ক হোক এমনটাই আমাদের প্রত্যাশা।
 

প্রিন্ট

আরও সংবাদ