খুলনা | শনিবার | ০৪ এপ্রিল ২০২৬ | ২০ চৈত্র ১৪৩২

বেসরকারি খাত চাঙ্গা হোক

|
১২:০৮ এ.এম | ০৪ এপ্রিল ২০২৬


শিল্প, ব্যবসা-বাণিজ্য ধুঁকে ধুঁকে চলছে। নতুন বিনিয়োগ নেই। বিদ্যমান কলকারখানাও বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। কর্মসংস্থান না বাড়ায় বেকারত্ব আকাশছোঁয়া। করোনা মহামারির প্রকোপ যেতে না যেতেই শুরু হয় রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা। এগুলোর রেশ কাটতে না কাটতেই দেশে শুরু হয় রাজনৈতিক অস্থিরতা, ঘটে ক্ষমতার পালাবদল। এরপর অন্তর্বর্তী সরকারের দেড় বছরে অবস্থার উন্নতি না হয়ে দ্রুত আরো অবনতি হয়েছে। এ সময়ে অর্থনীতি, ব্যবসা-বাণিজ্য, বিশেষ করে বেসরকারি খাতের রীতিমতো টুঁটি টিপে ধরা হয়।
এর ওপর স¤প্রতি যোগ হয়েছে মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের ভয়ঙ্কর প্রভাব। এমন পরিস্থিতিতে শুরু হয়েছে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটের প্রস্তুতি। অর্থনীতি বিশ্লেষকদের মতে, সংকটময় মুহূর্তে সঠিক বাজেটের ওপর নির্ভর করবে দেশের অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ।
পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, নীতিনির্ধারকরা আসন্ন বাজেটের গুরুত্ব উপলব্ধি করেই নানা মহলে আলাপ-আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন। অর্থনীতিতে চলমান সংকট, নির্বাচনী ইশতেহারের বাস্তবায়ন এবং মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ-এমন বাস্তবতায় আগামী বাজেট প্রণয়নকে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেছেন, অর্থনীতি চাঙ্গা করতে না পারলে দিনশেষে কর-জিডিপির অনুপাত বাড়ানো খুব কঠিন হবে। তিনি বলেন, ‘আমাদের মূল লক্ষ্য ঋণনির্ভর অর্থনীতি থেকে বিনিয়োগ নির্ভর অর্থনীতিতে যাওয়া। আমরা টাকা ছাপাতে চাচ্ছি না, বরং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরির মাধ্যমে দেশের ভঙ্গুর অর্থনীতি পুনরুজ্জীবিত করার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।’ গত বুধবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কার্যালয়ে আসন্ন বাজেট ও বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে অনুষ্ঠিত এক বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
চলতি অর্থবছরে সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী এনবিআরের মাধ্যমে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল প্রায় সাড়ে পাঁচ লাখ কোটি টাকা। কিন্তু অর্থবছরের গত আট মাসে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা পূরণে ঘাটতি হয়েছে প্রায় ৭১ হাজার কোটি টাকা। ধারণা করা হচ্ছে, সব মিলিয়ে ঘাটতি ছাড়াতে পারে প্রায় এক লাখ কোটি টাকা। আগামী বাজেটের আকার আট লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে। আকার বেড়ে যাওয়া মানে রাজস্ব আহরণের পরিমাণও বৃদ্ধি পাওয়া। সরকার কি পারবে রাজস্ব আদায়ের গতি বাড়াতে, যেখানে রাজস্ব আদায়ের গতি মুখ থুবড়ে পড়েছে? অন্যদিকে পে-স্কেলসহ নানা কারণে সরকারের রাজস্ব ব্যয়ও অনেক বৃদ্ধি পাবে। অন্তর্বর্তী সরকার অতি জরুরি টিকা কর্মসূচিসহ স্বাস্থ্য খাত ও অন্যান্য খাতে যে গভীর ক্ষত তৈরি করে গেছে, তা সমাধানেও প্রয়োজন হবে প্রচুর অর্থের। তাই আগামী বাজেট মানেই হচ্ছে সরকারের জন্য চ্যালেঞ্জের ওপর চ্যালেঞ্জ।
সবচেয়ে জরুরি হচ্ছে অর্থনীতির প্রাণ বেসরকারি খাতকে চাঙ্গা করা। অর্থমন্ত্রী সঠিক অর্থেই বলেছেন, বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরাতে হবে। এ জন্য নীতিমালার ঘন ঘন পরিবর্তন বন্ধ করতে হবে। তিনি আর্থিক খাত ও পুঁজিবাজারে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। আমরা চাই, আগামী বাজেট হোক বিনিয়োগবান্ধব। বেসরকারি খাতে গতি ফিরে আসুক।
 

প্রিন্ট

আরও সংবাদ