খুলনা | সোমবার | ০৬ এপ্রিল ২০২৬ | ২৩ চৈত্র ১৪৩২

এসিএফ’র অভিযানে ৫টি নৌকা, কীটনাশক ও ভেশাল জাল আটক

সুন্দরবনের কালাবগী স্টেশনের বন কর্মীদের সহায়তায় বিষ প্রয়োগে মাছ শিকারের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক |
১১:৫০ পি.এম | ০৪ এপ্রিল ২০২৬


সুন্দরবন খুলনা রেঞ্জের অধিনস্থ কালাবগী স্টেশনের বন রক্ষীদের প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় এক শ্রেণির অসাধু জেলে বিষ প্রয়োগ করে মাছ শিকার করছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। তবে স্টেশনের সহয়তায় জেলেরা মাছ শিকার করতে গেলেও সেই নৌকা আটক করলেন রেঞ্জ কর্মকর্তা। গত ১ এপ্রিল খুলনা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) মোঃ শরিফুল আলম অভিযান চালিয়ে ৫ টি নৌকা আটক করে। আর ঐ সকল নৌকা হতে অবৈধ কীটনাশক, ভেশাল জাল উদ্ধার করা হয়। বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যকর সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা ঐ কর্মকর্তাকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। 
এদিকে নৌকা আটকের বিষয়টি জানাজানি হলে ধামা চাপা দেওয়ার চেষ্টা করছেন স্টেশন কর্মকর্তা ডেপুটি রেঞ্জার মোঃ আঃ ছালাম। আর এ সকল কাজের মুল হোতা ঐ স্টেশনের বন প্রহরী মোঃ আতিয়ার রহমান। যার এফজি নং-৪০। তিনি কালাবগী স্টেশনের ক্যাশিয়ার হিসাবে দায়িত্ব পালন করে আসছে। সচেতন মহল বিষয়টি তদন্ত পূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছে। 
স্থানীয়রা জানিয়েছেন বন প্রহরী আতিয়ারের বিরুদ্ধে ইতিপূর্বে বিভিন্ন অভিযোগ দায়ের করা হলেও কোন ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় জনমনে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগে জানা গেছে কালাবগী স্টেশন কর্মকর্তা  আঃ সালাম ও বন প্রহরী মোঃ আতিয়ার রহমান স্টেশনের আওতাধীন  সুতারখালি, লাউডোব, কালাবগী নলিয়ান এলাকার মাছ ও কাঁকড়ার ডিপো হতে মাসিক টাকা আদায় করে থাকেন। আর এতে করে জেলেদেরকে নিষিদ্ধ জাল দিয়ে মাছ শিকার করার সুযোগ করে দেন। এমনকি স্টেশনের অধিনস্থ হাড্ডোরা ও ভদ্রা নদীর নিষিদ্ধ খালে মাছ ধরার সুযোগ করে দেওয়া হয়। আর তাদের নিকট হতে গোনপ্রতি চুক্তির মাধ্যমে টাকা আদায় করেন স্টেশন কর্মকর্তা ও কেশিয়ার।
কালাবগী গ্রামের আরশাদ আলী জানান, ঐ সকল নিষিদ্ধ এলাকা মাছ শিকার করে থাকেন  রশিদ, আলামিন, জাহিদ, রবিউল, তরুর জেলেরা। অভিযোগে আরও জানা গেছে, কালাবগী গ্রামের হানিফি গাজীর মাধ্যমে চুক্তি করে তার জেলে আনারুল, আবুল, আরিফুল, বাক্কারসহ আরও অনেকেই ভেশাল জাল দিয়ে মাছ শিকার করে থাকে। নাম না জানানোর শর্তে কালাবগী গ্রামের অনেকেই অভিযোগ করেন কালাবগী স্টেশনের ক্যাশিয়ার আতিয়ার রহমান প্রায় সময় কালাবগী বাজারে এসে বনজ সম্পদ ধবংসকারিদের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করে থাকেন। তিনি অবৈধ চুক্তির মাধ্যমে তাদের সুযোগ করে দেন। 
একটি সুত্রে জানা গেছে, স¤প্রতি যে ৫ টি নৌকা আটক করা হয়েছে তা স্থানীয় আয়ুব আলী ও জোহর মোল্যার। এরা স্টাফ আতিয়ারের সাথে যোগাযোগ করে মাছ ধরতে যায়। আটক নৌকাগুলো ছাড়িয়ে দিতে নানা কৌশল অবলম্বন করছে আতিয়ার। তিনি বিকাশের মাধ্যমে জেলেদের নিকট হতে অর্থ আদায় করে থাকেন বলে অভিযোগ রয়েছে। আর এ সকল কাজ তিনি স্টেশন কর্মকর্তার মদদে করে থাকেন। কালাবগী স্টেশনের পার্শ্ববর্তী এলাকার কিছু দুষ্কৃতকারী লোকদের স্টেশনে আসা বন্ধ করে দিয়েছে রেঞ্জ কর্মকর্তা। তবে সে নির্দেশনা না মেনেই সেই লোকগুলো হরহামেশায় স্টেশনে যাতায়াত করতে দেখা যাচ্ছে। 
এ সকল অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে স্টেশন কর্মকর্তা মোঃ আঃ ছালাম ও বন প্রহরী আতিয়ার রহমান বলেন, আমাদের বিরুদ্ধে যে সকল অভিযোগ করা হয়েছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা। এ ধরনের কাজের সাথে তারা জড়িত না। তাদেরকে হয়রানি করার জন্য মিথ্যা অভিযোগ করা হয়েছে। 
 

প্রিন্ট

আরও সংবাদ