খুলনা | শনিবার | ০৪ এপ্রিল ২০২৬ | ২০ চৈত্র ১৪৩২

বাগেরহাটে মন্দিরের জমিতে জোরপূর্বক টিকেট কাউন্টার স্থাপনের চেষ্টা, সাধারণ সম্পাদককে মারধর

নিজস্ব প্রতিবেদক, বাগেরহাট |
০৫:২১ পি.এম | ০৩ এপ্রিল ২০২৬


বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে মন্দিরের জমিতে জোরপূর্বক টিকেট কাউন্টার নির্মান করতে না দেওয়ায় সাধারণ সম্পাদক সঞ্জিত দাসকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক যুবকের বিরুদ্ধে। বৃহস্পতিবার দিবাগত  রাতে উপজেলার বলভদ্রপুর বাজার-নন্দী মার্কেটের সামনে এই হামলার ঘটনা ঘটে। টিকেট কাউন্টার স্থাপনকে কেন্দ্র করে বাধাল বাজার সলগ্ন বলভদ্রপুর এলাকায় বিকেবিবি সার্বজনীন দূর্গা মন্দির কমিটির সাথে কয়েকদিন ধরে হামলাকারীদের সাথে বিরোধ চলছিল।

মন্দির কমিটির নেতারা জানায়, বাগেরহাট-পিরোজপুর মহাসড়কের পাশে বাধাল বাজার সলগ্ন এই মন্দিরের জমিতে স্থানীয় ফেরদাউস শিকদার দূরপাল্লার বাস ইমা পরিবহনের কাউন্টার স্থাপন করবে বলে মন্দির কমিটিকে জানায়। মন্দির কমিটি বিষয়টিতে রাজি না হলে, হুমকিধামকি শুরু করে। বুধবার কাউন্টারের ঘর তৈরির জন্য মন্দিরের সামনে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম এনে মজুদ করে ফেরদাউস। বিষয়টির প্রতিবাদ করলে, মন্দির কমিটির সাধারণ সম্পাদকে গালিগালাজ করে। এরপরে বৃহস্পতিবার রাতে মন্দির কমিটির সাধারণ সম্পাদকের উপর হামলা হয়। এ ঘটনার সঠিক বিচার দাবি করেছেন হামলার শিকার সাধারণ সম্পাদক সঞ্জিদ দাস।

তিনি বলেন, ফেরদাউস অন্যায়ভাবে মন্দিরের জমিতে বাস কাউন্টার করতে চেয়েছিল। সম্মতি না দেওয়ায়, সে আমার উপর ক্ষিপ্ত হয়। হুমকি-ধামকী দেয়। বৃহস্পতিবার রাতে বাড়িতে যাওয়ার সময় বলভদ্রপুর বাজার-নন্দী মার্কেটের সামনে ফেরদাউস, সাগরসহ ৫-৬জন আমার উপর হামলা করে। আবারও আমাকে মারধরের হুমকি দিয়েছে। এই মুহুর্তে আমি জীবনের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কায় আছি।

এদিকে এই হামলার নিন্দা ও দোষীদের বিচার দাবি করে শুক্রবার সকালে মন্দির প্রাঙ্গনে জরুরী সভা ও বিক্ষোভ মিছিল করেছে মন্দির কমিটি ও স্থানীয়রা।

সভায়, মোরেলগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব আব্দুল জব্বার মোল্লা, বনগ্রাম ইউনিয়ন জামায়াতের আমীর ডা. আব্দুল হাই, বনগ্রাম ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শেখ শামসুর রহমান বাধাল বাজার কমিটির সভাপতি মশিউর রহমান, মন্দির কমিটির সভাপতি বাবু উৎপাল কুমার দাস সহ স্থানীয়রা উপস্থিত ছিলেন।

মোরেলগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব আব্দুল জব্বার মোল্লা বলেন, ফেরদাউস আগে থেকেই একজন সন্ত্রাসী। জোরপূর্বক কাউন্টার নির্মানে বাঁধা দেওয়ায় মন্দির কমিটির সাধারণ সম্পাদকের উপর হামলা হয়েছে। আমরা এ ঘটনার নিন্দা জানাই। ফেলদাউসকে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান বিএনপির এই নেতা।

বনগ্রাম ইউনিয়ন জামায়াতের আমীর ডা. আব্দুল হাই বলেন, মন্দিরের জমি ধর্মীয় সম্পত্তি এখানে জোরর্পূবক টিকিট কাউন্টার স্থাপনেরে চেষ্টা কোনোভাবে মেনে নেওয়া যায় না । সঠিক ত্দন্তপূর্ক দোষীদের বিচারের আওতায় আনার দরকার।

বাধাল বাজার কমিটির সভাপতি মশিউর রহমান বলেন, ফেরদাউস ও তার লোকজন মন্দির কমিটির সাধারণ সম্পাদকের উপর হামলা করেছে। এটা মন্দির কমিটির নেতাদের নিরাপত্তার জন্য হুমকি। এর আগেও ফেরদাউস নামের এই ব্যক্তি এলাকার অনেকের সাথে দূর্ব্যবহার করেছে। গভীর রাতে সঞ্জিদ দাসের বাড়িতে গিয়েও হুমকি দিয়েছে। আমরা বাজারের ব্যবসায়ীরা এই ঘটনার বিচার দাবি করছি।

মন্দির কমিটির সভাপতি উৎপল কুমার দাস বলেন, এই মন্দিরে বাধাল, বক্তারকাঠি, বলভদ্রপুর, বিষখালি, কাঠি পাড়া এই পাঁটি গ্রামের মানুষ পূজা আর্চনা করে। কিন্তু ফেরদাউস ও তার লোকজন যে ঘটনা ঘটিয়েছে, তাতে সবার মনে রক্তক্ষরণ হয়েছে। আমরা ফেরদাউস ও তার সাথে যারা চিল সবার বিচার চাই। সেই সাথে যাতে কেউ কখনও মন্দিরের জমি দখল করতে না পারে সেজন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ফেরদাউস শিকদার বলেন, বাধাল বাজারের ব্যবসায়ী মনিরুল শিকদারের সমঝোতায় ওই জায়গাটি মাসে ৫শ টাকা চুক্তিতে ভাড়া নিয়েছিলাম। কিন্তু পরে মন্দিরের লোকজন আমাদেরকে কাউন্টার করতে দিতে অস্বীকার করে। মূলত মন্দির কমিটির সাধারণ সম্পাদকের সাথে আমার ব্যক্তিগত ঝামেলা রয়েছে। মন্দিরের জমি দখল সংক্রান্ত কোন বিষয় নেই।

এদিকে খবর শুনে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন মোরেলগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) মোঃ মাহমুদুর রহমান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তিনি বলেন, খবর শুনে আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। মন্দির ভবনের পাশে টিকেট কাউন্টার নির্মানের জন্য একটি পক্ষ চেষ্টা করেছে। তারাই মন্দিরের সাধারণ সম্পাদককে মারধর করেছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোন অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে বলে জানান তিনি।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ