খুলনা | বৃহস্পতিবার | ০৯ এপ্রিল ২০২৬ | ২৫ চৈত্র ১৪৩২

পরকীয়ার প্রতিবাদ করায় স্ত্রীকে কুপিয়ে হত্যা, স্বামীর যাবজ্জীবন

নিজস্ব প্রতিবেদক |
০৫:১১ পি.এম | ০৮ এপ্রিল ২০২৬

 

কুষ্টিয়া ইবি থানায় স্ত্রী হত্যা মামলায় স্বামী আব্দুল আওয়ালের (৪২) যাবজ্জীন কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরও এক বছর কারাদণ্ডের আদেশ দেন।

বুধবার (৭ এপ্রিল) দুপুর ১২টায় কুষ্টিয়া জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. এনায়েত কবীর সরকার দণ্ডপ্রাপ্ত আসামির উপস্থিতিতে আদালতে এই রায় ঘোষণা করেন।

সাজাপ্রাপ্ত আব্দুল আওয়াল ৪২ কুষ্টিয়া সদর উপজেলার হরিনারায়ন পুর কুন্ডুপাড়া গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল করীম বিশ্বাসের ছেলে।

মামলা এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০২০ সালের ২৯ জানুয়ারি সকালে ৩ সন্তানের জননী স্ত্রী শাহানা খাতুন ওরফে জাহানারা খাতুনের (৩০) সঙ্গে আসামির পরকীয়া সম্পর্কের জের ধরে ঝগড়া বিবাদ সৃষ্টি হয়। নিহত শাহানা তার স্বামীর পরকীয়া প্রেমিকাকে গালি দিয়ে এই অবৈধ সম্পর্কের প্রতিবাদ করে। এতে নিহতের স্বামী আসামি আব্দুল আওয়াল তার নিজ বাড়ি সদর উপজেলার হরিনায়নপুর কুন্ডুপাড়ায় প্রকাশ্যে বাড়ির অন্যান্যদের সম্মুখে ধারালো আসুয়া দিয়ে স্ত্রী শাহানা খাতুনের দেহের বিভিন্নস্থানে উপর্যুপরি কুপিয়ে গুরুতর রক্তাক্ত জখম করে। এতে স্ত্রী ঘটনাস্থলেই মারা যান। ঘটনার সময় আসামির মা ঠেকাতে গেলে আসামি তার মাকেও হাসুয়া দিয়ে কুপিয়ে জখম করেন। এ সময় চিৎকার শুনে আশপাশের প্রতিবেশীরা ছুটে এসে আসামিকে আটক করে নিকটস্থ ইবি থানা পুলিশে খবর দেয়। সংবাদ পেয়ে ইবি থানার পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে প্রেরণ করেন এবং আসামি আব্দুল আওয়ালকে থানায় নিয়ে যান।

এ ঘটনায় নিহতের বড় ভাই ঘটনার দিনেই সদর উপজেলার উত্তর মাগুরা গ্রামের মৃত আব্দুল জলিলের ছেলে শফিউদ্দিন বাদী হয়ে আব্দুল আওয়ালকে একমাত্র এজাহার নামীয় আসামি করে ইবি থানার হত্যা মামলা দায়ের করেন।

মামলাটি তদন্ত শেষে ইবি থানার উপ-পুলিশ পরিদর্শক শাহ আলী মিয়া ২০২০ সালের ৩ মার্চ মামলার একমাত্র আসামি আব্দুল আওয়ালের বিরুদ্ধে হত্যাকাণ্ডে জড়িত অভিযোগ এনে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন।

রাষ্ট্রপক্ষের কৌসুলি অ্যাডভোকেট খন্দকার সিরাজুল ইসলাম বলেন, স্ত্রী শাহানা খাতুন হত্যা মামলায় অভিযুক্ত আসামি আব্দুল আওয়ালের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ ও দীর্ঘদিন স্বাক্ষ্য শুনানি শেষে প্রমাণিত হওয়ায় তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডসহ ৫০ হাজার টাকার জরিমানা অনাদায়ে আরও ১ বছরের সাজা খাটার আদেশ দেন।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ