খুলনা | সোমবার | ১৩ এপ্রিল ২০২৬ | ২৯ চৈত্র ১৪৩২

বেড়েছে ফার্নেস অয়েলের দাম, লিটারে ২৪ টাকা ৫৯ পয়সা

বিদ্যুৎ উৎপাদন, শিল্প খাত এবং বৃহৎ জ্বালানি নির্ভর প্রতিষ্ঠানে ব্যয় বাড়ার আশঙ্কা

খবর প্রতিবেদন |
০১:৩৯ এ.এম | ১৩ এপ্রিল ২০২৬


দেশে ফার্নেস অয়েলের (এইচএফও) দাম বৃদ্ধি করেছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রতি লিটার ফার্নেস অয়েলের দাম ৭০ টাকা ১০ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৯৪ টাকা ৬৯ পয়সা করা হয়েছে। অর্থাৎ লিটারে দাম বেড়েছে ২৪ টাকা ৫৯ পয়সা। নতুন এই মূল্য রোববার রাত ১২টা থেকে কার্যকর হয়েছে।
রোববার বিইআরসি সচিব মোঃ নজরুল ইসলাম সরকার স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন আইন, ২০০৩ এর ধারা ২২ (খ) ও ৩৪ অনুযায়ী প্রদত্ত ক্ষমতাবলে এ মূল্য সমন্বয় করা হয়।
বিইআরসি জানায়, বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) ফেব্র“য়ারিতে ফার্নেস অয়েলের মূল্য পুনঃনির্ধারণের প্রস্তাব কমিশনে দাখিল করে। 
এর আগে মেঘনা পেট্রোলিয়াম লিমিটেড, স্ট্যান্ডার্ড এশিয়াটিক অয়েল কোম্পানি লিমিটেড, যমুনা অয়েল কোম্পানি লিমিটেড এবং পদ্মা অয়েল কোম্পানি লিমিটেড বিপণন ও পরিবহন চার্জ বৃদ্ধির প্রস্তাব দেয়।
জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে কমিশন জানায়, বাংলাদেশ জ্বালানি নিয়ন্ত্রণ কমিশন আইন, ২০০৩-এর ধারা ৩৪ (৪) ও ৩৪ (৬) অনুসারে এই ম‚ল্য সমন্বয় করা হয়েছে। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) এবং তেল বিপণনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রস্তাবের ভিত্তিতে গণশুনানি শেষে বিস্তারিত পর্যালোচনা করে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২২ ফেব্র“য়ারি ২০২৬ তারিখের আদেশ অনুযায়ী ফার্নেস অয়েলের মূল্য প্রতি তিন মাস অন্তর বা প্রয়োজন অনুযায়ী সমন্বয়ের বিধান রয়েছে। সেই ধারাবাহিকতায় চলতি বছরের মার্চ মাসে অপরিশোধিত তেল আমদানি না হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে পরিশোধিত ফার্নেস অয়েলের গড় দর এবং মার্কিন ডলারের বিনিময় হার বিবেচনায় নিয়ে মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
চলতি বছরের ১৫ মার্চ প্রস্তাবগুলোর ওপর ফার্নেস অয়েলের দাম সমন্বয়ের জন্য একটি কমিটি গঠন করা হয়। এ কমিটি মার্চ মাসে পরিশোধিত ফার্নেস অয়েলের প্রকাশিত প্লাটস রেটের গড় এবং মার্কিন ডলারের বিনিময় হার পরিবর্তন বিবেচনায় এপ্রিল মাসে ফার্নেস অয়েলের মূল্যহার সমন্বয় করার সুপারিশ করে।  পরবর্তীতে ৫ ও ১২ এপ্রিল বিশেষ কমিশন সভায় বিপিসির সরবরাহকৃত ফার্নেস অয়েলের এই মূল্যহার সমন্বয় করে বিইআরসি।
বিপিসির ফার্নেস অয়েলের গ্রাহক শ্রেণিতে রয়েছে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বাবিউবো), সরকারি ও বেসরকারি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র, শিল্প কারখানা ও অন্যান্য গ্রাহক।
উল্লেখ্য, বিগত অন্তর্বতীকালীন সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর, প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ফার্নেস অয়েল ও জেট এ-১ এর দাম নির্ধারণের এখতিয়ার বিইআরসির ওপর ন্যস্ত করা হয়।
নতুন দামের ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদন, শিল্প খাত এবং বৃহৎ জ্বালানি নির্ভর প্রতিষ্ঠানের ব্যয় বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। বিশেষ করে ফার্নেস অয়েলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে উৎপাদন খরচ বাড়ার প্রভাব শেষ পর্যন্ত ভোক্তা পর্যায়েও পড়তে পারে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ