খুলনা | বৃহস্পতিবার | ০৯ এপ্রিল ২০২৬ | ২৫ চৈত্র ১৪৩২

লেবাননে হামলা বন্ধ না করলে ইসরায়েলকে ‘কঠোর জবাব’ দেওয়ার হুমকি ইরানের

খবর প্রতিবেদন |
১১:১৬ পি.এম | ০৮ এপ্রিল ২০২৬

 

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি চললেও লেবাননে ব্যাপক হামলা চালিয়েছে যাচ্ছে ইসরায়েল। দখলদার বাহিনীর শতাধিক বিমান হামলায় লেবাননে রাজধানী বৈরুত ও দেশটির দক্ষিণাঞ্চলে বিভিন্ন স্থানে কয়েকশ মানুষ নিহত ও আহত হয়েছেন। এই পরিস্থিতে অবিলম্বে লেবাননে হামলা বন্ধ করতে ইসরায়েলকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরানের ইসলামীক বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)

ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম নিউজে প্রকাশিত এক বিবৃতি আইআরজিসি বলেছে, ‘আমাদের প্রিয় লেবাননের ওপর আগ্রাসন অবিলম্বে বন্ধ করা না হলে, আমরা এই অঞ্চলের দুষ্ট আগ্রাসনকারীদের কঠোর জবাব দেব।’

অন্যদিকে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র বলেছেন, ‘লেবাননের ওপর ইসরায়েলি আগ্রাসন বন্ধ করার জন্য আমরা আজকের দিন পর্যন্ত সময়সীমা ঘোষণা করছি। যদি এই আক্রমণ অব্যাহত থাকে, তবে আগামী শুক্রবারের আলোচনা আমাদের পক্ষ থেকে বাতিল বলে গণ্য হবে এবং আমরা তাতে অংশ নেব না।’

এছাড়াও নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ইরানের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা আলজাজিরাকে বলেছেন, ‘লেবাননে ইসরায়েলের কর্মকাণ্ড এবং যুদ্ধবিরতির শর্ত ভঙ্গের জবাবে আমরা শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেব।’

তিনি আরও বলেন, ‘যুদ্ধবিরতিতে পুরো অঞ্চল অন্তর্ভুক্ত। আর ইসরায়েল কথা ভঙ্গ করার জন্য পরিচিত। তাদের শুধুমাত্র বুলেট দিয়েই প্রতিহত করা যাবে।’

এদিকে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ফার্স নিউজ এজেন্সি এক অজ্ঞাত সামরিক সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের ঘটনায় ইসরায়েলের বিরুদ্ধে পাল্টা জবাব দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে তেহরান। পরিস্থিতি ক্রমেই উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে উঠছে এবং বিষয়টি নিয়ে আরও বিস্তারিত তথ্য পাওয়া গেলে তা জানানো হবে।

অন্যদিকে লেবাননে ইসরায়েলি হামলার জেরে হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেলবাহী ট্যাংকার চলাচল আবারও বন্ধ হয়ে গেছে বলে জানিয়েছে বিভিন্ন ইরানি সংবাদমাধ্যম।

ফার্স নিউজ জানিয়েছে, বুধবার সকালে ইরানের অনুমতি নিয়ে দুটি তেলের ট্যাংকার এই প্রণালি অতিক্রম করতে পারলেও, বর্তমানে ট্যাঙ্কার চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

এরআগে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকরের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই মাত্র ১০ মিনিটের ব্যবধানে লেবাননের রাজধানী বৈরুত ও দেশটির দক্ষিণাঞ্চলে বিভিন্ন স্থানে একসঙ্গে ১০০টিরও বেশি বিমান হামলা চালায় দখলদার বাহিনী। এতে কয়েকশ মানুষ নিহত ও আহত হয়েছেন।

ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ বলেছেন, ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী লেবানন জুড়ে হিজবুল্লাহর কমান্ড সেন্টারগুলোতে থাকা শত শত সন্ত্রাসীর ওপর একটি আকস্মিক হামলা চালিয়েছে।

হিজবুল্লাহর প্রধান নাঈম কাসেমকে হত্যার হুমকি দিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘আমরা নাঈম কাসেমকে সতর্ক করেছিলাম যে, ইরানের হয়ে ইসরায়েলে হামলা চালানোর জন্য হিজবুল্লাহকে কঠিন মূল্য দিতে হবে, আজ আমরা সেই প্রতিশ্রুতির আরও একটি ধাপ পূরণ করলাম। শীর্ষ সন্ত্রাসী নাঈম কাসেমের ব্যক্তিগত সময়ও ঘনিয়ে আসবে।’

লেবাননের রেড ক্রস জানিয়েছে, তাদের ১০০টি অ্যাম্বুলেন্স হামলা মোকাবেলায় নিয়োজিত রয়েছে এবং তাদের দলগুলো আহতদের হাসপাতালে স্থানান্তরের কাজ করছে।

দেশটির স্বাস্থ্যমন্ত্রী রাকান নাসেরেদ্দিন আল জাজিরাকে বলেছেন ‘বৈরুতে ও অন্যান্য জায়গায় ইসরায়েলের হামলার কারণে হাসপাতালগুলো নিহত ও আহত মানুষে ভরে উঠেছে।’

লেবাননে আল জাজিরা আরবির ব্যুরো প্রধান মাজেন ইব্রাহিম বলেছেন, ১৯৮২ সালে ইসরায়েলের বৈরুত আক্রমণের কথা অনেকের মনে পড়েছে। বৈরুতের এমন সব এলাকাকে লক্ষ্য করে চালানো হয়েছিল, যেগুলোকে ঐতিহ্যগতভাবে হিজবুল্লাহর সাথে কোনোভাবেই সম্পর্কিত বলে মনে করা হয় না।

ইসরায়েল ঘনবসতিপূর্ণ এলাকাগুলোতে হামলা চালাচ্ছে এবং অসহায় বেসামরিক নাগরিকদের হত্যা করছে উল্লেখ করে লেবাননের প্রধানমন্ত্রী নওয়াফ সালাম বলেছেন, ‘ইসরায়েল যুদ্ধ বন্ধের সকল আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টাকে সম্পূর্ণরূপে উপেক্ষা করছে। পাশাপাশি তারা আন্তর্জাতিক আইন এবং আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের নীতিগুলোকেও চরম অবজ্ঞা করছে, যা তারা কোনোকালেই মেনে চলেনি।’

লেবাননের সকল মিত্র ও আন্তর্জাতিক গোষ্ঠীদের সম্ভাব্য সকল উপায়ে ইসরায়েলের এই আগ্রাসন বন্ধে পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

মুলত, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে আচমকা হামলা চালায় ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র। জবাবে ইরানও পাল্টা হামলা চালায়। দেশটি মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে থাকা মার্কিন ঘাঁটি এবং ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে ব্যাপক হামলা চালায়। দুইদিন পরই ইরানের প্রতি সমর্থন জানিয়ে ইসরায়েলি ভূখণ্ডে হামলা চালায় লেবানিজ সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর। প্রতিক্রিয়ায় দেশটিতে অবিরত হামলা চালিয়ে আসছে ইসরায়েল।  

দীর্ঘ ৩৯ দিন ধরে চলা এই যুদ্ধ অবশেষে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় দুই সপ্তাহের জন্য স্থগিত হয়েছে। যুদ্ধবিরতির চুক্তিতে এই চুক্তিতে লেবানন ফ্রন্টকেও অন্তর্ভুক্ত করার জন্য ইরানের প্রতি আহ্বান জানিয়েছিল লেবানিজ সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ। ইরান যে ১০ দফার শর্তের ভিত্তিতে যুদ্ধবিরতির রাজি হয়েছে- এগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো লেবাননসহ সব রণাঙ্গনে সংঘাত বন্ধ করতে হবে।

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফও সামাজিক মাধ্যমে এক পোস্টে জানান, লেবাননসহ সর্বত্র যুদ্ধবিরতি কার্যকর হবে। কিন্তু লেবানন নিয়ে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ভিন্নমন পোষণ করেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু। তিনি বলেন, লেবাননে যুদ্ধবিরতির বিষয়টি এতে অন্তর্ভুক্ত নয়।
সূত্র: আলজাজিরা, বিবিসি

প্রিন্ট

আরও সংবাদ