খুলনা | সোমবার | ১৩ এপ্রিল ২০২৬ | ২৯ চৈত্র ১৪৩২

ইসলামী ব্যাংকের এমডি ছুটিতে এএমডি পেলেন ভারপ্রাপ্ত দায়িত্ব

খবর প্রতিবেদন |
০২:০০ এ.এম | ১৩ এপ্রিল ২০২৬


ইসলামী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মোঃ ওমর ফারুক খানের ছুটি নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ একটি সূত্র বলছে, ব্যাংকের বাইরের একটি গোষ্ঠীর চাপে এমডি ওমর ফারুক খানকে দেড় মাসের জন্য ছুটিতে পাঠানো হয়েছে। তবে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।
জানা গেছে, রোববার ব্যাংকের পর্ষদ সভায় এমডির ছুটির বিষয়টি গৃহীত হয়। একই সঙ্গে সভায় ব্যাংকটির অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এএমডি) আলতাফ হোসেনকে ভারপ্রাপ্ত এমডি নিয়োগ করা হয়। ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
আরও জানা গেছে, বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার ক্ষমতায় আসার পর ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ থেকে পরিচালক আব্দুল জলিলকে অপসারণ করা হয়। তাকে সরিয়ে এস এম আব্দুল হামিদ এফসিএকে পরিচালক করা হয়েছে।
ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এম জুবায়দুর রহমান এসব বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
এর আগে ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ এই টানাপোড়েন আঁচ করতে পেরে রোববার দুপুরে ইসলামী ব্যাংকের ওপর অনৈতিক হস্তক্ষেপের প্রতিবাদে মানববন্ধন করে ইসলামী ব্যাংক গ্রাহক ফোরাম। এ সময় তারা ইসলামী ব্যাংক ধ্বংসের ষড়যন্ত্র বন্ধের দাবি জানান।
আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ব্যাংকটিতে নিয়োগ পাওয়া তৎকালীন এমডি মুহাম্মদ মুনিরুল মওলার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম ও জালিয়াতির অভিযোগ ওঠায় ২০২৫ সালের মে মাসে তাকে অপসারণ করা হয়। পরে ৩ আগস্ট বাংলাদেশ ব্যাংকের অনাপত্তি নিয়ে ওমর ফারুক খানকে এমডি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠন করে দেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এরপর ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে ওমর ফারুক খান ইসলামী ব্যাংকে অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এএমডি) হিসেবে যোগ দেন। এর আগে তিনি এনআরবি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (চলতি দায়িত্ব) হিসেবে কর্মরত ছিলেন। 
ব্যাংক খাতে ওমর ফারুক খানের ৩৭ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে। ইসলামী ব্যাংকের আন্তর্জাতিক ব্যাংকিং উইং, প্রধান কার্যালয়, বিভিন্ন ডিভিশন, জোনাল অফিস ও শাখায় তিনি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন বলে জানা গেছে। এর মধ্যে হঠাৎ করে রোববার তার ছুটির খবরে ব্যাংক পাড়ায় এক ধরনের অস্থিরতা নেমে আসে।  

প্রিন্ট

আরও সংবাদ