খুলনা | সোমবার | ০৬ এপ্রিল ২০২৬ | ২৩ চৈত্র ১৪৩২

শিক্ষার্থীদের ঝরেপড়া রোধ ও উপস্থিতি বৃদ্ধিতে

সাতক্ষীরার কাটিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের অর্থায়নে মিড-ডে মিল অব্যহত

নিজস্ব প্রতিবেদক, সাতক্ষীরা |
১১:৫৬ পি.এম | ০৫ এপ্রিল ২০২৬


শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়া রোধ, উপস্থিতি বৃদ্ধি এবং প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নের জন্য ব্যতিক্রমী এক উদ্যোগ চালু রয়েছে সাতক্ষীরা শহরের দক্ষিণ কাটিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সানজিনা শাহনাজের উদ্যোগে পারিবারিক অর্থায়নে ভর্তি ও উপস্থিতিতি বাড়াতে ২০১৭ সাল থেকে নিয়মিতভাবে মিড-ডে মিল কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। 
শনিবার অনুষ্ঠিত বিদ্যালয়ের মিড-ডে মিলের মেনু ছিল সিদ্ধ ডিম ও বন রুটি। এছাড়াও সপ্তাহের বিভিন্ন দিনে পৃথকভাবে সবজি খিচুড়ি, সিদ্ধ ডিম, মাংস, কলা ও পাউরুটিও দেওয়া হয়। এসময় উপস্থিত ছিলেন সহকারী শিক্ষিকা ফারজানা বানু, শামসুন্নাহার, ছাবিরা আক্তার, জামিলা খাতুন, হাফিজা খাতুন এবং দপ্তরী আলামিন ইসলাম। 
বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, সাতক্ষীরা শহরের দক্ষিণ কাটিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মিড-ডে মিল চালু হওয়ার আগে গড় উপস্থিতি ছিল ৬০-৬৫ শতাংশ, এখন তা বেড়ে ৯০ শতাংশেরও বেশি। একই সঙ্গে ঝরে পড়ার হারও কমেছে। বিদ্যালয়ে বর্তমানে প্রায় ১৬০ জন শিশু পড়াশোনা করছে। তাদের মধ্যে অনেকের পরিবার আর্থিকভাবে সামর্থ্যবান নয়। আগে অনেক শিশু নিয়মিত স্কুলে আসতো না। প্রধান শিক্ষকের এই উদ্যোগে এখন শিশুরা পুষ্টিকর খাবারের জন্যও নিয়মিত স্কুলে আসে, পড়াশোনায় মনোযোগও বেড়েছে।
বিদ্যালয়টিতে মিড-ডে মিল কার্যক্রমে সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করে থাকেন প্রধান শিক্ষকের বড় ভাই খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্রাক্তন উপাধ্যক্ষ ও অর্থোপেডিক সার্জন বর্তমানে গোপালগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দায়িত্বে থাকা ডাঃ মেহেদী নেওয়াজ। বিদ্যালয়ের অভিভাবক ও পরিচালনা পরিষদের সদস্যরাও তাঁর এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। 
বিদ্যালয়ের একজন অভিভাবক বলেন, আগে বাচ্চারা স্কুলে যেতে চাইতো না, এখন নিয়মিত তারা স্কুলে যায়। পড়াশোনাতেও তাদের আগ্রহ বাড়েছে। বিদ্যালয় থেকে দেওয়া খাবরের পাশপাশি শিক্ষকের আচারণে বাচ্চারা অনেক সন্তুষ্ট। আমারও তাদেরকে উৎসাহিত করছি। 
বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকরা জানান, মিড-ডে মিল কার্যক্রম শুধু পুষ্টি নয়, শ্রেণিকক্ষের পরিবেশকে প্রাণবন্ত করার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের মনোযোগ ও অংশগ্রহণও বাড়াচ্ছে। 
প্রধান শিক্ষক সানজিনা শাহনাজ বলেন, আমাদের লক্ষ্য শুধুমাত্র শিক্ষার্থীদের পুষ্টিকর খাবার দেওয়া নয়। আমরা চাই, তারা নিয়মিত স্কুলে আসুক, পড়াশোনায় আগ্রহী হোক এবং স্বাস্থ্যবান হোক। এই ছোট্ট উদ্যোগ শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে সহায়তা করছে। ভবিষ্যতে আরও পুষ্টিকর এবং বৈচিত্র্যময় খাবারের ব্যবস্থা করার পরিকল্পনা রয়েছে। 
প্রসঙ্গত, দেশের প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ জানিয়েছিলেন, দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ধাপে ধাপে ‘মিড-ডে মিল’ কর্মসূচি চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। ইতোমধ্যে সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলায় এই কর্মসূচি চালু করা হয়েছে, পরবর্তী পর্যায়ে তা দেশের সব সরকারি স্কুলে বাস্তবায়ন করা হবে। স্থানীয় সচেতন মহল মনে করেন, এ ধরনের উদ্যোগ শুধু শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য ও পুষ্টি নিশ্চিত করছে না, বরং পড়াশোনার মানও উন্নত করছে এবং স্কুলে নিয়মিত উপস্থিতি বাড়াচ্ছে।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ