খুলনা | বুধবার | ০৮ এপ্রিল ২০২৬ | ২৪ চৈত্র ১৪৩২

‘জ্বালানি তেলের সরবরাহ জনিত কিছুটা সমস্যা আছে’

অ্যাপের মাধ্যমে কিনতে হবে : ডাঃ জাহেদ

খবর প্রতিবেদন |
০১:২৩ এ.এম | ০৮ এপ্রিল ২০২৬


জ্বালানি তেল কেনার জন্য একটি অ্যাপ তৈরি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় বিষয়ক উপদেষ্টা ডাঃ জাহেদ উর রহমান। মঙ্গলবার সচিবালয়ের তথ্য অধিদফতরে বর্তমান সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রম ও সমসাময়িক নানা ইস্যুতে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা জানান।
জ্বালানি খাত নিয়ে বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা প্রসঙ্গে ডাঃ জাহেদ উর রহমান বলেন, বিভিন্ন দেশে জ্বালানির মূল্য বাড়ালেও বাংলাদেশ সরকার এখনো বাড়ায়নি। তবে আগামী মাসে জ্বালানি মূল্য সমন্বয় করা হবে কি-না, সেটি পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করছে।
প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় বিষয়ক উপদেষ্টা বলেন, বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি সরবরাহে কিছুটা সংকট আছে। তবে এতটা সংকট নেই, যার কারণে লম্বা লাইন হচ্ছে। মূলত তেলের অবৈধ মজুত হচ্ছে এবং পাচারের চেষ্টা চলছে। এজন্য কিছুটা সংকট দেখা দিয়েছে।
তবে জ্বালানি তেল কেনার জন্য একটি অ্যাপ তৈরি হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, অ্যাপের মাধ্যমেই কিনতে হবে। এর ফলে কে কতটা তেল কিনবেন, কখন কতটা কিনলেন, সেই তথ্য সংরক্ষিত থাকবে।
বিদ্যুতের ঘাটতি না থাকলেও শহরে অনিয়ন্ত্রিতভাবে অটোরিকশা চলতে পারে না জানিয়ে ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, বিপদজনক এ যানবাহনটির ফিটনেস নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে, অপর দিকে চালকরাও প্রশিক্ষিত নয়। অনেক দুর্ঘটনা ঘটছে অটোরিকশার কারণে। বিপদজনক এ যানবাহনের বিকল্প নিয়ে ভাবছে সরকার।
স্বল্পোন্নত দেশের (স্বল্পোন্নত দেশ) তালিকা থেকে উত্তরণে বাংলাদেশ এখনো প্রস্তুত নয় জানিয়ে তিনি বলেন, বৈশ্বিক পরিস্থিতি এবং অর্থনৈতিক সংকটের কারণে এলডিসি থেকে উত্তরণে সরকারের পরিকল্পনা নেই।
দেশে জ্বালানি তেল সরবরাহজনিত কিছুটা সমস্যা রয়েছে বলে জানিয়েছেন ডাঃ জাহেদ উর রহমান। তিনি বলেন, জ্বালানি সংকট বাড়তে থাকলে অফিস, মার্কেটসহ সবক্ষেত্রেই কঠিন সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। সচিবালয়ের তথ্য অধিদপ্তরে মঙ্গলবার এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন তথ্য উপদেষ্টা।
তথ্য উপদেষ্টা বলেন, ‘আমাদের মধ্যে এই ভীতি বা সংশয় আছে যে, জ্বালানির সরবরাহ কি অনেক কমে গেছে? যে আমরা এত বড় লাইন দেখছি, এটা কি জ্বালানি দেওয়া হচ্ছে না? কোশ্চেন এটা। যদি আমরা তুলনা করি ২০২৫ এবং ২০২৬-এর মধ্যে। ডিজেল ২০২৫ সালে সরবরাহ করা হয়েছিল ৩ লাখ ৯৬ হাজার ৯৮ মেট্রিক টন। মার্চে ৩ লাখ ৬৩ হাজার ৫১২ মেট্রিক টন। কিছুটা কমেছে তো বটেই, কিন্তু সেটা খুব সিগনিফিক্যান্টলি কমে গেছে তা না। অকটেন ৩৬ হাজার ৯৮২ মেট্রিক টন ছিল ২০২৫ এর মার্চে। মানে আমরা দু’টো বছরের মার্চকে তুলনা করছি।’
জাহেদ উর রহমান বলেন, অকটেনের সরবরাহ বরং খানিকটা বেড়েছে ৩৭ হাজার ৪৩৯ মেট্রিক টন। পেট্রোলে গত বছর মার্চে ছিল ৪৬ হাজার ৩৭১ মেট্রিক টন, এটা এই মার্চে হলো ৩৯ হাজার ৯৯৮ মেট্রিক টন। এটার সরবরাহ কিছুটা কমেছে।
তিনি বলেন, ‘তার মানে আমরা এটা বলতে চাই আমাদের সরবরাহজনিত কিছুটা সমস্যা আছে, কিছুটা। শব্দটা আসলেই কিছুটা। ৪৬ হাজার থেকে যখন ৩৯ হাজার হয়, ৭ হাজার কমে আসে। ৭ হাজার কমে আসলে এটা ১০ পারসেন্টের খানিকটা বেশি, ১৫ পারসেন্টের মতো একটু কম সরবরাহ আছে। এটা বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে আমার মনে হয় খুব আনইউজুয়াল না। কিন্তু এই যে পেট্রোল নেই, অকটেন নেই, একেবারে খারাপ অবস্থা পরিস্থিতিটা ও রকম না।’
তথ্য উপদেষ্টার পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীর পলিসি এ্যান্ড স্ট্রাটেজি এবং সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টার দায়িত্বে জাহেদ উর রহমান বলেন, ‘এটার জন্য যেটা আমরা দাবি করেছি যে প্রচুর অবৈধ মজুত হয়। অনেকেই আশঙ্কার কথা বলেছেন, অবৈধ মজুত, যেটা হচ্ছে সেটার কারণ খারাপ উদ্দেশ্য আছে। কারোর খারাপ উদ্দেশ্য আছে, সেটা হচ্ছে তারা কেউ কেউ পাচার বা বেশি মূল্যে বিক্রি করতে চান।’
সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে বাড়ি বা বিভিন্ন স্থানে পণ্য বেশি মজুত থাকার বিষয়টি পাচারের সম্ভাবনার একটি পরিস্থিতিগত ইঙ্গিত হিসেবে ধরা যেতে পারে বলে মন্তব্য করেন তথ্য উপদেষ্টা।
তিনি বলেন, অনেকেই যৌক্তিকভাবে প্রশ্ন তুলছেন পার্শ্ববর্তী দেশের তুলনায় আমাদের জ্বালানির দাম কম হলে পাচারের ঝুঁকি থাকে। তবে এর চেয়েও বড় বিষয় হলো মানুষের শঙ্কা; ভবিষ্যতের চিন্তায় অনেকেই অতিরিক্ত কিনে মজুত করছেন। অর্থাৎ মূলত এটি প্যানিক বায়িং ও মজুত করার প্রবণতা।
জ্বালানি তেল অবৈধ মজুতের বিরুদ্ধে অভিযানের তথ্য তুলে ধরে উপদেষ্টা বলেন, ৬ এপ্রিল সকালে মজুতের পরিমাণ ছিল ডিজেল ১ লাখ ১৪ হাজার ১২২ মেট্রিক টন, অকটেন ১০ হাজার ১৫১ মেট্রিক টন, পেট্রোল ১৩ হাজার ৮০৫ মেট্রিক টন।
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে আগের থেকেই বড় অঙ্কের ভর্তুকি জমা আছে জানিয়ে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার সময়ই এই খাতে ৪৫ হাজার কোটি টাকার বেশি বোঝা ছিল, যা জ্বালানিমন্ত্রীও উলে­খ করেছিলেন। এখনো এই ভর্তুকি চালু আছে এবং জ্বালানির দাম স্থিতিশীল রাখতে সরকারকে আরও ভর্তুকি বাড়াতে হচ্ছে। ফলে পরিস্থিতি এখনো পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি।
বর্তমানে বিদ্যুৎ খাতে বকেয়ার তথ্য তুলে ধরে উপদেষ্টা বলেন, বেসরকারি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের (আইপিপি) কাছে বকেয়া ২০ হাজার ২৭২ কোটি টাকা, আদানি পাওয়ার-এর কাছে ২ হাজার ৯০৪ কোটি টাকা, জয়েন্ট ভেঞ্চারে ৬ হাজার ৪৩৪ কোটি টাকা, পেট্রোবাংলার কাছে ১০ হাজার ৪৫ কোটি টাকা এবং সরকারি বিদ্যুৎ কোম্পানিগুলোর কাছে ৭ হাজার ৩০৩ কোটি টাকা বকেয়া রয়েছে।
তিনি বলেন, ‘সব মিলিয়ে বড় ধরনের ভর্তুকির চাপ রয়েছে। সরকার চেষ্টা করছে এই চাপ ম্যানেজ করতে, যাতে সাধারণ মানুষের ওপর প্রভাব যতটা সম্ভব কম রাখা যায় তবে কিছুটা চাপ থাকবেই।’
জ্বালানি সংকট নিয়ে এক প্রশ্নের তথ্য উপদেষ্টা বলেন, ‘জ্বালানির মূল্য সারা পৃথিবীর অনেকে বাড়ালেও আমরা অন্তত আরও একমাসের জন্য বাড়াচ্ছি না। আমরা আরেকটু অপেক্ষা করতে চাইছি।’
তথ্য উপদেষ্টা বলেন, ‘নতুন সরকার জ্বালানির মূল্য বাড়িয়ে যে সংকটগুলো হতে পারে সেটা না করে দেখা। যদি সংকট বাড়তে থাকে এই অফিস বলেন বা মার্কেট বলেন সব ক্ষেত্রেই আমরা হয়তো আরও টাফার (কঠিন) সিদ্ধান্ত নেব বা নিতে হতে পারে। এটা গুরুত্বপ‚র্ণ কেন নিচ্ছি, নিয়ে কি অর্জন করছি এই বার্তাগুলো জনগণের কাছে ভালোভাবে কমিউনিকেট করতে হবে, আপনাদের মাধ্যমে আমরা সেই চেষ্টা অবশ্যই করবো।’

প্রিন্ট

আরও সংবাদ