খুলনা | বৃহস্পতিবার | ০২ এপ্রিল ২০২৬ | ১৯ চৈত্র ১৪৩২

ভিডিও করায় দুই সাংবাদিককে হাতকড়া পরিয়ে থানায় পাঠালেন এসিল্যান্ড

খবর প্রতিবেদন |
০১:৪১ এ.এম | ০২ এপ্রিল ২০২৬


কুমিল্লার চান্দিনায় উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) অফিসে ভিডিও করায় মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে দুই সাংবাদিককে হাতকড়া পরিয়ে থানায় পাঠানোর অভিযোগ উঠেছে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ফয়সাল আল নূরের বিরুদ্ধে। বুধবার দুপুরে চান্দিনা উপজেলা ভূমি অফিসে এ ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী দুই সাংবাদিক হলেন দৈনিক মানবজমিন পত্রিকার দেবিদ্বার উপজেলা প্রতিনিধি রাসেল সরকার এবং ফেস দ্য পিপল ও দৈনিক আমার শহর পত্রিকার দেবিদ্বার প্রতিনিধি আব্দুল আলীম।
ভুক্তভোগী সাংবাদিক আব্দুল আলিম বলেন, আমার আপন খালাতো বোনের নামজারি নিয়ে গত ১ বছর ধরে ঘুরাচ্ছেন এসিল্যান্ড ফয়সাল আল নূর। বুধবার ওই নামজারির শুনানির দিন ছিল।
আব্দুল আলিম বলেন, বুধবার ১১টার দিকে আমরা ভূমি অফিসে যাই। দুপুর দুইটা বাজার ২০ মিনিট আগে আমরা এসিল্যান্ডকে জিজ্ঞেস করি শুনানিটা আজ হবে কি না। এসময় এসিল্যান্ড উত্তেজিত হয়ে আমাদের সঙ্গে খারাপ আচরণ শুরু করেন। আমি পকেট থেকে মোবাইল ফোন বের করে তার খারাপ আচরণের ভিডিও ধারনের সময় তিনি টের পান। এ সময় আমার কাছ থেকে জোর করে মোবাইল ফোন কেড়ে নিতে চাইলে আমি বাধা দিই।
তিনি বলেন, এতে ক্ষিপ্ত হয়ে এসিল্যান্ড পুলিশকে ফোন করে আমাকে এবং সাংবাদিক রাসেল সরকারকে হাতকড়া পরিয়ে থানায় নিয়ে যেতে বলেন। পুলিশ আমাদের হাতকড়া পরিয়ে থানায় নিয়ে যায়।
আব্দুল আলিম বলেন, থানায় নেওয়ার পর তার কাছ থেকে জোর করে মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে মোবাইলের লক খুলে গ্যালারির সব ছবি এবং ভিডিও ডিলিট করা হয় এবং জোর করে মুচলেকা নেয়।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত সহকারী কমিশনার (ভূমি) ফয়সাল আল নূর বলেন, আমার দপ্তরে মোবাইল ফোন নিয়ে ভিডিও করার কারণে ও সরকারি কাজে বাধা দেওয়ায় তাদের থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।
চান্দিনা থানা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আতিকুর রহমান বলেন, আমরা এ ঘটনায় কোনোভাবে জড়িত নই। একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট যে আদেশ দিয়েছেন আমরা সেটাই পালন করেছি।
দুই সাংবাদিকের হাতে হাতকড়া পরিহিত একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়।
কুমিল্লা প্রেসক্লাবের সভাপতি কাজী এনামুল হক ফারুক এ ঘটনার নিন্দা জানিয়ে বলেন, সাংবাদিকেরা সমাজের বিবেক। সাংবাদিকদের স্বাধীনভাবে কাজ করতে দিতে হবে। কাজ করতে গিয়ে সাংবাদিকরা ভুল করলে প্রেস ইনস্টিটিউটের মাধ্যমে আইনগত ব্যবস্থা নিতে পারে। কিন্তু দু’জন সাংবাদিকের হাতে হাতকড়া পরিয়ে আমাদের হৃদয়ে আঘাত করা হয়েছে। আমরা এর উপযুক্ত বিচার চাই।
কুমিল্লার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোঃ সাইপুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি আমাদের নজরেও এসেছে, আমরা খুবই বিব্রত। আমরা এখনও পুরো ডিটেইলস জানতে পারিনি। বিস্তারিত জেনে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ