খুলনা | বৃহস্পতিবার | ০৯ এপ্রিল ২০২৬ | ২৫ চৈত্র ১৪৩২

মোংলায় গোডাউনে র‌্যাবের সাঁড়াশি অভিযান

বিপুল পরিমাণ তেল জব্দসহ জরিমানা

মোংলা প্রতিনিধি |
০২:১৬ এ.এম | ০৯ এপ্রিল ২০২৬


মোংলায় ইউছুপসহ বেশ কয়েকজন ব্যাবসায়ী অবৈধভাবে জ¦ালানী ও ভোজ্য তেল মজুদের মাধ্যমে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরির চেষ্টা করছিল এমন গোপন অভিযোগ আসে প্রশাসনের কাছে। গোপন এই তথ্যের সূত্রধরে তেল মজুদের অপচেষ্টা রুখতে অভিযান পরিচালনা করেছে র‌্যাব ও উপজেলা প্রশাসন। জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই) এর গোপন তথ্যের ভিত্তিতে বুধবার বিকেলে মোংলা বন্দরের পার্শ্ববর্তী এলাকায় এই সাঁড়াশি অভিযান চালানো হয়। অভিযানে এক হাজার লিটার জ্বালানি তেল ও বিপুল পরিমাণ ভোজ্য তেল জব্দ করার পাশাপাশি অসাধু ব্যবসায়ীদের বড় অংকের জরিমানা করে ভ্রাম্যমাণ আদালত। অবৈধ মজুদ করা এ তেল বাজারে সংকট তৈরি না করে দ্রুত ছেড়ে দেয়ারও নির্দেশ প্রদান করে প্রশাসনের কর্মকর্তারা। 
র‌্যাব ও উপজেলা প্রশাসন গোয়েন্দা তথ্যে সূত্রে জানায়, দীর্ঘদিন ধরে মোংলার কিছু অসাধু ব্যবসায়ী জ্বালানি ও ভোজ্য তেল অবৈধভাবে মজুদ করে আসছিল এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এনএসআই-এর একটি চৌকস দল তথ্য সংগ্রহ করে। পরবর্তীতে র‌্যাব-৬ এবং উপজেলা প্রশাসন যৌথভাবে এই অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানের নেতৃত্ব প্রদান করেণ মোংলা উপজেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নওসিনা অরিফ। অভিযান চলাকালে মোংলায় সিন্ডিকেট তৈরী করা ব্যাবসায়ী ‘ইউছুপের তেলের গোডাউন’ থেকে অবৈধভাবে মজুদ করে রাখা এক হাজার লিটার জ্বালানি তেল জব্দ করা হয়। এরপর একে একে তল্লাশি চালানো হয় বিভিন্ন বড় পাইকারি দোকানেও। মুদি বাজারের সোভা স্টোরে অভিযান চালিয়ে সেখান থেকে অবৈধ মজুদ করা ৭৫ ব্যারেল ভোজ্য তেল উদ্ধার করে যৌথ অভিযান পরিচালনাকারী প্রশাসন। পরে মেসার্স জালাল স্টোর নামের প্রতিষ্ঠান থেকে ১৩৫ ব্যারেল ভোজ্য তেল জব্দ করা হয়।
সংশ্লিষ্টরা জানান জব্দকৃত এসব তেলের কোনো বৈধ কাগজপত্র কিংবা মজুদ রাখার যৌক্তিক কারণ দেখাতে পারেননি ব্যবসায়ীরা। মূলত বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে অধিক মুনাফার আশায় তারা এই তেল মজুদ গড়ে তুলেছিলেন।
অভিযানকারীরা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী, অবৈধভাবে তেল মজুদ রাখা এবং দোকানে সঠিক মূল্য তালিকা প্রদর্শন না করার অপরাধে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নওসিনা আরিফ ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে গোডাউন মালিক ইউছুপকে ৫০ হাজার, জালাল ষ্টোরকে ৬০ হাজার, সোভা ষ্টোরকে ১৫ হাজার ও একটি মটরজানকে এক হাজারসহ মোট ১ লক্ষ ২৬ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালত তাৎক্ষণিকভাবে জরিমানার টাকা আদায় করেন এবং জব্দকৃত তেলগুলো দ্রুত সরকারের নির্ধারিত মূল্যে বাজারে বিক্রির নির্দেশনা প্রদান করেণ। 
অভিযান শেষে র‌্যাব ও নির্বাহী মেজিস্ট্রেট উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি নওসিনা আরিফ জানায় অবৈধ জ¦ালানী তেল মজুদকারী ইউছুপকে প্রথমবারের মতো সাবধান করা হয়েছে। তার উপরে গোয়েন্দা নজরদারী রাখা হচ্ছে, সে মোংলা বন্দরে কি ব্যবসা করছে এবং কোন ধরনের ব্যবসার সাথে জড়িত তাও ক্ষতিয়ে দেখা হচ্ছে। এর পরেও যদি ইউছুপ অবৈধভাবে জ¦ালানী মজুদ রেখে বাজারে সংকট তৈরি করে তা হলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিবে প্রশাসন।
এছাড়া অন্যান্য ব্যবসায়ীরা সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বাড়িয়ে যারা নিত্যপণ্যের বাজার অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে, তাদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। এনএসআই ও র‌্যাবের গোয়েন্দা নজরদারি অব্যাহত রয়েছে এবং এ ধরনের অভিযান আগামীতে আরও কঠোরভাবে পরিচালনা করা হবে। মোংলার সাধারণ মানুষ প্রশাসনের এই পদক্ষেপকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। তারা মনে করেন নিয়মিত বাজার মনিটরিং ও এ ধরনের ঝটিকা অভিযান অব্যাহত থাকলে অসাধু সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য বন্ধ হবে।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ