খুলনা | শুক্রবার | ০৩ এপ্রিল ২০২৬ | ১৯ চৈত্র ১৪৩২

আধুনিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত নগরবাসী

ফাইল বন্দি খুলনার জিয়া হল কমপ্লেক্স নির্মাণ প্রকল্প

এন আই রকি |
০১:০২ এ.এম | ০২ এপ্রিল ২০২৬


নগরীর শিববাড়ির মোড়ের ‘জিয়া হল’ নামটি শুনে নেই এমন লোক খুবই কম পাওয়া যায়। সারাদেশে খুলনার পরিচিতিই যতগুলো কারণে হয়েছে তার মধ্যে জিয়া হল অন্যতম। ১৯৯২ সালে হলটির উদ্বোধন করেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। ২০০৪ সালে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান একটি অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেছিলে প্রধান অতিথি হিসেবে। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে এই হল নিয়ে হয়েছে অনেক রাজনীতি, এমনকি একপর্যায়ে ২০২১ সালের শেষ দিকে হলটি ভেঙে ফেলা হয়। গেল বছরের শেষ দিকে খুলনা সিটি কর্পোরেশন ‘খুলনা জিয়া হল কমপ্লেক্স নির্মাণ’ প্রকল্পটি প্রায় ৪১৮ কোটি টাকা ব্যয় নির্মাণ করার জন্য একটি প্রস্তাবনা স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় পাঠানো হয়। তবে সেটি এখনো ফাইল বন্দি অবস্থায় রয়েছে। যার ফলে খুলনাবাসী আধুনিক ও প্রয়োজনীয় নানান সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে প্রতিনিয়ত। অতি দ্রুত এ প্রকল্প বাস্তবায়নের দাবি নাগরিক নেুাদের।
কেসিসির সূত্র জানায়, নগরীর শিববাড়ির মোড়ে দিয়ে ‘জিয়া হল’ নির্মাণের কাজ শুরু হয় ১৯৭৮ সালের ১২ জানুয়ারি। খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ ও তৎকালীন পৌরসভার জমির ওপর নির্মাণ কাজ শুরু হয়। জমির পরিমাণ ছিল প্রায় দুই বিঘা। ১৯৮১ সালে জিয়াউর রহমান মৃত্যুর পর নির্মাণ কাজ বন্ধ হয়ে যায়। পরবর্তীতে বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর ১৯৯২ সালে ২৭ সেপ্টেম্বর তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া হলের উদ্বোধন করেন এবং হলটির নামকরণ করা হয় ‘জিয়া হল’। এরপর ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসলে জিয়া হলের নামকরণ নিয়ে নানা মত বিরোধের সৃষ্টি হয়। তৎকালীন সময় দাওয়াত কার্ড বা পোস্টারে জিয়া হলের পরিবর্তে পাবলিক হওয়ার লেখা হতো। 
২০০৪ সালে তৃণমূল প্রতিনিধি সমাবেশে খুলনার জিয়া হলে বক্তৃতা করেছিলেন  বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ২০০৮ সালে নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি তালুকদার আব্দুল খালেক খুলনা সিটি কর্পোরেশনের মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পর জিয়া হলের নামটি পরিবর্তন করে সিটি সেন্টার প্রকল্প বাস্তবায়নের চেষ্টা করেন। কিন্তু প্রকল্পটি বাস্তবায়ন না হওয়ায় ২০১২ সালে পুরো জিয়া হল ব্যবহার বন্ধ হয়ে যায়। ২০২৫ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর ৪১৮ কোটি টাকা ব্যয়ে খুলনা জিয়া হল কমপ্লেক্স নির্মাণ প্রকল্প ডিপিপি পাঠানো হয় স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়। 
প্রকল্পে জিয়া হল কমপ্লেক্সটি নয় তলা বিশিষ্ট বহু দল ভবন নকশা রয়েছে। আধুনিক পার্কিং অভ্যন্তরের রাস্তার ও ব্যবস্থা থাকবে। প্রস্তাবিত প্রকল্পে চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে ২০৩১ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত মেয়াদকাল ধরা হয়েছে। কমপ্লেক্সে বাণিজ্যিক স্পেস থাকবে, সভা, সেমিনার, কনফারেন্স হল, স্পা, রেস্টুরেন্ট, সিনে কমপ্লেক্স, রেস্ট হাউস সহ আধুনিক অনেক কিছুই থাকবে। 
খুলনার একাধিক নাগরিক নেুারা জানান এই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে,  মানুষ তার চাহিদা মত স্বল্পমূল্যে সবার সেমিনার করার জন্য স্পেস পাবে। বাণিজ্যিক স্পেস থাকার কারণে শহরের কেন্দ্রবিন্দু জাঁকজমকপূর্ণ থাকবে। নিরাপত্তার কারণে সাধারণ মানুষ এই কমপ্লেক্সে ভিড়বে। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে জিয়া হল নিয়ে নানা রাজনীতি হয়েছে। আমরা এসব রাজনীতি আর চাই না। যেকোনো মূল্যে জিয়া হল কমপ্লেক্স নির্মাণ করতে পারলে খুলনার চেহারার পরিবর্তন হয়ে যাবে। বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর বিষয়টি গুরুত্ব দিবেন বলে আমরা আশাবাদী। 
কেসিসির প্রধান পরিকল্পনা কর্মকর্তা আবির উল জব্বার জানান, জিয়া হল খুলনার ঐতিহ্য ছিল। নগরীর প্রাণকেন্দ্র  শিববাড়ির মোড়ে জিয়া হল কমপ্লেক্স নির্মাণ করতে পারলে নগরীর চেহারার পরিবর্তন হয়ে যাবে। নগরবাসীর স্বল্পমূল্যে আধুনিক অনেক সেবা পেত এই কমপ্লেক্স থেকে। গত বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর প্রকল্পটির ডিপিপি স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় দেওয়া হয়। এটি এখনও এখানে ফাইল বন্দি অবস্থায় আছে। 
কেসিসির প্রধান প্রকৌশলী মশিউজ্জামান খান বলেন, জিয়া হল বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর নগরবাসী অনেক সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়েছে। বিশেষ করে সভা, সেমিনার বা কনফারেন্স রুমের জন্য নগরীতে ভালো কোন স্পেস নেই। জিয়া হলের মাধ্যমে নগরবাসী স্বল্প মূল্যে নানান ধরনের নাগরিক সুবিধা পাবে। আমাদের প্রস্তাবনায় প্রায় ৪১৮ কোটি টাকা প্রাকৃত ব্যয় ধরা হয়েছে। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের আগামী সভায় জিয়া হলের নির্মাণ প্রকল্প বিষয়টি আলোচনা হতে পারে। সরকারের সদিচ্ছা থাকলে প্রকল্পটির দ্রুত অনুমোদন হয়ে যাবে আশা করি।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ