খুলনা | শনিবার | ০৪ এপ্রিল ২০২৬ | ২০ চৈত্র ১৪৩২

আক্রান্তের তালিকায় ঢাকা বিভাগ শীর্ষে

উপসর্গ নিয়ে ১৯ দিনে আক্রান্ত ৫৭৯২ ঝরে গেলো ৯৪ প্রাণ, কক্সবাজার শীর্ষে

খবর প্রতিবেদন |
০১:০৭ এ.এম | ০৪ এপ্রিল ২০২৬


বাংলাদেশে হামের প্রাদুর্ভাব ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। গত ১৫ মার্চ থেকে ৩ এপ্রিল শুক্রবার পর্যন্ত মাত্র ১৯ দিনে দেশে ৫ হাজার ৭৯২ জন সন্দেহজনক হাম রোগী শনাক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে এখন পর্যন্ত সন্দেহজনক মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯৪ জনে, আর হামে মারা গেছে ৯জন। শুক্রবার সন্ধ্যায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত বিশেষ সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই উদ্বেগজনক পরিসংখ্যান তুলে ধরা হয়।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় (২ এপ্রিল বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে ৩ এপ্রিল শুক্রবার সকাল ৮টা পর্যন্ত) নতুন করে ৯৪৭ জন সন্দেহজনক হাম রোগী শনাক্ত হয়েছেন। মোট শনাক্ত হওয়া ৫ হাজার ৭৯২ জনের মধ্যে ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় নিশ্চিত ভাবে হাম আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭৭১ জনে। এ সময়ে উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন তিনজন। 
এদিকে, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামে কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি। তবে গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত নিশ্চিত হামে মোট ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। তবে লক্ষণ ও উপসর্গ বিবেচনায় মোট মৃত্যুর সংখ্যা ৯৪ বলে ধারণা করা হচ্ছে।  বিভাগওয়ারী বিশ্লেষণে দেখা গেছে, চট্টগ্রাম বিভাগের কক্সবাজার জেলায় মৃত্যুর হার সবচাইতে বেশি।
আক্রান্তের দিক থেকে ঢাকা বিভাগ তালিকার শীর্ষে রয়েছে। বিভাগভিত্তিক নিশ্চিত আক্রান্তের সংখ্যা বিশ্লেষণে দেখা যায়: ঢাকা: ৩৫৮ জন, রাজশাহী: ১৯৪ জন, চট্টগ্রাম: ১০২ জন, খুলনা: ৪১ জন, বরিশাল: ৩৮ জন, সিলেট: ১৯ জন, ময়মনসিংহ: ১৪ জন ও রংপুর: ৫ জন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর তাদের রিপোর্টে কিছু সংশোধনীও এনেছে। জেলা পর্যায় থেকে পাঠানো তথ্যে ভুল থাকায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া, ল²ীপুর এবং চাঁদপুর থেকে মোট ৫টি মৃত্যুর ঘটনা জাতীয় তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যাওয়া একজন হাম রোগীর তথ্য নতুন করে এই রিপোর্টে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
হাসপাতালগুলোতে রোগীর চাপের বিষয়ে জানানো হয়েছে যে, ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত মোট ৩ হাজার ৭৭৬ জন হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে যথাযথ চিকিৎসা শেষে ২ হাজার ৫২৭ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই মুহূর্তে সংক্রমণ রোধে একমাত্র উপায় হলো শিশুদের শতভাগ টিকাদান নিশ্চিত করা এবং আক্রান্ত শিশুদের দ্রুত আইসোলেশনে রাখা। সরকার ৫ এপ্রিল থেকে যে বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি শুরু করতে যাচ্ছে, তা এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বড় ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, বৃহস্পতিবার প্রকাশিত প্রতিবেদনে নিশ্চিত মৃত্যুর সংখ্যা ১৩ উল্লেখ করা হলেও শুক্রবার তা সংশোধন করে ৫টি মৃত্যু বাদ দেওয়া হয়েছে। জেলা পর্যায় থেকে ভুল তথ্য পাঠানোর কারণে এগুলো বাদ হয়েছে। নতুন করে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে একজন হাম আক্রান্তের মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেছে, যা এখানে যুক্ত হয়েছে।
সারাদেশে স্বাস্থ্যকর্মীদের ছুটি বাতিল : সারাদেশে সরকারি চিকিৎসক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সব ধরনের ছুটি বাতিল করেছে স্বাস্থ্য অধিদফতর। শিশুদের মধ্যে হামজনিত নিউমোনিয়ার প্রাদুর্ভাব দেখা দেওয়ায় জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় এ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। 
এ বিষয়ে বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য অধিদফতরের প্রশাসন শাখা থেকে অফিস আদেশ জারি হয়। আদেশটি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বিভাগীয় ও জেলা পর্যায়ের স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের কাছে পাঠানো হয়েছে। 
আদেশে বলা হয়, আপদকালীন সময়ে নিরবচ্ছিন্ন চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত এবং হামের টিকাদান কার্যক্রম জোরদার করতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদফতর ও অধিদফতরের অধীন সব স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে কর্মরতদের অর্জিত ছুটি ও নৈমিত্তিক ছুটি পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত স্থগিত থাকবে। 
স্বাস্থ্য অধিদফতরের পরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডাঃ জালাল উদ্দিন মোহাম্মদ রুমী স্বাক্ষরিত আদেশে বলা হয়, যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন সাপেক্ষে এটি জারি করা হয়েছে এবং তা অবিলম্বে কার্যকর হবে।
এদিকে, হামের সংক্রমণ বাড়তে থাকায় সরকার ইতোমধ্যে জরুরি টিকাদান কর্মসূচি জোরদার করার উদ্যোগ নিয়েছে। 
সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে টিকাদান কার্যক্রমের পাশাপাশি হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসাসেবা অব্যাহত রাখতে স্বাস্থ্যকর্মীদের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে জোর দিচ্ছে সরকার।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ