খুলনা | সোমবার | ০৬ এপ্রিল ২০২৬ | ২৩ চৈত্র ১৪৩২

আশাশুনির কাকবাসিয়ায় পাউবো’র ভেড়িবাঁধে ভয়াবহ ভাঙন

আশাশুনি (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি |
১১:৫০ পি.এম | ০৫ এপ্রিল ২০২৬


আশাশুনি উপজেলার আনুলিয়া ইউনিয়নের কাকবাসিয়ায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের ভেড়িবাঁধে ভয়াবহ ভাঙন শুরু হয়েছে। ফলে এলাকার হাজার হাজার পরিবার ভাঙন আতঙ্কে ভুগছে। 
আনুলিয়া ইউনিয়নের কাকবাসিয়া খেয়াঘাটের কাছে পাউবো’র বাঁধে স¤প্রতি মাটি-বালু ভর্তি বস্তা/জিএ ব্যাগ ফেলে বাঁধ রক্ষার কাজ করা হয়েছে। মানুষ ভেবেছিল বেশ কিছুকাল ভাঙন আতঙ্ক থেকে তারা নিস্কৃতি পেতে যাচ্ছে। কিন্তু না বেশীদিন আনুলিয়ার জনসাধারণকে শান্তিতে থাকা হলোনা। বাঁধটিতে কয়েকদিন আগে থেকে ফাটল শুরু হয়। কিন্তু তাৎক্ষণিক প্রতিরোধে ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। ফলে রোববার সকাল ৮ টার দিকে খোলপেটুয়া নদীর প্রবল গ্রোতের চাপে সবুর গাজীর বাড়ির কাছে ফাটলে বড় ধরনের ভাঙন দেখা দেয়। মুহুর্তের মধ্যে প্রায় ১০০ হাত বাঁধের মাটি ধ্বসে নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যায়। ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। বর্তমানে বাঁধটি খুবই হুমকীগ্রস্থ হয়ে পড়েছে। স¤প্রতি বাঁধের ডাম্পিং করা স্থান পর্যন্ত ভাঙ্গন চলে এসেছে। দ্রæত ব্যবস্থা গ্রহন করা না হলে যে কোন মুহুর্তে ভেড়িবাঁধ ধ্বসে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হতে পারে। বাঁধের ৫০ ফুট উত্তরে একটি পয়েন্টে এবং ১০০ ফুট দক্ষিণে একটি পয়েন্টে অবস্থা খারাপ হয়ে পড়েছে। এসব স্থানে দ্রুত সংস্কার ও বাঁধ রক্ষার কাজে হাত দিতে উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়েছে। 
এদিকে বাঁধ ভাঙ্গনের খবর শুনে আনুলিয়া ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ রুহুল কুদ্দুছ, ইউনিয়ন জামায়াতের আমীর মাওঃ হারুন অর রশিদ, শিক্ষক আবু দাউদ, মাওঃ শহিদুল ইসলাম ঘটনাস্থান পরিদর্শন করেছেন। ইউপি চেয়ারম্যান জানান বাঁধটির ভাঙন খুবই ভয়াবহ। প্রতিনিয়ত কিছু কিছু অংশের মাটি নদীতে ধ্বসে পড়ছে। গত বছর ঈদের দিন নামাজ শুরুর সময় বাঁধ ভেঙে এলাকা প্লাবিত হয়েছিল। আনুলিয়ার ১৫হাজার মানুষ জলমগ্ন ও ঘরবাড়ি, জমির ধান, অন্যান্য ফসল ও মৎস্য ঘের-পুকুরের মাছ ভেসে গিয়েছিল। আজকে রাতের জোয়ারের আগে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা না নিলে বাঁধ রক্ষা করা যাবে কিনা বলা কঠিন। তিনি দ্রুত জেলা প্রশাসক ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের ঘটনাস্থান পরিদর্শন করে ডাম্পিং-এর মাধ্যমে ব্যবস্থা নিতে জোর দাবী জানান।

 

প্রিন্ট

আরও সংবাদ