খুলনা | শুক্রবার | ১০ এপ্রিল ২০২৬ | ২৭ চৈত্র ১৪৩২

চলতি অর্থবছরে দেশের প্রবৃদ্ধি হবে ৪ শতাংশ: এডিবি

খবর প্রতিবেদন |
০৫:০০ পি.এম | ১০ এপ্রিল ২০২৬

 

চলতি ২০২৫–২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি ৪ শতাংশে পৌঁছাতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। একই সঙ্গে সংস্থাটি বলেছে, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের কারণে তৈরি হওয়া সাময়িক সরবরাহ বিঘ্ন ধীরে ধীরে কমে আসবে এবং অর্থনৈতিক কার্যক্রম পুনরুদ্ধার পাবে।

শুক্রবার (১০ এপ্রিল) প্রকাশিত এডিবির সর্বশেষ এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট আউটলুক (এডিও) প্রতিবেদনে এ পূর্বাভাস তুলে ধরা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৪–২৫ অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি ৩ দশমিক ৫ শতাংশে সীমিত থাকার পর চলতি অর্থবছরে তা বেড়ে ৪ শতাংশ হতে পারে। আগামী ২০২৬–২৭ অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি আরও বাড়িয়ে ৪ দশমিক ৭ শতাংশে পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে।

এডিবির মতে, ভোগব্যয় ও বিনিয়োগ ধীরে ধীরে পুনরুদ্ধার হওয়ায় প্রবৃদ্ধিতে উন্নতি দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে সাধারণ নির্বাচনের পর রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা কমে আসা এবং অর্থনৈতিক কার্যক্রম স্বাভাবিক হওয়া এতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

এডিবির কান্ট্রি ডিরেক্টর হো ইউন জিয়ং বলেন, বাংলাদেশ বর্তমানে বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা, অভ্যন্তরীণ কাঠামোগত সীমাবদ্ধতা এবং বহিঃখাতের চাপসহ একটি কঠিন অর্থনৈতিক পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।

তার মতে, নতুন সরকারের সংস্কার কর্মসূচি সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা জোরদার, বেসরকারি খাতের আস্থা পুনরুদ্ধার এবং অর্থনীতির পুনরুদ্ধারে সহায়ক হতে পারে। ধারাবাহিক সংস্কার কার্যক্রম অব্যাহত থাকলে অর্থনীতি আরও স্থিতিস্থাপক হয়ে অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধির পথে ফিরে যেতে পারবে।

এডিবির পূর্বাভাস অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরে দেশের গড় মূল্যস্ফীতি প্রায় ৯ শতাংশে থাকতে পারে। বৈশ্বিক জ্বালানি মূল্য বৃদ্ধি এবং সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্নের কারণে এ চাপ অব্যাহত থাকবে।

তবে আগামী অর্থবছরে মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমে ৮ দশমিক ৫ শতাংশে নেমে আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বৈশ্বিক চাপ কমে আসা এবং অভ্যন্তরীণ সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি এ ক্ষেত্রে সহায়ক হতে পারে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশের চলতি হিসাবের ঘাটতি জিডিপির প্রায় শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ হতে পারে। আগামী অর্থবছরে এটি সামান্য বেড়ে ০ দশমিক ৬ শতাংশে দাঁড়াতে পারে, যা আমদানি বৃদ্ধি ও বাণিজ্য ঘাটতি সম্প্রসারণের ফলে হতে পারে।

তবে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা থাকা সত্ত্বেও স্বল্পমেয়াদে প্রবাসী আয়ের প্রবাহ স্থিতিশীল থাকবে বলে আশা করছে এডিবি।

এডিবির মতে, শক্তিশালী রেমিট্যান্স প্রবাহ, নির্বাচন-পরবর্তী সরকারি ব্যয় বৃদ্ধি এবং ব্যবসা সহজীকরণে সরকারের উদ্যোগ ভোগব্যয় ও বিনিয়োগে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

সরবরাহের দিক থেকে সেবা খাতের পুনরুদ্ধার প্রবৃদ্ধিকে ত্বরান্বিত করতে পারে। পাশাপাশি গৃহস্থালির ক্রয়ক্ষমতা বৃদ্ধি, সামাজিক সুরক্ষা ব্যয় বাড়ানো এবং আর্থিক খাতের সংস্কারও ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

অনুকূল আবহাওয়া ও নীতিগত সহায়তা অব্যাহত থাকলে কৃষি খাতেও উৎপাদন স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসতে পারে। একই সঙ্গে রপ্তানি বৃদ্ধি, সরবরাহ বাধা কমে আসা এবং অবকাঠামো ও জ্বালানি খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধির ফলে শিল্প খাতেও প্রবৃদ্ধি বাড়তে পারে।

তবে এডিবি সতর্ক করে বলেছে, বৈশ্বিক ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা দীর্ঘস্থায়ী হলে অর্থনীতির ওপর নতুন চাপ তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে জ্বালানি বাজার, শিপিং রুট এবং সরবরাহ শৃঙ্খলে বিঘ্ন ঘটলে তেল ও গ্যাসের দাম বাড়তে পারে। এর ফলে দেশে মূল্যস্ফীতির চাপ আরও বাড়তে পারে এবং অর্থনৈতিক নীতিনির্ধারণ জটিল হয়ে উঠতে পারে।

এ ছাড়া আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম বেশি থাকলে এবং ভর্তুকির চাপ বাড়লে সরকারের বাজেট ঘাটতিও বাড়তে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ