খুলনা | মঙ্গলবার | ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩

প্রধান শিক্ষক লাঞ্ছিত, ফিরে গেল উকিল কমিশন

রূপসায় স্কুলের জায়গা দখল নিয়ে দু’পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা চরমে

রূপসা প্রতিনিধি |
০২:২২ এ.এম | ০৩ এপ্রিল ২০২৬


রূপসার নৈহাটি ইউনিয়নের বাগমারা গ্রামের শামসুর রহমান মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের জায়গা দখল নিয়ে মালিক ও স্কুল কর্তৃপক্ষ এখন মুখোমুখি অবস্থানে। মালিক দাবিদার একটি পক্ষ গতকাল বৃহস্পতিবার আদালতের সহায়তায় জমি দখল করতে এলে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও জমির মালিকপক্ষের মধ্যে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। 
জানা গেছে ১৯৯৩ সালে স্থাপিত শামসুর রহমান মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের বেশ কিছু জায়গা নিয়ে আদালতে মামলা চলমান ছিল। উক্ত মামলার রায়ের বনিয়াদে গতকাল বেলা ১১ টার দিকে ক্রয়কৃত জমির মালিক শাহজাহান শেখ উকিল কমিশন, বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেটসহ পুলিশ প্রটোকল নিয়ে দখল বুঝে নিতে স্কুল প্রাঙ্গণে উপস্থিত হন। এ সময় স্কুলের শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও কর্মচারীবৃন্দ স্কুলের দখলকৃত জায়গা রক্ষায় মরিয়া হয়ে ওঠে। উকিল কমিশন তাদের কার্যক্রম চলমান রাখতে গেলে শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে চরম বাধা আসে। এ থেকে সৃষ্ট হয় চরম উত্তেজনা। শিক্ষার্থীদের বাধার মুখে উকিল কমিশন তাদের কার্যক্রম গুটিতে নিতে এক প্রকার বাধ্য হন। শিক্ষার্থীদের দাবি প্রধান শিক্ষক হায়দার আলী ও কয়েকজন শিক্ষার্থীকে  দখলকাররা শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেছে। এমন ঘটনায় তারা ক্ষোভে ফুঁসে উঠেন। এ সময় স্থানীয় বিএনপি’র নেতৃবৃন্দসহ অসংখ্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। 
উপজেলা বিএনপি’র আহবায়ক ও সাবেক নৈহাটি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোল্লা সাইফুর রহমান বলেন, স্কুলের জায়গা নিয়ে বিবাদের ঘটনা শুনে আমি এসেছি। এ ঘটনার আমরা একটি সুষ্ঠু সমাধান চাই। আমাদের সংসদ সদস্য আজিজুল বারী হেলাল ভাই এটা জেনেছেন। প্রধান শিক্ষক হায়দার আলী বলেন বিদ্যালয়টি এলাকার মানুষের সহযোগিতায় তিল তিল করে গড়ে তোলা হয়েছে আমাদের অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের সুশিক্ষার জন্য। আমরা বিদ্যালয়ের স্বার্থ রক্ষার্থে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা কামনা করছি। আমাদেরকে কোন নোটিশ না দিয়ে এভাবে স্কুলের খেলার মাঠসহ স্কুলের জায়গা দখল করতে এসেছে। যেটি স্কুলের জন্য খুবই ক্ষতিকর। যার দরুণ শিক্ষার পরিবেশ চরমভাবে ব্যাহত হবে। এই মাঠে স্কুলের শিক্ষার্থীরা খেলাধুলা ও শরীরচর্চা করে থাকে। তাই শিক্ষার্থীদের মাঝে একটি উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। পাশাপাশি আমাকে শারীরিকভাবে আঘাত করা হয়েছে। আমার শিক্ষার্থীদেরও আঘাত করা হয়েছে। আমি এ ঘটনার নিন্দা জানাই। 
তবে উকিল কমিশন বলেন, আমরা আদালতের রায় নিয়ে এসেছি। কিন্তু স্কুলের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সহযোগিতা পাইনি। বরং তাদের বাধার মুখে কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে। 
সরজমিনে জমির মালিক সুত্রে জানা যায় রূপসার মৃত শামসুর রহমান মিনা এক দাগে ১৭৫ শতাংশ জায়গা থেকে শামসুর রহমান মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নামে ১০০ শতাংশ ও একটি মসজিদের নামে ৫ শতাংশ জায়গা দান করেন। বাকি ৭০ শতাংশ তার ওয়ারেশগণ বাগমারা নিবাসী শাহজাহান শেখের নিকট বিক্রি করেন। শাহাজান শেখ তার ক্রয়কৃত ৭০ শতাংশ জায়গা দখল নিতে গেলে স্কুল কর্তৃপক্ষ তাতে বাধ সাধেন। তখন তিনি আইনের আশ্রয় নিয়ে একটি মামলা দায়ের করেন। দীর্ঘ বছর মামলা চালিয়ে স¤প্রতি তিনি রায় পেয়েছেন। তারই ফলশ্র“তিতে উকিল কমিশন জায়গার দখল বুঝিয়ে দিতে আসেন।
 

প্রিন্ট

আরও সংবাদ