খুলনা | বুধবার | ০৮ এপ্রিল ২০২৬ | ২৪ চৈত্র ১৪৩২

লোডশেডিং সহনীয় রাখতে হবে

|
১২:৩৪ এ.এম | ০৮ এপ্রিল ২০২৬


গ্যাসের সংকট কয়েক বছর ধরেই চলে আসছে। বছরখানেক আগে তা এতটাই তীব্র হয় যে কোনো কোনো শিল্পাঞ্চলে গ্যাসভিত্তিক কারখানায় সক্ষমতার তুলনায় উৎপাদন প্রায় অর্ধেকে নেমে আসে। ‘গোদের ওপর বিষফোড়া’র মতো এখন যোগ হয়েছে মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের কারণে জ্বালানি তেলের সংকট। ডিজেলের অভাবে বোরো মৌসুমে কৃষক জমিতে ঠিকমতো সেচ দিতে পারছেন না।
পরিবহন ব্যাহত হচ্ছে, ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে। সেসবের প্রভাবে বাজারে প্রায় প্রতিটি জিনিসের দাম বাড়ছে। অর্থাৎ মানুষের ভোগান্তি ক্রমেই তীব্র হচ্ছে। সর্বশেষ ভোগান্তির নাম হচ্ছে লোডশেডিং। ক্রমেই বিদ্যুতের ঘাটতি বাড়ছে, সেই সঙ্গে বাড়ছে লোডশেডিং।
পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, গরম যত বাড়ছে, লোডশেডিংও তত বাড়ছে। গ্রামাঞ্চলে প্রতিদিন গড়ে চার-পাঁচ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ থাকছে না। জ্বালানি সরবরাহে বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা অব্যাহত থাকলে পরিস্থিতি আরো খারাপ হওয়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
পরিস্থিতি সামাল দিতে এরই মধ্যে দোকানপাট খোলা রাখার সময় নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। প্রথমে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত করা হলেও পরে দোকান মালিকদের অনুরোধে তা ৭টা পর্যন্ত করা হয়েছে। অফিসের সময়সূচি কমিয়ে আনা হয়েছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান তিন দিন অনলাইন করার চিন্তা-ভাবনা হচ্ছে। ব্যয় এবং জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে আরো অনেক রকম পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের অবসান না হলে এবং জ্বালানি সরবরাহে স্থিতিশীলতা না এলে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া দিন দিনই কঠিন হবে। গ্রীষ্মের তাপমাত্রা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে লোডশেডিং পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।
জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সঞ্চালনের দায়িত্বে থাকা রাষ্ট্রীয় সংস্থা পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ পিএলসির তথ্য বলছে, দেশে কয়েক দিন ধরে তাপমাত্রা বাড়ায় বিদ্যুতের চাহিদাও বাড়ছে। কয়েক দিন ধরে দিনে-রাতে বিদ্যুতের চাহিদা সাড়ে ১৩ হাজার থেকে ১৫ হাজার মেগাওয়াট পর্যন্ত ওঠানামা করছে। গত মার্চে গড়ে বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১২ হাজার মেগাওয়াটের মতো। গরম যত বাড়বে, বিদ্যুতের চাহিদাও তত বাড়তে থাকবে।
দেশে জ্বালানি তেল ভিত্তিক (ফার্নেস অয়েল) বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রগুলোর মিলিত সক্ষমতা পাঁচ হাজার মেগাওয়াট। জানা যায়, তেলের সরবরাহ ব্যাহত হলে আগামী ২০ এপ্রিলের পর এসব কেন্দ্র বন্ধ হয়ে যাবে। তখন ঘাটতি আরো তীব্র হবে এবং লোডশেডিং আরো বাড়বে।
অন্যদিকে জ্বালানিসংকট অব্যাহত থাকলে তার প্রভাব পড়বে বাজারে। অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নিজেই স্বীকার করেছেন, জ্বালানিসংকটের কারণে আগামী দিনে নিত্যপণ্যের দাম বাড়তে পারে। তিনি বলেন, দীর্ঘ সময় ভর্তুকির মাধ্যমে বাজার নিয়ন্ত্রণ করাও হয়তো সম্ভব হবে না। এরই মধ্যে বাজারের যে চিত্র আমরা দেখতে পাচ্ছি, তাতে খারাপ কিছু আশঙ্কা করার যথেষ্ট যুক্তিসংগত কারণও আছে।
মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের প্রভাব শুধু বাংলাদেশে নয়, সারা পৃথিবীতেই কমবেশি পড়েছে। অন্যান্য দেশ যেভাবে পরিস্থিতি সামাল দিচ্ছে, আমাদেরও সেভাবে এগিয়ে যেতে হবে। আমরা মনে করি, নানা উৎস থেকে তেল সংগ্রহ করে একটি বড় আপৎকালীন মজুদ গড়ে তুলতে হবে। অপচয় বন্ধ করতে হবে। যারা তেলের অবৈধ মজুদ গড়ে তুলছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। অযৌক্তিকভাবে নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধির প্রবণতা কঠোরভাবে রোধ করতে হবে।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ