খুলনা | মঙ্গলবার | ০৭ এপ্রিল ২০২৬ | ২৪ চৈত্র ১৪৩২

সাতক্ষীরায় উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে শিশুদের সর্দি-জ্বর, কাশি, নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়ার প্রকোপ

নিজস্ব প্রতিবেদক, সাতক্ষীরা |
০১:১৪ এ.এম | ০৭ এপ্রিল ২০২৬


সাতক্ষীরায় শিশুদের মধ্যে ডায়রিয়া, সর্দি, কাশি, জ্বর ও নিউমোনিয়ার প্রকোপ উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। এসব রোগে আক্রান্ত হয়ে গত ২৩ দিনে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে শিশু ওয়ার্ডে ১১৩২ জন শিশু এবং ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে ২৪২ জন শিশু হাসপাতালের ডায়রিয়া ওয়ার্ডে ভর্তি হয়েছে। চিকিৎসকরা বলছেন, মৌসুম পরিবর্তনের কারণে শিশুদের মধ্যে এই ধরনের রোগ দ্রুত ছয়িয়ে পড়ছে।
সাতক্ষীরা সদর হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, গত ১৫ মার্চ থেকে চলতি এপ্রিল মাসের ৬ তারিখ পর্যন্ত মোট ২৩ দিনে ১ হাজার ১৩২ জন শিশু সর্দি, কাশি, জ্বর ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে ভর্তি হয়েছে। ধারাবাহিকভাবে চিকিৎসা গ্রহণের পর বর্তমানে হাসপাতালে ভর্তি আছে ৬৭ জন। একই সময় হাসপাতালের ডায়রিয়া ওয়ার্ডে ভর্তি হয়েছে ২৪২ জন শিশু। বর্তমানে ভর্তি আছে ২২ জন। 
এদিকে, হঠাৎ রোগীর চাপ বেড়ে যাওয়ায় সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের শিশু ও ডায়রিয়া ওয়ার্ডে কিছুটা চাপ সৃষ্টি হয়েছে। পর্যাপ্ত বেড খালি না থাকায় অনেককে বারান্দায় থেকে চিকিৎসা সেবা নিতে হচ্ছে। তবুও চিকিৎসা সেবা স্বাভাবিক রাখতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
শিশু বাচ্চাকে নিয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা নিতে আসা সাতক্ষীরা সদর উপজেলার নলকুড়া গ্রামের মো. গোলাম মোস্তফা জানান, এখন থেকে ৩/৪ দিন আগে হঠাৎ করে তার ১৯ মাস বয়সি শিশু সন্তান তাকরিমের গায়ে জ্বর আসে। প্রথমে স্থানীয় চিকিৎসকের দেখিয়েছিলাম। কিন্তু কোন কাজ হয়নি। দুইদিন আগে হঠাৎ করে জ্বরের সাথে খিচুনি শুরু হলে তাকে সদর হাসপাতালে নিয়ে আসি। বর্তমানে এখানে তার চিকিৎসা চলছে। এখন মোটামুটি ভাল আছে। 
শ্যামনগর উপজেলার কৈখালি গ্রামের সেলিম হোসেন জানান, আমার মেয়ে সামিরা সুলতানা (৫) এর জ্বরের সাথে সর্দি ও কাশি দেখা দিলে দেরি না করে দুই দিন আগে হাসপাতালে এনে ভর্তি করাই। আমাদের বাড়ি সাতক্ষীরা শহর থেকে প্রায় ৭০ কিলোমিটার দূরে। এই বাচ্চার অসুস্থতা দেখা দিলে দেরি না করেই হাসপাতালে নিয়ে আসি। এখন সে ভাল আছে। 
একই উপজেলার আটুলিয়া গ্রামের শরিফুল ইসলাম বলেন মেয়ে আজমিরার বয়স সাড়ে ৫ বছর। তিনদিন আগে হঠাৎ করে জ্বরের সাথে তার খিচুনি দেখা দেয়। এসময় আর দেরি না করে ওই দিনই তাকে সদর হাসপাতালে এনে ভর্তি করাই। কিন্তু বেড না থাকায় থাকতে হচ্ছে বারান্দায়। সেখানেই তার চিকিৎসা চলছে।
তালা উপজেলার ইসলামকাটি গ্রামের সবুজ গাজী জানান, তার ছেলে মাহিম হুসাইন (৫) এর জ্বরের সাথে খিচুনি দেখা দিলে তাকে নিয়ে সদর হাসপাতালে শিশু ওয়ার্ডে ভর্তি করাই। গত তিনদিন ধরে বাচ্চাকে নিয়ে হাসপাতালে আছি। বেড খালি না থাকায় অসুস্থ বাচ্চাকে নিয়ে হাসপাতালের বারান্দায় থাকতে হচ্ছে। একই উপজেলার মির্জাপুর গ্রামের আবুল হাসান জানান, জ্বর, সর্দি ও কাশি উপসর্গ নিয়ে ৩ বছর বয়সি মেয়ে আজিহাকে নিয়ে আসি সদও হাসপাতালে আসি। চিকিৎস্যক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে বলেন, তার নিউমোনিয়া হয়েছে। মেয়েকে নিয়ে চারদিন ধরে হাসপাতালে আছি।
সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের শিশু বিশেষজ্ঞ ডাঃ রিয়াদ হাসান জানান, শীতের শেষের দিকে অর্থাৎ রোজার সময় এসব রোগের প্রকোপ খুবই কম ছিল। বর্তমানে মৌসুম পরিবর্তনের কারণে শিশুদের মধ্যে এই ধরনের রোগ দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে। বিশেষ করে ঠান্ডা-গরমের তারতম্য, আবহাওয়ার অস্থিরতা এবং সচেতনতার অভাব এর জন্য দায়ী। অনেক ক্ষেত্রে অভিভাবকরা প্রাথমিক পর্যায়ে চিকিৎসা না নিয়ে দেরিতে হাসপাতালে আসায় রোগ জটিল আকার ধারণ করছে।
সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু বিশেষজ্ঞ ডাঃ শামছুর রহমান বাচ্চাদের ডায়রিয়া, সর্দি, কাশি, জ্বর ও নিউমোনিয়ার মত রোগ প্রতিরোধে অভিভাবকদের প্রতি পরামর্শ দিয়ে বলেছেন, শিশুদের ঠান্ডা থেকে রক্ষা করা, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা, সুসম খাবার খাওয়ানো এবং কোনো লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া জরুরি।
তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে আরো বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না আনলে সামনে এই সংখ্যা আরও বাড়েেত পারে। তাই এখনই সচেতনতা বৃদ্ধি এবং প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা জোরদার করা জরুরি বলে উল্লেখ করেন তিনি।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ