খুলনা | শনিবার | ০৪ এপ্রিল ২০২৬ | ২০ চৈত্র ১৪৩২

রূপসা উপজেলা নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী জাবেদ মলি­ক

কৃষ্ণ গোপাল সেন, রূপসা খুলনা |
১১:৩৯ পি.এম | ০৩ এপ্রিল ২০২৬


আসন্ন রূপসা উপজেলা পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থীদের নিয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা ক্রমেই জোরদার হচ্ছে। এ আলোচনায় যাঁদের নাম সাধারণ মানুষের মুখে মুখে উচ্চারিত হচ্ছে, তাঁদের মধ্যে অন্যতম রূপসা উপজেলা বিএনপি’র সদস্য সচিব মোঃ জাবেদ হোসেন মলি­ক। 
রূপসা উপজেলার শ্রীফলতলা ইউনিয়নের কৃতি সন্তান জাবেদ হোসেন মলি­ক দীর্ঘদিন ধরে তৃণমূল রাজনীতি, সাংগঠনিক কার্যক্রম এবং জনসেবামূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে নিজেকে একজন ত্যাগী, পরীক্ষিত ও কর্মীবান্ধব নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। তৃণমূল নেতাকর্মীদের কাছে তিনি যেমন আস্থার প্রতীক, তেমনি সাধারণ মানুষের কাছেও একজন নির্ভরযোগ্য ও গ্রহণযোগ্য রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিত। বর্তমানে তিনি রূপসা উপজেলা বিএনপি’র সদস্য সচিব হিসেবে নিষ্ঠা, সততা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। দলীয় নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ রাখা, সাংগঠনিক কার্যক্রমকে গতিশীল করা এবং তৃণমূলের মধ্যে রাজনৈতিক স¤প্রীতি বজায় রাখতে তিনি নিরলসভাবে কাজ করছেন। ফলে অল্প সময়েই তিনি দলীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের আস্থা ও ভালোবাসা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছেন।
জাবেদ হোসেন মলি­কের রাজনৈতিক পথচলা শুরু হয় ছাত্ররাজনীতির মাধ্যমে। তিনি আযম খান কমার্স কলেজ শাখা ছাত্রদলের প্রচার সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালনের মধ্য দিয়ে সক্রিয় রাজনীতিতে আত্মপ্রকাশ করেন। পরবর্তীতে তিনি রূপসা উপজেলা বিএনপি’র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, সাংগঠনিক দক্ষতা ও তৃণমূলভিত্তিক সম্পৃক্ততার কারণে তিনি আজ রূপসা উপজেলা রাজনীতিতে একটি পরিচিত ও গুরুত্বপূর্ণ নাম।
রাজনীতির পাশাপাশি সামাজিক, ধর্মীয় ও শিক্ষামূলক কার্যক্রমেও তাঁর সক্রিয় অংশগ্রহণ রয়েছে। তিনি হোসেনপুর কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের একাধিকবার নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক ছিলেন এবং বর্তমানে সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়াও তিনি এ.বি.সি.ডি.এস হোসেনপুর দাখিল মাদ্রাসার কার্যকরী কমিটির সদস্য হিসেবে শিক্ষা বিস্তার ও সমাজ উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছেন। 
বিশেষ করে দলের দুঃসময়ে, আন্দোলন-সংগ্রামের কঠিন মুহূর্তে এবং নেতাকর্মীদের বিপদ-আপদের সময়ে জাবেদ হোসেন মলি­ককে সবসময় পাশে পেয়েছেন তৃণমূল নেতাকর্মীরা। বিএনপি’র অনেক নেতাকর্মী যখন মামলা-হামলা, কারাবরণ ও নানা প্রতিকূল পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছেন, তখন তিনি নীরবে কিন্তু দৃঢ়ভাবে তাঁদের পাশে দাঁড়িয়েছেন। কারাবন্দি নেতাকর্মীদের খোঁজখবর নেওয়া, তাদের জন্য খাবারের ব্যবস্থা করা এবং অসহায় পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ানোর মতো মানবিক কর্মকাণ্ড তাঁকে তৃণমূলের কাছে আরও বেশি প্রিয় ও সম্মানিত করে তুলেছে।
স্থানীয় বিএনপি’র বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা জানান, জাবেদ হোসেন মলি­ক কেবল একজন রাজনৈতিক নেতা নন, বরং তিনি একজন মানবিক, দায়িত্বশীল ও জনমুখী মানুষ। তিনি কর্মীদের মূল্যায়ন করেন, তাদের সুখ-দুঃখে পাশে থাকেন এবং সবসময় সাধারণ মানুষের কল্যাণে কাজ করার চেষ্টা করেন। যখন আমাদের দূর্দিন ছিলো আমরা পরিবার থেকে দূরে ছিলাম তখন তিনি আমাদের মামলার খরচ চালিয়েছেন, কারাগারের পিসিতে টাকা দিয়েছেন, পরিবারের কাছে সাহায্য পৌঁছে দিয়েছেন।
এ কারণেই দলীয় নেতাকর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ ভোটার ও সচেতন মহলের মধ্যেও তাঁর জনপ্রিয়তা ও গ্রহণযোগ্যতা ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে। এলাকার সচেতন মহল ও সাধারণ ভোটারদের অনেকেই মনে করছেন, রূপসা উপজেলার উন্নয়ন, জনস্বার্থ রক্ষা, তৃণমূলের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং একটি সুশাসনভিত্তিক উপজেলা গঠনে মোঃ জাবেদ হোসেন মলি­কের মতো ত্যাগী, পরীক্ষিত ও কর্মীবান্ধব নেতার বিকল্প খুবই কম। তাই আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে তাঁকে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী হিসেবে দেখতে চান রূপসার বহু মানুষ।
এ বিষয়ে জাবেদ হোসেন মলি­ক বলেন বিএনপি সবসময় গণমানুষের অধিকার, ভোটাধিকার, গণতন্ত্র ও ন্যায়ের পক্ষে রাজপথে থেকে আন্দোলন সংগ্রাম করেছে। আমি দীর্ঘদিন দলের সাথে থেকে রাজপথে আন্দোলনে লড়েছি। আমি মামলা খেয়েছি জেল খেটেছি। বিগত দিনে আমার পরিবারের উপর অন্যায় অত্যাচার জুলুম করা হয়েছে। আমিও দলের একজন ক্ষুদ্র কর্মী হিসেবে সবসময় চেষ্টা করেছি মানুষের পাশে থাকতে, কর্মীদের পাশে থাকতে এবং তৃণমূলের আশা-আকাক্সক্ষাকে ধারণ করতে। দল যদি আমাকে যোগ্য মনে করে এবং মনোনয়ন দেয়, তাহলে আমি রূপসা উপজেলার সাধারণ মানুষের অধিকার, ন্যায্য দাবি ও কাক্সিক্ষত উন্নয়ন নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ আন্তরিকতা, সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করবো। আমি বিশ্বাস করি, জনগণই আমার শক্তি। জনগণ পাশে থাকলে রূপসাকে একটি আধুনিক, শান্তিপূর্ণ, উন্নয়নমুখী, দুর্নীতিমুক্ত ও জনবান্ধব উপজেলা হিসেবে গড়ে তোলাই হবে আমার প্রধান অঙ্গীকার।

 

প্রিন্ট

আরও সংবাদ