খুলনা | বুধবার | ০৮ এপ্রিল ২০২৬ | ২৪ চৈত্র ১৪৩২

দাম বাড়ানো নিয়ে সংসদে যে বার্তা দিলেন জ্বালানি মন্ত্রী

‘জ্বালানি তেলের পর্যাপ্ত মজুত আছে চলতি মাসে আরও আসবে’

খবর প্রতিবেদন |
০১:২৪ এ.এম | ০৮ এপ্রিল ২০২৬


ইরানে যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই দেশের জ্বালানি তেলের মজুত নিয়ে জনসাধারণের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে জ্বালানি তেলের সংকট না থাকার দাবি করা হলেও ফিলিং স্টেশনগুলোতে যানবাহনের দীর্ঘ লাইন, গ্রাহক-বিক্রেতার বিবাদ ও সংঘর্ষের অভিযোগ-সব মিলিয়ে এক ধরনের অস্বস্তি তৈরি হয়েছে।
এমন অবস্থার মধ্যে মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু আবারো বলেন, দেশে পর্যাপ্ত জ্বালানি তেল মজুত আছে এবং চলতি মাসে আরও তেল আসবে। সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সরকার সম্ভাব্য সব উৎস থেকে জ্বালানি সংগ্রহ করছে বলে জানান তিনি।
তিনি বলেন, সরকার সম্ভাব্য সব উৎস খুঁজে দেশে সব ধরনের তেলের স্বাভাবিকতা অব্যাহত রেখেছে। শুধু তাই নয় বর্তমানে আমাদের জ্বালানির পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে।
মন্ত্রী বলেন ‘বর্তমানে বাংলাদেশে ১ লাখ ৬৪ হাজার ৬৪৪ মেট্রিকটন ডিজেল মজুত আছে। ৩০ এপ্রিলের মধ্যে ১ লাখ ৩৮ হাজার মেট্রিকটন ডিজেল দেশে আসবে। ‘অকটেন মজুত আছে ১০ হাজার ৪০০ মেট্রিকটন। চলতি মাসের মধ্যে আসবে ৭১ হাজার মেট্রিকটন। আর পেট্রোল মজুত আছে ১৬ হাজার মেট্রিকটন । ৩০ এপ্রিলের মধ্যে আসবে ৩৬ হাজার মেট্রিকটন।’
অবৈধ মজুত ও কালোবাজারি ঠেকাতে অভিযান অব্যাহত আছে জানিয়ে জ্বালানিমন্ত্রী বলেন, গত এক মাসে অভিযানে ৪০ লাখ ৪৮ হাজার ৪৬৫ লিটার তেল উদ্ধার করা হয়েছে।
জ্বালানি তেলের দাম সমন্বয়ের একটি নিয়ম রয়েছে এবং তা প্রতি মাসে পর্যালোচনা করা হয় বলে জানিয়েছেন জ্বালানি মন্ত্রী টুকু। তিনি বলেন, আগামী মাসে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হবে কি না-সে বিষয়ে মন্ত্রিসভা বৈঠকে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। বর্তমানে বাংলাদেশই একমাত্র দেশ যেখানে জ্বালানি তেলের দাম অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।
জ্বালানি মন্ত্রী বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে উদ্ভ‚ত রাজনৈতিক অস্থিরতা মার্কিন ইসরায়েলি যৌথ হামলার পরিপ্রেক্ষিতে ইরান কর্তৃক স্টেটে অব হরমুজ জাহাজ চলাচলের বিধি-নিষেধ আরোপ করায় বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে বিঘœ ঘটেছে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্যে অস্বাভাবিক অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। আন্তর্জাতিক নৌপথে জাহাজ চলাচলে নিরাপত্তার ঝুঁকি বৃদ্ধি পেয়েছে। এই পরিস্থিতিতে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে অস্থিতিশীলতা পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। 
ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, উদ্বুদ্ধ পরিস্থিতি মোকাবিলায় দক্ষিণ এশিয়ার প্রায় সব দেশই হিমশিম খাচ্ছে। পাকিস্তান ইতোমধ্যে ৫০% পর্যন্ত তেলের দাম বৃদ্ধি করেছে। শ্রীলঙ্কা রেশনিং পদ্ধতি চালু করেছে। কর্মঘণ্টা কমিয়ে দিয়েছে। ভারত, আফগানিস্তান, ভুটান, মালদ্বীপ, নেপাল ইতোমধ্যে জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধি করেছে। অর্থাৎ একমাত্র বাংলাদেশি জ্বালানি তেলের মূল্য স্বাভাবিক রেখেছে। বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের মূল্য অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেলেও দেশের শিল্প জাত উৎপাদন কৃষি কার্যক্রম ও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার কথা বিবেচনা করে সরকার এপ্রিল মাসে জ্বালানি তেলের মূল্য অপরিবর্তিত রেখেছে। 
তিনি বলেন, কৃষকদের ডিজেল প্রাপ্তির নিশ্চিত করতে সেচ কার্ডের নেয় কৃষি কার্ড প্রদানে জেলা প্রশাসকদের নির্দেশ করা হয়েছে। 
মন্ত্রী জানান, জ্বালানি তেলের অবৈধ মজুত অতিরিক্ত বিক্রি রোদে মোবাইল কোর্ট পরিচালনার জন্য সব জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জ্বালানি তেল সরবরাহ ও মনিটরিং করার জন্য জেলা বিপিসি মন্ত্রণালয় বিজনেস টিম ও মনিটরিং টিম গঠন করা হয়েছে। প্রতিদিন সকাল সাড়ে ৯টা থেকে জেলা প্রশাসকদের সমন্বয়ে জ্বালানি তেলের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে জুম অ্যাপসের মাধ্যমে সভা করা হচ্ছে। জ্বালানি তেলের পাচার অবৈধ মজুত বন্ধ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জ্বালানি তেলের সুষ্ঠু সরবরাহের লক্ষ্যে প্রতিটি ফিলিং স্টেশনে ট্যাগ অফিসার নিয়োগ করা হয়েছে। দেশীয় খনিজ সম্পদের যথাযথ ব্যবহারের লক্ষ্যে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে ও বাস্তবায়িত হচ্ছে। প্রাকৃতিক গ্যাসের সুষ্ঠু বণ্টন নিশ্চিত করা হচ্ছে। 
তিনি আরও বলেন, ইতোমধ্যে জ্বালানি তেলের অবৈধ মজুত বন্ধের লক্ষ্যে ৩ মার্চ থেকে ৪ এপ্রিল ৩৪২টি অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। যার মধ্যে ২ হাজার ৪৫৬টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। ৩১ জনকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এই সব অভিযানে এক কোটি ২৫ লাখ ৩৯ টাকার অর্থদণ্ড আদায় করা হয়েছে। ৪০ লাখ ৪৮ হাজার ৪৫৬ লিটার জ্বালানি তেল উদ্ধার করা হয়েছে। যার মধ্যে ডিজেল ৩ লাখ ৩৩ হাজার, অকটেন ১০৭ লিটার, পেট্রোল ৩৬ হাজার ৪০৫ লিটার উদ্ধার করা হয়েছে। জ্বালানি তেলের অবৈধ মজুত বন্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ