খুলনা | শুক্রবার | ১০ এপ্রিল ২০২৬ | ২৬ চৈত্র ১৪৩২

আবু সাঈদ ভেবেছিলেন সামনে মানুষ, কিন্তু তারা অমানুষ হয়ে গিয়েছিল : ট্রাইব্যুনাল

খবর প্রতিবেদন |
০১:২৭ এ.এম | ১০ এপ্রিল ২০২৬


জুলাই গণআন্দোলনের প্রথম শহীদ আবু সাঈদের বীরত্ব ও নির্মম হত্যাকান্ডের ঘটনায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল এক ঐতিহাসিক রায় ও পর্যবেক্ষণ প্রদান করেছেন। রায় পড়ার প্রাক্কালে ট্রাইব্যুনাল মন্তব্য করেছেন, যে পুলিশ সদস্যদের সামনে আবু সাঈদ বুক পেতে দাঁড়িয়েছিলেন, তারা সেদিন ‘অমানুষে’ পরিণত হয়েছিল।
বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরী রায়ের শুরুতে এ মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, ‘আবু সাঈদ দুই হাত প্রসারিত করে অকুতোভয় চিত্তে দাঁড়িয়েছিলেন।
তিনি বিশ্বাস করেছিলেন তার সামনে যারা দাঁড়িয়ে আছে তারা মানুষ, তাই তার কোনো ক্ষতি হবে না। কিন্তু তিনি তখন বুঝতে পারেননি যে, সেই মানুষগুলো অমানুষ হয়ে গেছে।’ 
এদিন দুপুর সোয়া ১২টার দিকে মামলার সংক্ষিপ্ত রায় পড়া শুরু হয়। ট্রাইব্যুনালের বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর এ রায় পাঠ করেন।
দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে দুপুর ১২টা ৩২ মিনিটে বহুল প্রতীক্ষিত এ মামলার রায় ঘোষণা করা হয়।
রায় ঘোষণার সময় মামলার প্রধান ছয় আসামিকে কড়া নিরাপত্তায় ট্রাইব্যুনালের কাঠগড়ায় হাজির করা হয়। অভিযুক্তরা হলেন-সাবেক এএসআই আমির হোসেন, শরিফুল ইসলাম (বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক প্রক্টর), সুজন চন্দ্র রায় (কনস্টেবল), ইমরাস চৌধুরী (ছাত্রলীগ নেতা), রাফিউল হাসান রাসেল, আনোয়ার পারভেজ।
২০২৪ সালের জুলাই মাসে কোটা সংস্কার আন্দোলন চলাকালে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে পুলিশের গুলিতে দুই হাত প্রসারিত অবস্থায় শহীদ হন আবু সাঈদ। তার সেই বীরত্বগাঁথা মুহ‚র্তের ভিডিওটি সারা বিশ্বে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্রতীক হয়ে দাঁড়ায়। আজকের এ রায়ের মাধ্যমে সেই আত্মত্যাগের বিচারিক স্বীকৃতির পথে এক বড় ধাপ অতিক্রম করলো বাংলাদেশ।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ