খুলনা | শুক্রবার | ১০ এপ্রিল ২০২৬ | ২৭ চৈত্র ১৪৩২

জ্বালানিতে অতিরিক্ত ৩৬ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দিতে হতে পারে: অর্থমন্ত্রী

খবর প্রতিবেদন |
০৬:৫৭ পি.এম | ১০ এপ্রিল ২০২৬

 

অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের কারণে জ্বালানির বাজার অস্থির হয়ে উঠেছে। ফলে সরকারকে অতিরিক্ত ৩৬ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দিতে হতে পারে, যা বাজেট ও রিজার্ভ—দুটির ওপরই চাপ তৈরি করবে। এই ভর্তুকি একদিকে যেমন সরকারের বাজেট ঘাটতি বাড়ানোর দিকে যাবে, অন্যদিকে সমপরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর প্রভাব ফেলবে।

আজ শুক্রবার জাতীয় সংসদে ৩০০ বিধিতে দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক চিত্র তুলে ধরে দেওয়া বিবৃতিতে এসব কথা বলেন অর্থমন্ত্রী। মন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের নানা আর্থিক অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা ও দুর্নীতির চিত্র উঠে আসে। সদ্য বিদায়ী অন্তর্বর্তী সরকারের সময়কালের আর্থিক খাতের চিত্রও বর্ণনা করেন অর্থমন্ত্রী।

আমীর খসরু বলেন, ‘একটি আমদানিনির্ভর অর্থনীতি হিসেবে বাংলাদেশ এই বাস্তবতার বাইরে নয়। এই অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় জনগণকে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ ব্যবহারে সাশ্রয়ী হতে বেশ কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে সরকার। বৈশ্বিক বাজারে জ্বালানির উচ্চমূল্যের কারণে অতিরিক্ত ভর্তুকি দেওয়ার প্রয়োজন হলেও সরকার জনগণের কষ্টের কথা মাথায় রেখেছে। এখন পর্যন্ত পূর্ণ সমন্বয় না করে আগের মূল্যই বহাল রেখেছে। এই প্রতিকূল বৈশ্বিক পরিবেশের মধ্যে আমাদের অর্থনীতিকে সামনে এগিয়ে নিতে হবে। আমরা অর্থনীতির বিভিন্ন ক্ষেত্রে শৃঙ্খলা স্থাপন ও নানামুখী চাপ মোকাবিলা করে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট প্রণয়নের কাজ হাতে নিয়েছি।’

অর্থমন্ত্রী বলেন, বিগত সরকারের আমলে বাস্তবায়িত মেগা প্রকল্পগুলো এ ক্ষেত্রে বিশেষভাবে উল্লেখ্য। ফলে জনগণ সেই বিনিয়োগের প্রত্যাশিত সুফল ভোগ করতে পারছে না। এর মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা বিদেশে পাচার হয়েছে।

মন্ত্রী আরও বলেন, সরকারি ক্ষেত্রে একটি অস্বাস্থ্যকর পরিবর্তন পরিলক্ষিত হয়, যেখানে ঋণের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা এবং তুলনামূলক উচ্চ সুদের ব্যয় সরকারের বাজেট ব্যবস্থাপনায় চাপ সৃষ্টি করে।

অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু তাঁর বক্তব্যে স্বীকার করেন, অর্থনীতির চ্যালেঞ্জগুলো গভীর ও বহুমাত্রিক। তবে তিনি আশা প্রকাশ করেন, সুশাসন, সংস্কার এবং জনগণের অংশগ্রহণের মাধ্যমে এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণ সম্ভব।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ