খুলনা | শুক্রবার | ০৩ এপ্রিল ২০২৬ | ১৯ চৈত্র ১৪৩২

হাম মোকাবিলায় সরকার পুরোপুরি প্রস্তুত : স্বাস্থ্যমন্ত্রী

একদিনে দেশে হামে ৪ জনের মৃত্যু আক্রান্ত ৬৮৫ : স্বাস্থ্য অধিদপ্তর

খবর প্রতিবেদন |
১১:২৭ পি.এম | ০২ এপ্রিল ২০২৬


দেশজুড়ে বায়ুবাহিত রোগ হামের উপসর্গ নিয়ে একদিনে ৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। সেই সঙ্গে এই সময়ে আরও ৬৮৫ জনের মধ্যে রোগটির উপসর্গ পাওয়া গেছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ থেকে এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা ৬৮৫ জন। সবমিলিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৭০৯ জনে। অন্যদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় হাম নিশ্চিত রোগীর সংখ্যা ২৬ জন। তাদের নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত হাম নিশ্চিত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫৮৫ জনে।
এদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় সন্দেহজনক ৪ জন হাম রোগীর মৃত্যু হয়েছে। তাদের নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত মোট ২৭ জন সন্দেহজনক হাম রোগীর মৃত্যু হয়েছে।
অন্যদিকে সবমিলিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত মোট সন্দেহজনক নতুন হাম রোগী ভর্তি হয়েছে ২ হাজার ২৬৩ জন। আর এই সময়ে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ১ হাজার ৯৩০ জন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী : সারা দেশে ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে হামে আক্রান্ত শিশু। অনেক শিশু হামে আক্রান্ত হয়ে মারাও যাচ্ছে, ইতোমধ্যে সারাদেশে আতঙ্ক ছড়িয়েছে হাম। এ অবস্থায় হাম মোকাবিলায় সরকার পুরোপুরি প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মোঃ সাখাওয়াত হোসেন বকুল।
বৃহস্পতিবার রাজধানীর শিশু হাসপাতালে হামজনিত নিউমোনিয়া শ্বাসকষ্টের চিকিৎসায় বাবল সিপ্যাপের ব্যবহার বিষয়ে প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
সরদার মোঃ সাখাওয়াত হোসেন বকুল বলেন, বজ্রপাতের মত এসেছে হাম, কোনো প্রস্তুতি ছিল না। তবে অল্প সময়ে হাম মোকাবিলায় পুরোপুরি প্রস্তুত আমরা। সেই সঙ্গে স্বাস্থ্য বিভাগ যথাযথভাবে কাজ করে যাচ্ছে। আমরা নির্ভুলভাবে কাজ করার জন্য প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।
তিনি আরো বলেন, একটি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অবহেলার কারণে আমাদের অনেক শিশু মারা গেছে। আমি খুব ব্যথিত হয়েছি। আমরা আর চাই না, এমন ঘটনা ঘটুক।
চিকিৎসকদের উদ্দেশ্যে সরদার মোঃ সাখাওয়াত হোসেন বকুল বলেন, আল্লাহ বিপদ দেন এবং সহযোগিতাও করেন। আপনাদের এই পেশাটাতে যদি অবহেলা থাকে? আপনারা অন্ধকার ঘরে একবার চিন্তা করেন, আপনারা কারা? তাহলে আর অবহেলা করবেন না। আর আমাদের ডাক্তাররা অবহেলা করেনও না। ডাক্তার যা বলেন রোগী তা-ই করেন।
তিনি আরো বলেন, আপনাদের প্রতি অনুরোধ করোনাকালীন সময়ে আপনারা সেবা দিয়েছেন এবং রোগীদের পাশে ছিলেন। আপনাদের অবদান সবাই স্মরণ করবে এবং এই অবদান ভুলবার নয়।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, আমাদের স্বাস্থ্যকর্মীদের অনেক সংকট তা আমরা অবগত হয়েছি। আমি আপনাদের কথা দিচ্ছি, অতি দ্রুত সময়ে আপনাদের সব সমস্যার সমাধান করার চেষ্টা করব। কিন্তু তার আগে দেশের এই সংকটময় মুহ‚র্তে আপনাদের সহযোগিতা চাইছি।
তিনি আরো বলেন, ঢাকা, রাজশাহীসহ হামের প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে প্র্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হ্রয়েছে। এরইমধ্যে কয়েকটি হাসপাতালে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হ্রয়েছে হামের চিকিৎসায়। রাজশাহী এবং মানিকগঞ্জ ভেন্টিলেটর ব্যবস্থা বাড়ানো হয়েছে। বিভিন্ন হাসপাতালে ভেন্টিলেটরের ব্যবস্থা করার পাশাপাশি চিকিৎসক, নার্স প্রস্তুত রয়েছে।
তিনি বলেন, ২০১৮ সালের পর থেকে হামের টিকা দেওয়ার বিষয়ে দেশে কোনো ক্যাম্পেইন হয়নি। টিকা সংগ্রহের জন্য এরই মধ্যে ৬০৪ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। ইউনিসেফের মাধ্যমে শিগগিরই টিকা সংগ্রহ করা হবে।
 

প্রিন্ট

আরও সংবাদ