খুলনা | বৃহস্পতিবার | ০৯ এপ্রিল ২০২৬ | ২৫ চৈত্র ১৪৩২

‘ভুল তথ্য দিয়ে জাতিকে আতঙ্কিত করা যাবে না’

বিগত দুই সরকারের ব্যর্থতায় হামের প্রকোপ বাড়ছে : সংসদে স্বাস্থ্যমন্ত্রী

খবর প্রতিবেদন |
০১:৫০ এ.এম | ০৯ এপ্রিল ২০২৬


স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মোঃ সাখাওয়াত হোসেন বলেন, বিগত দুই সরকারের ব্যর্থতার কারণে হামের প্রকোপ বেড়েছে, রিকভার হচ্ছে আল­াহর রহমতে। প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে আমরা বাংলাদেশের শিশুদের জন্য প্র্রয়োজনীয় টিকা সংগ্রহ করতে সক্ষম হ্রয়েছি।
বুধবার জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ১১তম দিনে সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানার প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে প্রশ্নোত্তর টেবিলে উপস্থাপন করা হয়।
মন্ত্রী আরও বলেন, টিকা পোর্টাররা, যারা গত ৯ মাস যাবত বেতন পাচ্ছেন না, তাদের বেতন পর্যায়ক্রমে পরিশোধ করা শুরু হয়েছে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও বলেন, ৫ এপ্রিল থেকে ঝুঁকিপূর্ণ উপজেলাগুলোতে টিকা কার্যক্রম চালানোর জন্য ৩৪ লাখ ৮৩ হাজার ডোজ টিকা বিতরণ করা হ্রয়েছে। এক ভায়ালে ১০ ডোজ টিকা দেওয়া যায়। হাম-রুবেলা টিকা ক্যাম্পেইনের জন্য সরকার সর্বমোট ২ কোটি ১৯ লাখ ডোজ টিকা সংগ্রহ করেছে। সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণের জন্য যথেষ্ট পরিমাণ টিকা আমাদের আছে এবং কোল্ড চেইন রক্ষা করা হচ্ছে।
তিনি রুমিন ফারহানাকে উদ্দেশ্য করে বলেন, মাননীয় সংসদ সদস্য, জাতিকে যদি আমরা খুব ভয় দেখাই, তাহলে কিন্তু জাতি রোগাগ্রস্ত হ্রয়ে যায়। রোগীর পাশে পজেটিভ কথা বলতে হবে। আমারও কিন্তু ছোটবেলায় হাম হয়েছে, নিশ্চয় আপনারও হয়েছে, সকল বাচ্চাদের হাম হয়, কিন্তু আমরা সবাই মরে যাইনি, আমাদের কিন্তু এখন দীর্ঘায়ু আরও বৃদ্ধি প্রেয়েছে, ইনশাআল­াহ। একদিকে নিউট্রিশন কমে যায়, আরেকদিকে নিউট্রিশন বৃদ্ধি পায় আমাদের দেহে, এবং আল­াহতায়লা আমাদের রেজিস্ট্যান্স বৃদ্ধি করে দেন। আর আমাদের যে হাম হচ্ছে, আপনি যথার্থ বলেছেন, বিগত দুই সরকারের ব্যর্থতার কারণে হাম হ্রয়েছে, রিকভার হচ্ছে আল­াহর রহমতে।
তিনি আরও বলেন, আমাদের অগ্রগতি কোভিড-পরবর্তী সময়ে নিয়মিত টিকাদানে মারাত্মক পতন এবং হামজনিত ‘ইমিউন অ্যামনেসিয়া’র শরীরবৃত্তীয় ঝুঁকি এসব উদ্বেগ একেবারেই যথার্থ। তবে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার স্বাস্থ্য খাতকে অগ্রাধিকার দ্রিয়ে বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব প্রদান করেছে। প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে আমরা বাংলাদেশের শিশুদের জন্য প্র্রয়োজনীয় টিকা সংগ্রহ করতে সক্ষম হয়েছি।
দেশে চলমান হামের প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় দেশব্যাপী টিকাদান কর্মসূচি নির্ধারিত সময়ের ১৪ দিন এগিয়ে আনা হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী। আগামী ৩ মে’র পরিবর্তে ২০ এপ্রিল থেকেই সারা দেশে একযোগে এই কর্মসূচি শুরু হবে।
সংসদে রুমিন ফারহানা দেশে হামে শিশুমৃত্যুর হার বৃদ্ধি এবং কেন্দ্রীয় গুদামে ১০টি অত্যাবশ্যকীয় টিকার মজুত শূন্য হয়ে যাওয়ার বিষয়টি উত্থাপন করেন। তিনি অভিযোগ করেন, বিসিজি, পেন্টা, পিসিভি ও এমআরসহ ছয়টি টিকার মজুত বর্তমানে শূন্য এবং বাকি দু’টি দিয়ে জুন পর্যন্ত চলবে।
জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা শূন্য মজুত থেকে কাজ শুরু করেছি, এটি সত্য। বিগত সরকারের সময় ভ্যাকসিন সরবরাহ ব্যবস্থায় ব্যাঘাত এবং ক্রয় প্রক্রিয়ায় ব্যর্থতার কারণে এ ঘাটতি তৈরি হয়েছিল। তবে আমরা এরই মধ্যে জরুরি ভিত্তিতে ব্যবস্থা নিয়েছি। এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের (এডিবি) অব্যবহৃত ৬০৪ কোটি টাকা হাম-রুবেলাসহ জরুরি ভ্যাকসিন কেনার জন্য পুনর্বিন্যাস করা হয়েছে।’
মন্ত্রী জানান, ইউনিসেফের মাধ্যমে আরও ৪১৯ কোটি টাকার ভ্যাকসিন ক্রয় প্রক্রিয়া চ‚ড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। এরই মধ্যে ২০০ কোটি টাকার ভ্যাকসিন আনা হয়েছে। সংরক্ষণের সুবিধার্থে সরকার এখন সিংগেল ডোজের পরিবর্তে ১০ ডোজের মাল্টিডোজ ভায়ালে যাচ্ছে।
রুমিন ফারহানার দেওয়া মৃত্যুর পরিসংখ্যান নিয়ে ভিন্নমত পোষণ করে মন্ত্রী বলেন, ‘ভুল তথ্য দিয়ে জাতিকে আতঙ্কিত করা যাবে না। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও ইউনিসেফের যৌথ সমীক্ষা অনুযায়ী নিশ্চিতভাবে হামে মারা গেছে ৪১ জন। সংক্রমণের হটস্পট হিসেবে ঢাকা নয়, বরং বরগুনা, বরিশাল, কক্সবাজার ও নেত্রকোণা অঞ্চল চিহ্নিত হয়েছে। সেসব এলাকায় আমরা জরুরি ভিত্তিতে ৩৪ লাখ ৮৩ হাজার ডোজ টিকা পাঠিয়েছি।’
টিকা সংকটের ভবিষ্যৎ আশঙ্কার জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও বলেন, ‘গ্যাবি (এধার)-এর মাধ্যমে আমরা ২ কোটি ১৯ লাখ ডোজ টিকা পেয়েছি। ভ্যাকসিনের মজুত এখন স্থিতিশীল। টিকার কোনো ঘাটতি আর হবে না। বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের লুটপাটের কারণে কোল্ড চেইন ব্যবস্থাপনা নষ্ট হয়েছিল, যা আমরা দ্রুত পুনর্গঠন করছি।’
এদিন অধিবেশনের শুরুতেই রুমিন ফারহানা পোর্টার ও স্বাস্থ্যকর্মীদের বকেয়া বেতন এবং মাঠ পর্যায়ের জনবল সংকটের কথা তুলে ধরলে মন্ত্রী জানান, ৫ দিন আগেই পোর্টারদের বেতন দেওয়া শুরু হয়েছে এবং সহকারী স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের পদমর্যাদা বৃদ্ধির বিষয়টি সরকারের বিবেচনায় রয়েছে।
 

প্রিন্ট

আরও সংবাদ