খুলনা | রবিবার | ২৪ অক্টোবর ২০২১ | ৮ কার্তিক ১৪২৮

ফেঁসে যেতে পারেন সাবেক প্রধান সহকারীসহ জেলা স্বাস্থ্যের শীর্ষ কর্তারা

নির্ধারিত সময়ে শেষ হচ্ছে না জেনারেল হাসপাতালের করোনার পরীক্ষার অর্থ আত্মসাতের তদন্ত

বশির হোসেন |
১২:৫৫ এ.এম | ১৩ অক্টোবর ২০২১


নির্ধারিত সময়ে শেষ হচ্ছে না খুলনা জেনারেল হাসপাতালে করোনা পরীক্ষার অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে গঠিত তদন্ত কাজ। বাড়ানো হতে পারে কয়েক দফা সময়। এতে ল্যাব টেকনোলোজিস্ট প্রকাশ সরাসরি জড়িত থাকলেও বৃহৎ পরিসরে সার্বিক বিষয় মাথায় নিয়ে তদন্ত হওয়ায় আর সময় প্রয়োজন বলে মনে করেন তদন্ত কমিটির প্রধান খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের দপ্তরের উপ-পরিচালক ডাঃ মোঃ মনজুরুল মুরশিদ। সংশ্লি¬ষ্টদের দ্বিতীয় দিনের জিজ্ঞাসাবাদ শেষে এমনটাই মনে করেন তিনি। 
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে করোনা টেস্টের ফি ২ কোটি ৫৭ লাখ ৫৭ হাজার টাকা সরকারি কোষাগারে জমা না দিয়ে আত্মসাতের ঘটনায় খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে তদন্ত কমিটি তাদের কার্যক্রম দ্বিতীয় দিন পার করেছে। গতকাল মঙ্গলবার সকালে তদন্ত কমিটি দ্বিতীয় দিনের মত হাসপাতালে উপস্থিত হয়ে তাদের তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করেন করেছেন। এ সময় তদন্ত কমিটির প্রধান উপ-পরিচালক (স্বাস্থ্য) ডাঃ মোঃ মনজুরুল মুরশিদ ছাড়াও সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) ডাঃ সৈয়দ রেজাউল ইসলাম, সহকারী পরিচালক (মেডিকেল সাব ডিপো) ডাঃ মোঃ রফিকুল ইসলাম গাজী, প্রশাসনিক কর্মকর্তা এস এম জাহাতাব হোসেন উপস্থিত ছিলেন।
উপ-পরিচালক (স্বাস্থ্য) ডাঃ মোঃ মনজুরুল মুরশিদ এ প্রতিবেদককে বলেন, মূলতঃ তিন সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্তের স্বার্থে স্বাস্থ্য দপ্তরের প্রশাসনিক কর্মকর্তাকে কন্ডাক্টিং অফিসার হিসেবে নেওয়া হয়েছে। 
তিনি আরও বলেন, দ্বিতীয় দিনে আমরা কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছি এবং গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র হাসপাতালের কর্তৃপক্ষের কাছে চাওয়া হয়েছে। সবে মাত্র তদন্ত শুরু করলাম, পর্যায়ক্রমে অনেককেই জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। কারণ এই তদন্ত সম্পন্ন করতে সময়ের ব্যাপার। নির্ধারিত সময়তো তদন্ত শেষ হবেই না বরং কয়েক দফা সময় বাড়াতে হতে পারে সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে।
এ ব্যাপারে খুলনা সিভিল সার্জন ডাঃ নিয়াজ মোহাম্মদ বলেন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের গঠিত তদন্ত কমিটি হাসপাতালে বিভিন্ন স্থানে পরিদর্শন করেছেন। দ্বিতীয় দিনে কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদও করেছেন। এছাড়া হাসপাতালে কিছু প্রয়োজনীয় গুরুত্বপূর্ণ নথি পত্র তদন্ত কমিটি চেয়েছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, দুই দিনে তদন্ত কমিটির দল হাসপাতালের আর এম ডাঃ এস এম মুরাদ হোসেন, ল্যাব টেকনোলজিস্ট রওশন, ক্যাশিয়ার তপতী সরকার, ল্যাব এ্যাটেন্ডডেন্ট পারভিন আক্তারকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। পর্যায়ক্রমে তদন্ত কমিটি তদন্তের স্বার্থে করোনা টেস্টে কাজে হাসপাতালের যেসব কর্মকর্তা-কর্মচারি সম্পৃক্ততা ছিলো তাদের তলব করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করবেন। এর মধ্যে সাবেক হাসপাতালের প্রধান সহকারী-কাম হিসাব রক্ষক মোঃ শাহিন মোল­ার নাম উঠে আসে। বর্তমানে সে অভয়নগর স্বাস্থ্য কমপ্লে¬ক্সে নিয়োজিত আছেন। স¤প্রতি সে নিজ স্ব-ইচ্ছায় জেনারেল হাসপাতাল থেকে বদলী হয়েছেন।
সূত্রমতে, ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ল্যাব টেকনোলজিস্ট প্রকাশ কুমার দাসের বিরুদ্ধে করোনা টেস্টের ২ কোটি ৫৭ লাখ ৫৭ হাজার টাকা আত্মসাতের ঘটনায় তদন্ত কমিটি তদন্ত করতে এসে আরও গুরুত্বপূর্ণ অনিয়ম চিত্র পেয়েছেন। হাসপাতালের সার্বিক বিষয়ে নিয়ে ওই তদন্ত কমিটি তাদের তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। যার ফলে হাসপাতালে অনিয়ম-দুর্নীতির বিষয়টিগুলো সামনে এসে পড়বে। করোনা শুরু থেকেই করোনা টেস্টের যাবতীয় তদারিকের দায়িত্বে ছিলেন জেনারেল হাসপাতালের আরএমও ডাঃ এস এম মুরাদ হোসেন। 

প্রিন্ট

আরও সংবাদ