খুলনা | রবিবার | ১২ এপ্রিল ২০২৬ | ২৮ চৈত্র ১৪৩২

বকেয়া পাওনা পরিশোধ না করেই নবায়ন

পাঁচ কোম্পানির কাছে ভাড়া বাবদ কেসিসির পাওনা ৮ কোটি টাকা, তবুও চলছে বিলবোর্ডের ব্যবসা

শামিম আশরাফ শেলী |
০১:৩০ এ.এম | ১২ এপ্রিল ২০২৬


কেসিসি’র নিকট থেকে রাস্তার বিউটিফিকেশন স্পট ভাড়া নিয়ে বিলবোর্ডের ব্যবসা করছে পাঁচটি কোম্পানি। ২০১৫-১৬ অর্থ বছর থেকে বর্তমান ২০২৫-২৬ পর্যন্ত কোম্পানিগুলোর কাছে খুলনা সিটি কর্পোরেশনের আট কোটি টাকার অধিক ভাড়া বাবদ পাওনা হয়েছে। কোম্পানিগুলো পাওনা পরিশোধ না করেও দিব্যি ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে!
সূত্রমতে, ২০১৫-১৬ অর্থ বছরে কেসিসি নগরীর পাঁচটি সড়কদ্বীপ সৌন্দর্যায়নের শর্তে ভাড়া দেয়। এর মধ্যে রয়্যাল মোড় থেকে শিববাড়ি মোড় এবং শিববাড়ি মোড় থেকে জোড়াগেট মোড় পর্যন্ত ভাড়া নেয় ভিউ ফাইন্ডার নামক কোম্পানি, ডাকবাংলা থেকে শিববাড়ি মোড় পর্যন্ত বন্ধু মিডিয়া, শিববাড়ি থেকে সোনাডাঙ্গা পর্যন্ত পোলাইড এবং সোনাডাঙ্গা থেকে গল­ামারী মোড় পর্যন্ত রয়েল ব্লু নামক কোম্পানি ভাড়া নেয়। এছাড়া ডাকবাংলা মোড়ে একটি ডিজিটাল বিলবোর্ড স্থাপনের জন্য ভাড়া নেয় এ্যাড ফ্রেম এ্যাড নামক একটি কোম্পানি। 
সূত্রমতে, আলোকিত বিলবোর্ডের ভাড়া প্রতি বর্গফুট সরকারি ৩০০ টাকা এবং বেসরকারি ১৫০ টাকা। অন্যদিকে অনালোকিত সরকারি ১৫০ টাকা এবং বেসরকারি ১০০ টাকা নির্ধারিত হয়, এবং শর্ত থাকে যে, এই চুক্তি তিন বছরের জন্য কার্যকর হবে এবং তিন বছর পর আবার নবায়ন করা যাবে, তবে সম্পূর্ণ ভাড়া পরিশোধ না হলে নবায়ন করা যাবে না।
সূত্রমতে, ভিউ ফাইন্ডারের নিকট বর্তমান অর্থবছর পর্যন্ত কেসিসি’র পাওনা তিন কোটি ৫৩ লাখ ৯২ হাজার ৮৯৪ টাকা, পোলাইড’র নিকট পাওনা এক কোটি ৩৫ লাখ ৫১ হাজার ৬০০ টাকা, বন্ধু মিডিয়া’র নিকট পাওনা এক কোটি ৩৮ লাখ ৯৬ হাজার ৩৮০ টাকা, রয়েল ব্লু’র নিকট পাওনা ৩৬ লাখ ৩১ হাজার টাকা এবং এ্যাড ফ্রেম এ্যাড কোম্পানির নিকট পাওনা এক কোটি ৪১ লাখ ২৬ হাজার ৬০০ টাকা। উলে­খ্য, কেসিসি’র পাওনা পরিশোধ না করলেও কোম্পানিগুলো বিলবোর্ড ভাড়া দিয়ে ঠিকই কোটি কোটি টাকা আয় করছে।
বকেয়া আদায় সম্বন্ধে জানতে চাইলে কেসিসি’র লাইসেন্স অফিসার (যানবাহন) শেখ মোঃ দেলওয়ার হোসেন সময়ের খবরকে বলেন, প্রতি বছর কোম্পানিগুলো বকেয়াতো পরিশোধ করছেই না বরং হাল সনের পাওনা থেকেও কেউ এক লাখ, কেউ দুই লাখ টাকা পরিশোধ করছে না, নিজেদের ইচ্ছা মতো তা-ই প্রদান করছে।
এ বিষয়ে যোগাযোগের চেষ্টা করে শুধু পোলাইড কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক খলিলুর রহমানের সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়। বকেয়া টাকা পরিশোধ কেন করছেন না জানতে চাইলে সময়ের খবরকে তিনি বলেন,“ কেসিসি ভাড়ার হার বৃদ্ধি করায় আমরা মামলা করেছি তাই মামলার সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত বকেয়া পরিশোধ করছিনা।” 
চুক্তির শর্তে ছিলো যে ভাড়া বকেয়া থাকলে নবায়ন করা যাবে না, সে ক্ষেত্রে কেসিসি’র বিরুদ্ধে মামলা করে এবং ভাড়া বকেয়া রেখে দুই বার নবায়ন কি ভাবে সম্ভব হ’ল জানতে চাইলে তিনি বলেন,“সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষই নবায়ন করেছে।”
ভাড়ার পরিবর্তে মামলা করে এবং বকেয়া পরিশোধ না করা সত্তে¡ও কিভাবে নবায়ন হ’ল জানতে চাইলে দেলওয়ার হোসেন সময়ের খবরকে বলেন, “বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন কাউন্সিলর এবং স্ট্যান্ডিং কমিটি কাজ করেছে, তারা লাইসেন্স শাখাকে না জানিয়ে এদের নবায়ন করে দিয়েছেন।” 
এ বিষয়ে জানতে চাইলে কেসিসি’র প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু সময়ের খবরকে বলেন, “আমরা এই বিলবোর্ড ব্যবসায়ীদের উচ্ছেদ করে ওদের মালামাল ক্রোক করবো। ওদের চুক্তি বাতিল করে নতুন কোম্পানির কাছে লীজ দেওয়া হবে এবং বিউটিফিকেশনের পরিধি বৃদ্ধিরও পরিকল্পনা আছে আমাদের। আর কেসিসি তার পাওনা আদায়ে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। এছাড়া যারা ওদের সাথে অবৈধ ভাবে চুক্তি নবায়ন করেছে তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত হচ্ছে, কেউ দোষী সাব্যস্ত হলে তার বিরুদ্ধে অবশ্যই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

প্রিন্ট

আরও সংবাদ