খুলনা | শনিবার | ১১ এপ্রিল ২০২৬ | ২৮ চৈত্র ১৪৩২

আশাশুনির কাকবসিয়ায় দ্রুত এগিয়ে চলেছে পাউবো’র ভেড়িবাঁধের ভাঙন পয়েন্টে জিও ব্যাগ ডাম্পিংয়ের কাজ

নিজস্ব প্রতিবেদক, সাতক্ষীরা |
১১:৫৬ পি.এম | ১০ এপ্রিল ২০২৬


সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার আনুলিয়া ইউনিয়নের কাকবসিয়া এলাকায় ভেড়িবাঁধের ভাঙন মেরামতে জরুরি ভিত্তিতে কাজ শুরু করেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) কর্তৃপক্ষ। ইতোমধ্যে খোলপেটুয়া নদীর ভাঙন পয়েন্টের ৬২ মিটার এলাকা জুড়ে বালু ভর্তি জিও ব্যাগ ডাম্পিংয়ের কাজ শুরু করা হয়েছে। আগামী ২/৩ দিনের মধ্যে ভাঙন পয়েন্টে জিও ব্যাগ ডাম্পিংয়ের কাজ শেষ হবে বলে আশা করছে পাউবো কর্তৃপক্ষ। 
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, খোলপেটুয়া নদীর প্রবল স্রোতের টানে গত রোববার (৫ এপ্রিল) সকালে সাতক্ষীরার পাউবো বিভাগ-২ এর আওতাধীন ৭/২ পোল্ডারের কাকবসিয়া খেয়াঘাটের উত্তর পাশে প্রায় ৫০ মিটার এলাকা জুড়ে ভেড়িবাঁধে হঠাৎ ধ্বস দেখা দেয়। এতে করে বাঁধের গোড়া থেকে মাটি ধ্বসে নদী গর্ভে বিলিন হয়ে যায়। ক্রমশঃ ভাঙন দীর্ঘায়িত হয়ে প্রায় ৬২ মিটার এলাকা জুড়ে বিস্তৃতি লাভ করে। 
আনুলিয়া নিউ মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারি প্রধান শিক্ষক মোঃ আবু দাউদ মোড়ল জানান, খোলপেটুয়া নদীর প্রবল স্রোতের টানে রোববার সকালের দিকে কাকবসিয়া খেয়াঘাটের উত্তর পাশে পাউবো’র ভেড়িবাঁধের গোড়ায় হঠাৎ করে ধ্বস দেখা দেয়। কিছুক্ষণের মধ্যে বাঁধের গোড়া থেকে প্রায় ৫০ মিটার এলাকা জুড়ে মাটি ধ্বসে নদী গর্ভে চলে যায়। সাথে সাথে ভাঙনের বিষয়টি স্থানীয় সংসদ সদস্য মুহাদ্দিস রবিউল বাশার ও পাউবো কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়। 
এদিকে হঠাৎ করে ভেড়িবাঁধে ধ্বস দেখা দেওয়ায় ওই এলাকায় বসবাসকারি জনসাধারণের মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তারা দ্রুত ভাঙন পয়েন্টে বালু ভর্তি জিও ব্যাগ ডাম্পিং করার জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষকে খবর দেয়। বিষয়টি অবগত হওয়ার সাথে সাথে সাতক্ষীরা পাউবো বিভাগ-২ এর কর্মকর্তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে বাঁধের ভাঙন মেরামতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেন।
খোলপেটুয়া নদীর ভেড়িবাঁধের ভাঙন মেরামতে একটি প্যাকেজের মাধ্যমে ঠিকাদার নিয়োগ পূর্বক জরুরি ভিত্তিতে কাজ শুরু করে পাউবো কর্তৃপক্ষ। স্থানীয় সংসদ সদস্যের প্রতিনিধি ও পাউবো কর্তৃপক্ষের তদারকিতে গত দুইদিন ধরে ভাঙন পয়েন্টে বালু ভর্তি জিও ব্যাগ ডাম্পিংয়ের কাজ চলছে। আগামী ২/৩ দিনের মধ্যে জিও ব্যাগ ডাম্পিংয়ের কাজ শেষ হতে পারে বলে জানা গেছে। 
সাতক্ষীরার পাউবো বিভাগ-২ এর সেকশন অফিসার আলমগীর হোসেন জানান, খবর পেয়ে আমরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে ভাঙন পয়েন্টে বালু ভর্তি জিও ব্যাগ ডাম্পিংয়ের কাজ শুরু করি। পরে একজন ঠিকাদার নিয়োগের মাধ্যমে সেখানে কাজ চলছে। আশা করছি দ্রুত ভাঙন প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে।
সাতক্ষীরার পাউবো বিভাগ-২ এর নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ আব্দুর রহমান তাযকিয়া বলেন, তার বিভাগের আওতাধীন ৭/২ পোল্ডারের কাকবসিয়া খেয়াঘাটের উত্তর পাশে খোলপেটুয়া নদীর ভেড়িবাঁধের বাইরে একটি মাটির ঘর ছিল। রোববার সকালে হঠাৎ করে ওই ঘরের পাশে ভেড়িবাঁধের গোড়ায় ধ্বস দেখা দেয়। একপর্যায় প্রায় ৬২ মিটার এলাকা জুড়ে ভেড়িবাঁধের গোড়ার মাটি নদীতে ধ্বসে পড়ে। বিষয়টি জানার পর ভাঙনরোধে আমার দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করি। জরুরি ভিত্তিতে একজন ঠিকাদার নিয়োগের মাধ্যমে একটি প্যাকেজে সেখানে কাজ শুরু করা হয়েছে। ভাঙন পয়েন্টে বালু ভর্তি জিও ব্যাগ ডাম্পিংয়ের কাজ চলছে। আশা করছি আগামী ২/৩ দিনের মধ্যে কাজ শেষ হবে। পরে বাঁধের মাটির কাজসহ ভাঙন প্রাতরোধে অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাজ করা হবে। আপাততঃ ভেড়িবাঁধটি সম্পূর্ণ শঙ্কামুক্ত বলে জানান তিনি।
 

প্রিন্ট

আরও সংবাদ