খুলনা | মঙ্গলবার | ০৭ এপ্রিল ২০২৬ | ২৪ চৈত্র ১৪৩২

সয়াবিন তেল নিয়ে সিন্ডিকেটের কারসাজি রোধে কঠোর ব্যবস্থা নিন

|
১২:০৮ এ.এম | ০৬ এপ্রিল ২০২৬


আবারও অস্থির হয়ে উঠেছে দেশের ভোজ্যতেলের বাজার। বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম আরেক দফা বাড়াতে নতুন করে কারসাজি শুরু করেছে সিন্ডিকেট। বস্তুত রমজান মাসের শুরু থেকেই এ চক্রটি পরিকল্পিতভাবে ডিলারদের মাধ্যমে খুচরা বাজারে তেলের সরবরাহ কৃত্রিমভাবে কমিয়ে দেয়।
ফলে ঈদের পর বাজারে আবারও বোতলজাত সয়াবিন তেলের সংকট তৈরি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, বড় কোম্পানিগুলো সরবরাহ কমিয়ে দিয়ে সরকারকে চাপে ফেলার চেষ্টা করছে, যার মূল উদ্দেশ্য ভোজ্যতেলের দাম বাড়ানো। সাধারণ মানুষের পকেট কাটার এই পুরোনো খেলা নতুন করে শুরু হওয়া কেবল উদ্বেগজনক নয়, এটি জনস্বার্থের পরিপন্থি।
লক্ষ্য করা যায়, যখনই আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়ার সামান্য অজুহাত তৈরি হয় কিংবা কর ছাড়ের মেয়াদ শেষ হওয়ার উপক্রম হয়, তখনই দেশের বড় সরবরাহকারীরা ভোজ্যতেলের সরবরাহ কমিয়ে দেয়। আমদানিকারকদের অজুহাত-পরিবহণ সংকটের কারণে ভোজ্যতেল সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে; পণ্যবাহী ট্রাক চাহিদামতো ডিজেল পাচ্ছে না; মাসখানেক আগেই নাকি আন্তর্জাতিক বাজারে ভোজ্যতেলের দাম বেড়েছে ইত্যাদি।
কিন্তু প্রশ্ন হলো, গুদামে মজুত থাকা আগের কম দামে কেনা তেল কেন হুট করে বাজার থেকে গায়েব হয়ে যাবে? এটি স্পষ্টতই একটি সুপরিকল্পিত কারসাজি। সাধারণ ভোক্তাদের জিম্মি করে ব্যবসায়ীদের এ ধরনের কর্মকাণ্ড মেনে নেওয়া যায় না। জানা যায়, পাঁচ থেকে ছয়টি কোম্পানি সিন্ডিকেট করে এ সংকট তৈরি করেছে। সরকারের উচিত অবিলম্বে তাদের চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়া। কৃত্রিম সংকট তৈরি করে সরকারকে ব্ল্যাকমেইল করার প্রমাণ পেলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স বাতিলসহ দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি ভোজ্যতেলের বিকল্প আমদানির ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। মুষ্টিমেয় কয়েকজন আমদানিকারকের ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে টিসিবির মাধ্যমে সরাসরি আমদানি বৃদ্ধি করতে হবে।
খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখা সরকারের দায়িত্ব। কোনো গোষ্ঠীস্বার্থ যাতে জনস্বার্থকে গ্রাস করতে না পারে, সেদিকে কঠোর নজর দিতে হবে। বোতলজাত সয়াবিন তেলের এ সংকটের পেছনে যারা কলকাঠি নাড়ছে, তাদের চিহ্নিত করে এখনই এর লাগাম টেনে ধরা প্রয়োজন। অন্যথায় সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়বে।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ