খুলনা | শনিবার | ০৪ এপ্রিল ২০২৬ | ২০ চৈত্র ১৪৩২

দু’টি তীব্র তাপপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে এপ্রিলে, থাকতে পারে ঘূর্ণিঝড়ও

খবর প্রতিবেদক |
০১:১২ এ.এম | ০৪ এপ্রিল ২০২৬


চৈত্র মাসের শুরুটা বৃষ্টি আর কালবৈশাখীর হিমেল হাওয়ায় স্বস্তিদায়ক হলেও শেষার্ধে এসে মেজাজ বদলাচ্ছে প্রকৃতি। বাড়তে শুরু করেছে সূর্যের প্রখরতা। একদিকে স্বাভাবিক বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা, অন্যদিকে তাপমাত্রার পারদ চড়ার প্রবণতা। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, চলতি এপ্রিল মাসে দেশজুড়ে তীব্র তাপপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে, যেখানে তাপমাত্রা ৪২ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। একই সঙ্গে বঙ্গোপসাগরে ঘূর্ণিঝড় এবং দেশের বিভিন্ন প্রান্তে শক্তিশালী কালবৈশাখীর পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে। অধিদপ্তরের দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাস অনুযায়ী, এ মাসে দেশের ওপর দিয়ে এক থেকে দু’টি তীব্র তাপপ্রবাহ বয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
বুধবার আবহাওয়া অধিদপ্তরের বিশেষজ্ঞ কমিটির নিয়মিত সভায় দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাসে জানানো হয়, চলতি মাসে স্বাভাবিক বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা থাকলেও জনজীবন তপ্ত হতে পারে হিটওয়েভ বা তাপপ্রবাহে। 
অধিদপ্তরের পরিচালক ও বিশেষজ্ঞ কমিটির চেয়ারম্যান মোঃ মমিনুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এপ্রিলের দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাসে জানানো হয়, এপ্রিল মাসে দেশে দুই থেকে চারটি মৃদু বা মাঝারি এবং এক থেকে দু’টি তীব্র তাপপ্রবাহের সম্ভাবনা রয়েছে। তীব্র তাপপ্রবাহের ক্ষেত্রে তাপমাত্রার পারদ ৪০ থেকে ৪১.৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত উঠতে পারে। তবে দিন ও রাতের গড় তাপমাত্রা স্বাভাবিক থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সমুদ্রের আবহাওয়া নিয়ে পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, এ মাসে বঙ্গোপসাগরে এক থেকে দু’টি লঘুচাপ সৃষ্টি হতে পারে। এর মধ্যে একটি নিম্নচাপ অথবা ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ ছাড়া কালবৈশাখীর দাপটও দেখা দিতে পারে এ মাসে। দেশের বিভিন্ন স্থানে শিলাবৃষ্টিসহ পাঁচ থেকে সাত দিন হালকা বা মাঝারি এবং এক থেকে তিন দিন তীব্র কালবৈশাখী ঝড় হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এর আগে আবহাওয়া অধিদপ্তরের পর্যালোচনা বলছে, গত মার্চ মাসে সারাদেশে স্বাভাবিকের চেয়ে ৩১ শতাংশ বেশি বৃষ্টিপাত হয়েছে। এর ফলে মাসের অধিকাংশ সময় তাপমাত্রা সহনীয় পর্যায়ে ছিল; এমনকি সর্বোচ্চ তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে ০.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস কম ছিল। বিশেষ করে ময়মনসিংহ বিভাগে স্বাভাবিকের চেয়ে রেকর্ড ৩২৮ শতাংশ বেশি বৃষ্টি হয়েছে। তবে খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগে বৃষ্টির দেখা মিলেছে খুব সামান্য। গত মাসে দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল যশোরে (৩৭.৮ক্ক সেলসিয়াস)। 
অধিদপ্তরের তথ্যমতে, তপ্ত রোদের পাশাপাশি এ মাসে ঝড়-বৃষ্টির তাণ্ডবও দেখা যেতে পারে। বঙ্গোপসাগরে এ মাসে এক থেকে দু’টি লঘুচাপ সৃষ্টি হতে পারে, যার মধ্যে একটি নিম্নচাপ থেকে শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নেয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এছাড়া দেশের উত্তর থেকে মধ্যাঞ্চলে ৫ থেকে ৭ দিন শিলাবৃষ্টিসহ হালকা বা মাঝারি কালবৈশাখী এবং ১ থেকে ৩ দিন তীব্র কালবৈশাখী ঝড় হতে পারে।
বিভাগ ভিত্তিক বৃষ্টির পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, এ মাসে সবচেয়ে বেশি বৃষ্টি হতে পারে সিলেট বিভাগে। সেখানে ১৪ থেকে ১৬ দিনে ২৬৫ থেকে ৩২৫ মিলিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া চট্টগ্রাম বিভাগে ১৩০ থেকে ১৬০ মিলিমিটার, ঢাকা বিভাগে ১১০ থেকে ১৫০ মিলিমিটার এবং রাজশাহী বিভাগে ৭৫ থেকে ৯০ মিলিমিটার বৃষ্টি হতে পারে। মাসের বিভিন্ন সময়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বজ্রবৃষ্টিরও সম্ভাবনা রয়েছে।
কৃষি আবহাওয়ার বিষয়ে অধিদপ্তরের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, এপ্রিলে দেশের প্রধান নদ-নদীগুলোতে পানির প্রবাহ স্বাভাবিক থাকতে পারে। এ সময় দৈনিক গড়ে ৫.৫ থেকে ৭.৫ ঘণ্টা সূর্যকিরণ পাওয়া যেতে পারে এবং বাষ্পীভবন হতে পারে ৩.০ থেকে ৫.০ মিলিমিটার। তবে স্বস্তির খবর এই যে, দেশের প্রধান নদ-নদীসমূহে পানি প্রবাহ স্বাভাবিক থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার অনুমোদিত বিভিন্ন গাণিতিক মডেল বিশ্লেষণ করে এই পূর্বাভাস দিয়েছে বিশেষজ্ঞ কমিটি।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ