খুলনা | রবিবার | ১২ এপ্রিল ২০২৬ | ২৮ চৈত্র ১৪৩২

সীমান্তে জ্বালানি ও ভোজ্য তেলের অবৈধ মজুদ ও পাচার প্রতিরোধে নিরাপত্তা জোরদার করেছে বিজিবি

নিজস্ব প্রতিবেদক, সাতক্ষীরা |
০২:১৪ এ.এম | ১২ এপ্রিল ২০২৬


দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম সীমান্তে জ্বালানি ও ভোজ্য তেলের অবৈধ মজুদ ও পাচার প্রতিরোধে এবং বাংলা নববর্ষ ও ঈদ-উল-আযহা উপলক্ষে সাতক্ষীরার স্থল ও জল সীমান্তে টহল  তৎপরতা বৃদ্ধি ও  বিশেষ নিরাপত্তা জোরদার করেছি বিজিবি। সাতক্ষীরার শ্যামনগরের নীলডুমুরস্থ বিজিবি ১৭ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেঃ কর্নেল মোঃ শাহরিয়ার রাজিব স্বাক্ষরিত শনিবার সকালে গণমাধ্যমে প্রেরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এতথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এর যশোর রিজিয়ন দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলের সাতক্ষীরা, কুষ্টিয়া, মেহেরপুর, চুয়াডাঙ্গা, ঝিনাইদহ, যশোর ও খুলনা জেলার স্থলসীমান্ত এবং সুন্দরবনের গহীন অরণ্যের জলসীমান্ত মিলে প্রায় ৬০০ কিলোমিটার বিস্তৃত সীমান্ত রয়েছে। দীর্ঘ এ সীমান্ত জুড়ে নিরাপত্তা, চোরাচালান দমন, অভ্যন্তরীণ আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম দক্ষতার সাথে পরিচালনা করে যাচ্ছে বিজিবি। যশোর রিজিয়ন ২টি সেক্টর যথাক্রমে কুষ্টিয়া সেক্টর ও খুলনা সেক্টরের অধীনে ৭টি ব্যাটালিয়ন ও ১১৬টি বিওপি’র (বর্ডার আউট পোষ্ট) মাধ্যমে প্রতিদিন দিবারাত্রি ৪৬৪টি টহল পরিচালনার মাধ্যমে এ অঞ্চলের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করে যাচ্ছে।
সা¤প্রতিক সময়ে ভোজ্য ও জ্বালানি তেলের অবৈধ মজুদ ও পাচার প্রতিরোধের পাশাপাশি আসন্ন বাংলা নববর্ষ (পহেলা বৈশাখ) ও পবিত্র ঈদ-উল-আজহা উপলক্ষে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং গবাদিপশু চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবি ব্যাপক ও সমন্বিত কার্যক্রম গ্রহণ করেছে।
এরই ধারাবাহিকতায় সাতক্ষীরার ভোমরা ও যশোরের বেনাপোল, কুষ্টিয়ার দর্শনা স্থলবন্দরে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমে বিশেষ নজরদারি ও তল্লাশি অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। সীমান্তবর্তী ও স্থলবন্দর এলাকায় অবস্থিত ২২টি তেল পাম্পে নিয়মিত নজরদারি ও বিশেষ চেকিং জোরদার করা হয়েছে। সম্ভাব্য তেল পাচারের রুট চিহ্নিত করে এ পর্যন্ত ২৩২৫টি নিয়মিত ও বিশেষ টহল পরিচালনা করা হয়েছে। চোরাচালানপ্রবণ এলাকাসমূহে ৮৯৯টি বিশেষ চেকপোস্ট স্থাপন করে তল্লাশি কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। স্থানীয় জনগণের মাঝে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ৮৬৮টি মতবিনিময় সভা আয়োজন করা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়, স্থানীয় প্রশাসন, সেনাবাহিনী, র‌্যাব, পুলিশ ও শুল্ক বিভাগের সমন্বয়ে ৩১টি টাস্কফোর্স অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। এতে অবৈধ তেল জব্দসহ ১ জনকে ২ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এ সময় বিভিন্ন সংস্থার সাথে সমন্বয়ের মাধ্যমে ৬৬টি যৌথ নজরদারি ও তল্লাশি পরিচালনা করা হয়েছে।
এছাড়া আসন্ন ঈদ-উল-আযহা উপলক্ষে সীমান্ত দিয়ে গবাদিপশুর অনুপ্রবেশ ও চামড়া পাচার রোধে বিজিবি বিশেষ নজরদারি বৃদ্ধি করেছে। সীমান্ত এলাকায় অতিরিক্ত টহল, চেকপোস্ট স্থাপন এবং সন্দেহভাজন চলাচলের ওপর কঠোর নজরদারি অব্যাহত রয়েছে। পাশাপাশি সীমান্তবর্তী জনগণের মাঝে সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনার মাধ্যমে চোরাচালানের ক্ষতিকর দিক তুলে ধরা হচ্ছে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় তাদের সহযোগিতা কামনা করা হচ্ছে।
বিজিবির যশোর রিজিয়ন চলতি ২০২৬ সালের মাত্র ৩ মাসে চোরাচালান বিরোধী অভিযানে ৮৮ জন আসামিসহ প্রায় ৫৮ কোটি ৯৩ লক্ষাধিক টাকার মালামাল জব্দ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে-১.২৮৯১৫ কেজি স্বর্ণ, ১৫৫.৭৬ গ্রাম ডায়মন্ড, ১০.৫ কেজি রৌপ্য, ৪২টি অস্ত্র এবং ১৫২ রাউন্ড গুলি। অপর দিকে, ২০২৫ সালে ৪২০ জন আসামিসহ প্রায় ৩৭৭ কোটি ৪৬ লক্ষাধিক টাকার চোরাচালানী মালামাল আটক করা হয়, যার মধ্যে ৫৮ কেজি স্বর্ণ, ৫৩ কেজি রৌপ্য, ২৭টি অস্ত্র এবং ১৫২ রাউন্ড গুলি উল্লেখযোগ্য।
একই সাথে মাদক প্রতিরোধে চলতি ২০২৬ সালের ৩ মাসে ২৩২০ বোতল মদ, ১০০ গ্রাম ক্রিস্টাল মেথ, ১২২ কেজি গাঁজা, ২৬,২৭১ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট এবং ৪,১০০ বোতলের অধিক ফেন্সিডিলসহ প্রায় ২২ কোটি ১৩ লক্ষাধিক টাকার মাদকদ্রব্য জব্দ করতে সক্ষম হয়েছে। গত ২০২৫ সালে মাদক বিরোধী অভিযানে ৩০,৮০০ বোতল মদ, ৩৭ কেজি হিরোইন, ১,৬১,০০০ পিস ইয়াবা, ৪৯,০০০ বোতল ফেন্সিডিল এবং ২,০০০ কেজির অধিক গাঁজাসহ প্রায় ১৯ কোটি ৫২ লক্ষাধিক টাকার মাদকদ্রব্য জব্দ করা হয়েছে।
সাতক্ষীরার শ্যামনগরস্থ বিজিবি ১৭ ব্যাটেলিয়ানের অধিনায়ক লেঃ কর্নেল মোঃ শাহরিয়ার রাজিব বলেন,  “বিজিবি হবে সীমান্তে নিরাপত্তা ও আস্থার প্রতীক” বিজিবি মহাপরিচালকের এই ভিশন বাস্তবায়নে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের প্রতিটি সদস্য নিষ্ঠা, সততা ও পেশাদারিত্বের সাথে নিরলসভাবে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে। সীমান্ত সুরক্ষা, চোরাচালান দমন এবং দেশের সার্বভৌমত্ব অক্ষুণœ রাখতে বিজিবি সর্বদা দৃঢ় প্রতিশ্র“তিবদ্ধ। 
তিনি আরো বলেন, বর্তমান প্রেক্ষাপটে ভোজ্য ও জ্বালানি তেল পাচার প্রতিরোধসহ সার্বিক আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় স্থানীয় প্রশাসন, সেনাবাহিনী, অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং সমাজের সর্বস্তরের জনগণের সম্মিলিত ও সক্রিয় অংশগ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সবার সমন্বিত প্রচেষ্টার মাধ্যমেই একটি নিরাপদ, স্থিতিশীল ও সুরক্ষিত সীমান্ত নিশ্চিত করা সম্ভব।
 

প্রিন্ট

আরও সংবাদ