খুলনা | মঙ্গলবার | ০৭ এপ্রিল ২০২৬ | ২৪ চৈত্র ১৪৩২

মঙ্গলবারের সময়সীমা শেষ সুযোগ, ইরানের প্রস্তাব যথেষ্ট নয়: ট্রাম্প

খবর প্রতিবেদন |
১১:০৮ পি.এম | ০৬ এপ্রিল ২০২৬

 

যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া শর্ত মানার জন্য মঙ্গলবার পর্যন্ত দেওয়া সময়সীমা চূড়ান্ত বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যুদ্ধের ইতি টানতে ইরান একটি প্রস্তাব দিলেও তা ‘যথেষ্ট নয়’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন তিনি। হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প এসব কথা বলেন। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এ খবর জানিয়েছে।

হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার দাবিতে ট্রাম্প এর আগেও কয়েকবার সময়সীমা নির্ধারণ করে তা পিছিয়ে দিয়েছিলেন। তবে এবারের মঙ্গলবারের সময়সীমাকে তিনি চূড়ান্ত বলে ঘোষণা দিয়েছেন।

যুদ্ধের সমাপ্তি টানতে ইরানের দেওয়া প্রস্তাবের বিষয়ে ট্রাম্প বলেন, তারা একটি প্রস্তাব দিয়েছে এবং এটি বেশ গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। তবে এটি যথেষ্ট নয়। তারা যদি যা করার কথা তা করে, তবে এই যুদ্ধ খুব দ্রুত শেষ হতে পারে। তাদের নির্দিষ্ট কিছু কাজ করতে হবে, যা তারা ভালো করেই জানে।

তিনি আরও বলেছেন ইরান ‘সদিচ্ছা’ নিয়েই আলোচনা করছে বলে তিনি মনে করেন।

যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়া প্রসঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, তার কাছে ‘অনেক বিকল্প’ রয়েছে। তিনি হুমকি দিয়ে বলেন, আমরা যদি এখনই ফিরে আসি, তবে তাদের যা ছিল তা পুনর্নির্মাণ করতে ১৫ বছর সময় লাগবে। আমি এখনই চলে যেতে পারি, কিন্তু আমি এর শেষ দেখতে চাই।

তিনি আবারও জোর দিয়ে বলেন, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে পারবে না। উল্লেখ্য, ইরান বরাবরই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।

সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প স্বীকার করেন যে, তার প্রশাসন গত ডিসেম্বর ও জানুয়ারিতে ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভকারীদের সাহায্য করতে অস্ত্র পাঠিয়েছিল। তিনি বলেন, জনগণের আত্মরক্ষার লড়াইয়ের জন্য এই অস্ত্রগুলো পাঠানো হয়েছিল। তবে সেই অস্ত্রগুলো কারা নিজেদের দখলে রেখেছে, তা তিনি স্পষ্ট করেননি।

ইরানের বিশাল তেল সম্পদ নিয়ে নিজের আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করে ট্রাম্প বলেন, আমেরিকানরা চায় আমরা বাড়িতে ফিরে যাই। কিন্তু আমার ওপর ছেড়ে দিলে আমি সব তেল দখল করে নিতাম এবং তা নিজের কাছে রাখতাম। এতে অনেক অর্থ আয় হতো।

ট্রাম্প দাবি করেন যে যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে ‘ধ্বংস’ করে দিচ্ছে। তিনি বলেন, আমি এটা করতে চাই না, কিন্তু আমরা তাদের নিশ্চিহ্ন করছি। তাদের কোনও সেতু থাকবে না, কোনও বিদ্যুৎকেন্দ্র থাকবে না, তাদের কিছুই থাকবে না। আমি এর চেয়েও খারাপ কিছু করতে পারি, যা এখন বলছি না।

আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী বেসামরিক অবকাঠামোতে হামলা চালানো একটি ‘যুদ্ধাপরাধ’ হিসেবে গণ্য হয়। তবে যারা এই যুদ্ধের বিরোধিতা করছেন, ট্রাম্প তাদের ‘নির্বোধ’ বলে অভিহিত করেছেন। তার মতে, এই যুদ্ধের একমাত্র লক্ষ্য হলো ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র থেকে দূরে রাখা।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ