খুলনা | রবিবার | ২৪ অক্টোবর ২০২১ | ৮ কার্তিক ১৪২৮

জেলা-উপজেলায় নাগরিক সেবা বেগবান হোক

|
১২:১৮ এ.এম | ১৪ অক্টোবর ২০২১


জেলা-উপজেলা শহরগুলোতে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকে সরকারি দপ্তরগুলো, যার কারণে নাগরিক সেবা পেতে নানা ধরনের ভোগান্তি পেতে হয় মানুষকে। এ ক্ষেত্রে দপ্তরগুলো এক জায়গায় বা একই ভবনে থাকলে সেটি কমে আসবে। তবে সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের নির্দেশনায় পরিবর্তন আসছে এমন পরিস্থিতির। মূলত একেকটি দপ্তরের জন্য আলাদা জমির অপচয় রোধ করতে চায় সরকার। এ জন্য জেলা-উপজেলা পর্যায়ে সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের জন্য আলাদা কার্যালয় নির্মানের প্রস্তাব আটকে দেওয়া হচ্ছে। স্থানীয় পর্যায়ে একক নয়, অনেকগুলো কার্যালয়ের জন্য সমন্বিত কার্যালয় ভবন নির্মানের দিকে এগোচ্ছে সরকার। এটি বাস্তবায়িত হলে অবশ্যই প্রশংসনীয় কাজ হবে।
গণমাধ্যমের এক প্রতিবেদন জানাচ্ছে, স¤প্রতি শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়, সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং যুব ও ক্রীড়াবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপজেলা পর্যায়ে পৃথক ভবন নির্মানের প্রস্তাবে বাধা এসেছে মন্ত্রিপরিষদ থেকে। এ ছাড়া কুড়িগ্রাম জেলায় সরকারের ১০টি দপ্তরের কার্যালয় নির্মানের জন্য পৃথক জমি চাইলে তা নাকচ করে দিয়েছে জেলা প্রশাসন। গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় এ ব্যাপারে সায় না দিলে এমন সিদ্ধান্ত নেয় কুড়িগ্রামের প্রশাসন। ফলে পৃথক ভবন থেকে সরে আসার ইচ্ছার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে এখানে। এ ব্যাপারে কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসনের ভূমিকাকে সাধুবাদ জানাতে হয়।
আগে থেকেই এ ব্যাপারে সরকারের ইতিবাচক মনোভাব দেখা যায়, যদিও বিষয়টি খুব একটা গুরুত্ব পায়নি। ২০১৪ সালে একনেকের এক সভায় প্রধানমন্ত্রী এ ব্যাপারে নির্দেশনা দিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, জেলা-উপজেলা পর্যায়ে সরকারি কার্যালয়গুলো একই স্থানে পরিকল্পিতভাবে সমন্বিত ভবনে নির্মাণ করতে হবে। গত আগস্টেও একই কথা বলেন তিনি। গোটা দেশে এ নির্দেশনা বাস্তবায়িত হলে জমির অপচয় রোধ করা সম্ভব হবে। অনেক সময় ভবন নির্মাণ করতে গিয়ে জমি অধিগ্রহণ করতে হয়, সে ক্ষেত্রে কয়েক গুণ জমির মূল্য পরিশোধ করতে হয় সরকারকে। সেটিও ঘটবে না। সবচেয়ে বড় ব্যাপার হলো, সমন্বিত ভবনে সব দপ্তরের কার্যালয় থাকলে সরকারি সম্পদের অপব্যবহার কমবে, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কমবে, মানুষের ভোগান্তি কমবে, সর্বোপরি নাগরিক সেবায় আরও গতি আসবে। সরকারের এমন সদিচ্ছাকে আমরা সাধুবাদ জানাই। এ ব্যাপারে মন্ত্রিপরিষদ থেকে নীতিগতভাবে সরাসরি সিদ্ধান্ত নেওয়া হোক। তাহলে বিষয়টি আরও বেগবান হবে।
 

প্রিন্ট

আরও সংবাদ