খুলনা | সোমবার | ১৩ এপ্রিল ২০২৬ | ২৯ চৈত্র ১৪৩২

যশোর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মিলন শ্যোন-অ্যারেস্ট

নিজস্ব প্রতিবেদক |
০৫:৪৩ পি.এম | ১২ এপ্রিল ২০২৬

 

যশোর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শহিদুল ইসলাম মিলনকে অভয়নগরের একটি মামলায় শোন অ্যারেস্ট করা হয়েছে। রোববার (১২ এপ্রিল) মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই আশরাফুল আলমের আবেদনের শুনানি শেষে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মাহাবুবা শারমিন এ আদেশ দেন।

মিলনের বিরুদ্ধে ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট অভয়নগরের ফেরিঘাট এলাকায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে গুলিবর্ষণ, বোমা হামলা ও দোকানপাট ভাঙচুরের অভিযোগ আনা হয়েছে। এদিন তার আইনজীবী জামিন আবেদন করলে বিচারক শুনানি শেষে তা নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কোর্ট ইন্সপেক্টর রোকসানা খাতুন।

মামলার অভিযোগে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট সারাদেশে ছাত্র-জনতার গণআন্দোলন তুঙ্গে থাকাকালে অভয়নগরের নওয়াপাড়া সড়কে ছাত্র-জনতা আন্দোলনে নামে। এদিন দুপুর ১২টার দিকে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা নওয়াপাড়া হাইওয়ের পাশে ফেরিঘাট এলাকায় জড়ো হয়। একপর্যায়ে তারা আন্দোলনরত ছাত্র-জনতার ওপর গুলিবর্ষণ, বোমা হামলা ও বাজারের বহু দোকানপাট ভাঙচুর করে।

এ ঘটনায় ওই বছরের ১০ ডিসেম্বর অভয়নগরের বুইকারা গ্রামের মৃত লুৎফর রহমানের ছেলে জোবায়ের হোসেন বাদী হয়ে মারপিট, ভাঙচুর ও বিস্ফোরক আইনে মামলা করেন। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা তদন্তকালে যশোর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শহিদুল ইসলাম মিলনের সম্পৃক্ততার প্রমাণ পান। ফলে গত ৫ এপ্রিল তিনি কারাগারে অন্য মামলায় আটক শহিদুল ইসলাম মিলনকে এ মামলায় শ্যোন-অ্যারেস্টের আবেদন করেন।

২০২৪ সালের ৩ অক্টোবর ঢাকার ফুলতলা থেকে শহিদুল ইসলাম মিলনকে গ্রেপ্তার করে ডিবি। তিনি যশোর শহরের ঘোপ পিলু খান সড়কের বাসিন্দা। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে নানা কারণে আলোচিত ছিলেন শহিদুল ইসলাম মিলন। যশোর পুরাতন কসবা পুলিশ ফাঁড়ির ভেতর জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক যুব ও ক্রীড়া সম্পাদক, নারী ও শিশু নির্যাতন ট্রাইব্যুনাল-২ এর বিশেষ পিপি অ্যাডভোকেট মোস্তাফিজুর রহমান মুকুলকে (মারা গেছেন) মারধর এবং মহিলা আওয়ামী লীগের এক নেত্রীকে দিয়ে দুজন আইনজীবীর (আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত) বিরুদ্ধে আদালতে শ্লীলতাহানির মামলা করানোর কারণে ব্যাপক আলোচিত হন তিনি। এ ছাড়া তার বিরুদ্ধে সদর উপজেলার ফতেপুর ইউনিয়নের হামিদপুর গ্রামে বিরোধপূর্ণ জমিতে থাকা বাড়িঘর ভাঙচুরের অভিযোগ রয়েছে।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ