খুলনা | শনিবার | ১১ এপ্রিল ২০২৬ | ২৮ চৈত্র ১৪৩২

বাগেরহাটে মধ্যরাতে জানালার গ্রিল কেটে বৃদ্ধাকে হত্যার চেষ্টা ও স্বর্ণালঙ্কার লুট

নিজস্ব প্রতিবেদক, বাগেরহাট |
১২:৩৯ এ.এম | ১১ এপ্রিল ২০২৬


বাগেরহাট সদর উপজেলার ডেমা ইউনিয়নে আঙ্গুরা আশরাফ (৭০)  নামে এক বৃদ্ধাকে হাত-পা বেঁধে অমানষিক নির্যাতন করে হত্যার চেষ্টা এবং সর্বস্ব লুটে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত  ৩টার দিকে হেদায়েতপুর গ্রামে ঘটনাটি ঘটে। সকালে বৃদ্ধাকে গুরুতর অবস্থায় বাগেরহাট ২৫০ হাসপাতালে ভর্তির পর দুপুরে  অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকায়  চিকিৎসার জন্য নেওয়া হয়।  
থানায় অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, বাদী এস এম নিয়ামুল বারী ও তার বোনরা চাকুরির সুবাদে ঢাকায় থাকেন। গ্রামের বাড়িতে তার মা আঙ্গুরা আশরাফ একাই বসবাস করতেন। ঘটনার দিন রাতে দুর্বৃত্তরা বারান্দার গ্রিল ভেঙে ঘরে প্রবেশ করে। রাত ৩টার দিকে শব্দ পেয়ে বৃদ্ধার ঘুম ভাঙলে তিনি দেখতে পান দুর্বৃত্তরা তার মশারী ছিঁড়ে ফেলছে। বৃদ্ধা চিৎকার করার চেষ্টা করলে তাকে খাটের ওপর থেকে ফ্লোরে আছাড় মেরে ফেলে দেয় এবং কিল-ঘুষি মারতে থাকে। একপর্যায়ে প্রধান আসামি সজিব হাওলাদার বৃদ্ধার বুকের ওপর চড়ে বসে এবং পরনের শাড়ি ছিঁড়ে তার দুই হাত বেঁধে ফেলে। এরপর শাড়ি কাপড় গলায় পেঁচিয়ে তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা করা হয়। অন্য আসামিরা তার পাঁজরে লাথি মেরে গুরুতর জখম করে।
আসামিরা বৃদ্ধার কানের ৪ আনা ওজনের একজোড়া স্বর্ণের রিং কান ছিঁড়ে ছিনিয়ে নেয়, যার ফলে ঘর রক্তে ভিজে যায়। এছাড়া ১ ভরি ওজনের স্বর্ণের চেইন, ড্রয়ার ভেঙে ৩ ভরি ওজনের চুড়ি এবং নগদ ৬৮,৮০০ টাকা লুট করে নিয়ে যায়। লুণ্ঠিত মালামালের মূল্য ১০ লক্ষাধিক টাকা
ভোর ৪টার দিকে জ্ঞান ফিরলে বৃদ্ধা তার মোবাইল ফোন দিয়ে সন্তানদের খবর দেন। স্বজনরা তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে বাগেরহাট ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তার অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানান। বর্তমানে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে জরুরি ভিত্তিতে ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়েছে। এই ঘটনায় বৃদ্ধার বড় ছেলে নিয়ামুল বারী বাদী হয়ে বাগেরহাট সদর মডেল থানায় এজাহার দায়ের করেছেন। মামলায় সজিব হাওলাদার (২৮), এস.এম আতাউর বারি (৬০), মিনহাজুল বারি (২২) এবং রনজিৎ মৃধাকে (৫২) অভিযুক্ত করা হয়েছে।
বৃদ্ধার ছেলে বলেন, পরিকল্পিতভাবে গ্রিল কেটে ঘরে ঢুকে আমার মাকে  হত্যা করার চেষ্টা করা হয়েছে। শুধু লুটপাট নয়, তাকে শেষ করে দেওয়ার উদ্দেশ্য ছিল। আমরা এই ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার ও কঠোর শাস্তি চাই।
বাগেরহাট মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মোঃ শহিদুল ইসলাম বলেন, আমাদের কাছে একটি লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে। বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে নিয়েছি। আসামিদের দ্রুত গ্রেফতারে অভিযান চলছে ।
 

প্রিন্ট

আরও সংবাদ