খুলনা | শুক্রবার | ০৩ এপ্রিল ২০২৬ | ২০ চৈত্র ১৪৩২

নারী এমপিদের নিয়ে সেই বক্তব্যের বিষয়ে যা বললেন আমির হামজা

খবর প্রতিবেদন |
০৫:২৬ পি.এম | ০৩ এপ্রিল ২০২৬

 

কুষ্টিয়া-৩ আসনের জামায়াতে ইসলামীর এমপি ও আলোচিত ইসলামি বক্তা আমির হামজা নারী সংসদ সদস্যদের নিয়ে করা ‘বডি শেমিং’ বক্তব্যের ব্যাপারে কথা বলেছেন। তিনি বলেন, বিষয়টি তার মনে নেই।

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, সংসদে পাশে বসা নারী এমপিদের নিয়ে কটূক্তি করছেন আমির হামজা। ভিডিওতে তিনি রুমিন ফারহানা এবং প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিনকে নিয়ে শারীরিক গঠন প্রসঙ্গে অবমাননাকর মন্তব্য করেন। পাশাপাশি ফরিদপুর-৩ আসনের এমপি নায়াব ইউসুফ আহমেদের নামও উল্লেখ করেন।

ভিডিওতে আমির হামজাকে বলতে শোনা যায়, ‘রুমিন ফারহানা আপা আছে, মন্ত্রী পটলের মেয়ে আছে, ফারজানা শারমিন। আমার ডানে-বামে এমন ভুঁড়িওয়ালা লোক পেয়েছি, যেহেতু এগুলো সিরিয়াল করা থাকে আগে থেকে, কে কোথায় বসবে আমরা জানিও না। আল্লাহর ইশারা ভেতরে গিয়ে দেখি, আমার ডানে-বামে ভুঁড়িওয়ালা। এমন বড় বড় ভুঁড়ি, আমার মনে হয় ভুঁড়ি ছিঁড়লে ভেতর থেকে ব্রিজ-কালভার্ট বের হবে। মহিলারা ওদের দেখলে লজ্জা পাবে।’

এ বিষয়ে গণমাধ্যমের প্রশ্নের জবাবে আমির হামজা বলেন, ‘এটি দেড় ঘণ্টার আলোচনা ছিল। কোথায় কী বলেছি, তা কি মনে রাখা সম্ভব? মিডিয়ার কি আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নেই?’

গত কয়েক দিনে তিনি এ মন্তব্য করেছেন কিনা—এ প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘আমি সেটাও জানি না।’

তার ওই বক্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট নারী এমপিরা কড়া সমালোচনা করেছেন।

রুমিন ফারহানা বলেন, রুমিন ফারহানা গণমাধ্যমে বলেন, ‘এই মন্তব্যটি দুই দিন আগে আমার নজরে এসেছে। তার অতীত রেকর্ড বিবেচনায় এটি কোনো ব্যতিক্রম নয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমি অবাক হয়েছি যে সংসদে এক সপ্তাহ যাওয়ার পরও তিনি জানেন না যে প্রতিটি সদস্যের নির্দিষ্ট আসন থাকে। তিনি ডান-বামের কথা বলেছেন, অথচ বাস্তবে তার পাশে কেউ ছিল না। জামায়াতের এমপি হিসেবে তিনি জামায়াতের সদস্যদের সঙ্গেই বসেন।’

তিনি মন্তব্য করেন, ‘এটি নারীদের প্রতি তাদের দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলন। একটি নারী বিদ্বেষী সমাজে এটি অস্বাভাবিক নয়, তবে সবচেয়ে দুর্ভাগ্যজনক বিষয় হলো—এখন তারা জনগণের আনুষ্ঠানিক প্রতিনিধি।’

অন্যদিকে নারী ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিন গণমাধ্যমে বলেন, ‘আমি ভিডিওটি দেখেছি। এই বিষয়ে কথা বলাও আমার মর্যাদার নিচে।’

তিনি আরও বলেন, ‘এই ধরনের বক্তব্য দিয়ে তিনি শুধু নারী এমপি নয়, সংসদের প্রতিটি এমপিকে অপমান করেছেন। এমনকি দেশের প্রতিটি নারীকে—তার (আমির হামজা) নিজের মাকেও অপমান করেছেন।’

আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে কিনা— গণমাধ্যমের এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘এই মুহূর্তে এমন একজন অশালীন ব্যক্তির জবাব দেওয়ার চেয়ে আমার আরও গুরুত্বপূর্ণ কাজ আছে।’

ফরিদপুর-৩ আসনের এমপি নায়াব ইউসুফ আহমেদ গণমাধ্যমে বলেন, এই মন্তব্য আমির হামজার ‘চরম সংকীর্ণ মানসিকতার’ পরিচয় দেয়।

তিনি বলেন, ‘তারা নারীদের মানুষ হিসেবে দেখে না—যেন আমরা অন্য গ্রহ থেকে এসেছি। যারা নারীদের এভাবে দেখে, তারা কীভাবে আমাদের নেতৃত্ব মেনে নেবে? এটি সম্পূর্ণ অযৌক্তিক। তারা প্রকৃত অর্থে ধর্ম মানে না বরং ধর্মের নামে নারীদের দমন করতে চায়। দেশের মানুষ এটি কখনো মেনে নেবে না, আমিও না।’

এদিকে কুষ্টিয়া জেলা জামায়াতের সাধারণ সম্পাদক সুজা উদ্দিন জোয়ার্দার গণমাধ্যমে বলেন, ‘মানুষ প্রতিদিন অনেক কিছু বলে; সবকিছু কি তাকে শেখাতে হবে? তাকে দলীয়ভাবে বারবার সতর্ক করা হয়েছে—কেন্দ্র থেকে, স্থানীয়ভাবে—সব জায়গা থেকেই। আমরা তার বন্ধুদেরও তাকে বোঝানোর জন্য বলছি। আমরা খুব বিব্রত।’

প্রিন্ট

আরও সংবাদ