খুলনা | সোমবার | ১৩ এপ্রিল ২০২৬ | ২৯ চৈত্র ১৪৩২

‘সশস্ত্র বাহিনী কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা দলের সম্পত্তি নয়’

পিলখানা হত্যাকান্ড চালিয়ে সেনাবাহিনীকে দুর্বল করে দেয়া হয়েছিল, মন্তব্য প্রধানমন্ত্রীর

খবর প্রতিবেদন |
০১:৪৭ এ.এম | ১৩ এপ্রিল ২০২৬


পিলখানা হত্যাকান্ড চালিয়ে সেনাবাহিনীকে দুর্বল করে দেয়া হয়েছিল মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, নানা কর্মকান্ড করে সেনাবাহিনীকে বিতর্কিত করার চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু সশস্ত্র বাহিনী কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি, দল বা গোষ্ঠীর সম্পত্তি নয়। দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষাই সেনাবাহিনীর একমাত্র পবিত্র দায়িত্ব। একই সঙ্গে তিনি দেশের সার্বভৌমত্ব ও সংবিধানের মর্যাদা সমুন্নত রাখা, জনগণের আস্থা অটুট রাখা এবং কর্মে, সততায়, শপথে ও ত্যাগের মাধ্যমে দেশকে ভালোবাসার নির্দেশনা প্রদান করেন।
জুলাই আন্দোলনে সশস্ত্র বাহিনীর ভ‚মিকা জনগণকে আশান্বিত করেছে বলে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী। রোববার সকালে ঢাকা সেনানিবাসের সেনা প্রাঙ্গণ মিলনায়তনে এক দরবারে তিনি এ নির্দেশনা দেন। 
প্রধানমন্ত্রী দরবারে প্রধানমন্ত্রী সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের পেশাদারিত্ব বজায় রেখে দায়িত্ব পালনের আহŸান জানান।
প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন এ কথা জানিয়েছেন।এ সময় ঢাকা সেনানিবাসে কর্মরত জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তারাসহ অন্য কর্মকর্তারা সেখানে উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে সকালে ঢাকা সেনানিবাসের সেনা প্রাঙ্গনের মিলনায়তনের দরবারে পৌঁছালে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান তাঁর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অবঃ) ড. একেএম শামছুল ইসলাম, সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল এম নাজমুল হাসান এবং বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চীফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার লেঃ জেনারেল মীর মুশফিকুর রহমান।
তারেক রহমান বলেন, সশস্ত্র বাহিনী কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি, পরিবার কিংবা দলের সম্পত্তি নয়। সশস্ত্র বাহিনী একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের শক্তি এবং মর্যাদার প্রতীক। রাষ্ট্রীয় সংবিধানের প্রতি দায়বদ্ধতা এবং জনগণের অবিচল আস্থাই হতে হবে সশস্ত্র বাহিনীর পথ চলার প্রধান ভিত্তি। দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব রক্ষা করাই আমাদের প্রতিটি সদস্যের একমাত্র এবং পবিত্র দায়িত্ব।
এ সময় দেশের জন্য একটি ‘আধুনিক ও সময়োপযোগী’ সশস্ত্র বাহিনী গড়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী।
২০২৪ সালেল ৫ আগস্ট পরবর্তী এবং অন্তর্বতী সরকারের পুরো আমলে সেনাবাহিনীর ভ‚মিকা স্মরণ করে তারেক রহমান বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও সেনাবাহিনী স্বতঃস্ফ‚র্তভাবে তাদের দায়িত্ব পালন করেছে।
সেনাবাহিনীর আধুনিকায়নে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের অবদানের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সশস্ত্র বাহিনী যদি ঐক্যবদ্ধ থাকে, তবে বাংলাদেশকে কখনও কেউ পরাজিত করতে পারবে না। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান দেশপ্রেমের যে অগ্নিশিখা সেনাবাহিনীর মধ্যে জ্বালিয়েছিলেন, তা যেন নিভে না যায়।
জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী মিশনে অংশগ্রহণে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে বিএনপি সরকারই অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছিল উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, সশস্ত্র বাহিনী কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি, দল বা গোষ্ঠীর সম্পত্তি নয়। দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষাই সেনাবাহিনীর একমাত্র পবিত্র দায়িত্ব।
তিনি আরও বলেন, শুধু সেনাবাহিনী নয়, দেশের প্রতিটি সেক্টর সংস্কার ও প্রতিটি মানুষের উন্নয়নের ইশতেহার আমরা বাস্তবায়ন করতে চাই। রাষ্ট্র মেরমতের লক্ষ্যে বিএনপি জুলাই সনদে স্বাক্ষর করেছিল। জুলাই সনদের প্রতিটি দফা ঠিক যেভাবে ছিল, সেভাবেই বাস্তবায়নে এই সরকার বদ্ধপরিকর। 
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান প্রেক্ষাপটে এবং ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়সহ বিভিন্ন পরিস্থিতিতে সেনাবাহিনী তাদের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করেছে। ভবিষ্যতের নির্বাচনসহ জাতীয় গুরুত্বপ‚র্ণ সময়ে বাহিনীর ভ‚মিকা আরো স্বচ্ছ ও পেশাদার হওয়া প্রয়োজন।
সেনাবাহিনীর আধুনিকায়নে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের অবদানের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সশস্ত্র বাহিনী যদি ঐক্যবদ্ধ থাকে, তবে বাংলাদেশকে কখনও কেউ পরাজিত করতে পারবে না। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান দেশপ্রেমের যে অগ্নিশিখা সেনাবাহিনীর মধ্যে জ্বালিয়ে ছিলেন, তা যেন নিভে না যায়।
বর্তমান সরকার সশস্ত্র বাহিনীকে আরো শক্তিশালী করতে চায় জানিয়ে সরকার প্রধান বলেন, সশস্ত্র বাহিনী শক্তিশালী ও ঐক্যবদ্ধ থাকলে বাংলাদেশকে কেউ কখনো পরাজিত করতে পারবে না।
তারেক রহমান বলেন, অতীতে বিভিন্ন সময়ে নানা ঘটনা ও কর্মকান্ডের মাধ্যমে সেনাবাহিনীকে দুর্বল ও বিতর্কিত করার চেষ্টা করা হয়েছে।
সেনাবাহিনীর আধুনিকায়নে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের অবদানের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সশস্ত্র বাহিনী যদি ঐক্যবদ্ধ থাকে, তবে বাংলাদেশকে কখনও কেউ পরাজিত করতে পারবে না। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান দেশপ্রেমের যে অগ্নিশিখা সেনাবাহিনীর মধ্যে জ্বালিয়েছিলেন, তা যেন নিভে না যায়। তার মতে, একটি ঐক্যবদ্ধ সশস্ত্র বাহিনী থাকলে বাংলাদেশকে কেউ পরাজিত করতে পারবে না।
জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী মিশনে অংশগ্রহণে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে বিএনপি সরকারই অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছিল উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, সশস্ত্র বাহিনী কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি, দল বা গোষ্ঠীর সম্পত্তি নয়। দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষাই সেনাবাহিনীর একমাত্র পবিত্র দায়িত্ব।
তিনি আরও বলেন, শুধু সেনাবাহিনী নয়, দেশের প্রতিটি সেক্টর সংস্কার ও প্রতিটি মানুষের উন্নয়নের ইশতেহার আমরা বাস্তবায়ন করতে চাই। রাষ্ট্র মেরমতের লক্ষ্যে বিএনপি জুলাই সনদে স্বাক্ষর করেছিল। জুলাই সনদের প্রতিটি দফা ঠিক যেভাবে ছিল, সেভাবেই বাস্তবায়নে এই সরকার বদ্ধপরিকর। 
প্রধানমন্ত্রী দরবারে তার দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্যে বলেন, ‘আমাদের সামনে নতুন বাস্তবতা এসেছে বর্তমান সময় যুদ্ধের ধরন পাল্টেছে, বদলেছে নিরাপত্তার ধরণ। আজ নিরাপত্তা মানে কেবল স্থল সীমান্তে সুরক্ষা নয় এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে সমুদ্র, আকাশ সাইবার স্পেস, তথ্য যুদ্ধ, প্রযুক্তি নির্ভর প্রতিরক্ষা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, উপকূলীয় নিরাপত্তা, জ্বালানি অবকাঠামো, সামুদ্রিক সম্পদ এবং আঞ্চলিক কৌশগত প্রতিযোগিতা।’
তিনি বলেন, ‘সশস্ত্র বাহিনীকে শুধুমাত্র আধুনিক যুদ্ধ সরঞ্জাম সংযোজনে সীমাবদ্ধ না থেকে বরং একই সাথে সবার গুরুত্বের সাথে পেশাগত দক্ষতা, কৌশলগত প্রজ্ঞা ও জ্ঞানভিত্তিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সর্বদা সচেষ্ট থাকতে হবে। যাতে করে সশস্ত্র বাহিনীর যে কোন সমসাময়িক ও ভবিষ্যৎ নিরাপত্তার চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে সাক্ষম হয়। এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে সশস্ত্র বাহিনীর উন্নয়নে আমাদের সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে বিশেষ প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘শুধুমাত্র সশস্ত্র বাহিনী নয়, নির্বাচনের আগে ঘোষিত ইশতেহারে দেশের প্রতিটি সেক্টরের সংস্কার এবং উন্নয়ন সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের অর্থ সামাজিক এবং জীবনমান উন্নয়নের লক্ষে সুনির্দিষ্ট নীতিমালা এবং কর্মসূচি প্রকাশ করা হয়েছে। নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতা উন্নয়নের লক্ষ্যে দেশের প্রায় চার কোটি পরিবারের নারী প্রধানের কাছে আমরা ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দিতে চাই পর্যায়ক্রমে।’
দরবারে ঢাকায় অবস্থানরত সামরিক ও অসামরিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ ও বিভিন্ন পর্যায়ের সদস্যবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন এবং দেশের অন্যান্য স্থানে অবস্থানরত সদস্যগণ ভিডিও টেলিকনফারেন্স এর মাধ্যমে অংশগ্রহণ করেন। দরবারে বক্তব্য দেবার পর সেনা কর্মকর্তা ও  সৈনিকদের বিভিন্ন প্রশ্নেরও জবাব দেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ