খুলনা | মঙ্গলবার | ১৪ এপ্রিল ২০২৬ | ৩০ চৈত্র ১৪৩২

ব্যাংক আইনে ‘লুটেরাদের’ পুনর্বাসন আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত : টিআইবি ‎

খবর প্রতিবেদন |
০১:৫৮ এ.এম | ১৪ এপ্রিল ২০২৬


ব্যাংক রেজল্যুশন আইন, ২০২৬ সংশোধনের মাধ্যমে দুর্বল ব্যাংকের আগের শেয়ারধারীদের জবাবদিহি ছাড়াই পুনরায় মালিকানায় ফেরার সুযোগ দেওয়াকে ‘দুর্নীতি ও লুটপাটে সহায়ক’ এবং ‘আত্মঘাতী’ সিদ্ধান্ত মনে বলে করছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। সংস্থাটি বলছে, এতে ব্যাংকিং খাত আবারও লুটপাটের অভয়ারণ্যে পরিণত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। সোমবার এক বিবৃতিতে এসব কথা বলেন টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান।
ইফতেখারুজ্জামান বলেন, নুুন আইনের ১৮(ক) ধারার মাধ্যমে দায়ী ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে বিচারের আওতায় আনার বদলে দায়মুক্তির সুযোগ দেওয়া হয়েছে। এর ফলে ব্যাংক খাতে দীর্ঘদিনের অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা ও সুশাসনের ঘাটতি দ‚র না হয়ে বরং বিচারহীনুার সংস্কৃতি টিকিয়ে রাখা হচ্ছে।
ইফতেখারুজ্জামান আরও বলেন, সরকার যে যুক্তিই দিক না কেন, এই সিদ্ধান্ত বাস্তবে ব্যাংক লুটেরাদের পুরস্কৃত করার শামিল। এর মাধ্যমে ‘উইনার টেইকস অল’ ফর্মুলায় নীতি দখলের ধারাবাহিকতা বজায় থাকছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
টিআইবি সংশয় প্রকাশ করে বিবৃতিতে জানায়, সংকটে নিমজ্জিত ব্যাংকগুলোর আগের মালিকেরা কীভাবে আবার একই প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণ নিতে সক্ষম হবেন, যখন তাঁরা নির্ধারিত অর্থের মাত্র সাড়ে সাত শতাংশ জমা দিয়ে বাকি অর্থ দুই বছরে পরিশোধের সুযোগ পাচ্ছেন। একই সঙ্গে তাঁরা নুুন মূলধন জোগান, পুরোনো দায় পরিশোধ ও ক্ষতিপূরণের মতো শর্ত বাস্তবে কতটা পূরণ করবেন, তা নিয়েও সংশয় প্রকাশ করেছে সংস্থাটি।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ায় দায়ীদের জবাবদিহি নিশ্চিত না করে ঢালাওভাবে মালিকানা ফিরিয়ে দিলে ব্যাংক খাতে কোনো গুণগণ পরিবর্তন আসবে না, বরং এতে আর্থিক খাতে অস্থিতিশীলতা বাড়তে পারে এবং শেষ পর্যন্ত এর বোঝা জনগণকেই বহন করতে হবে। এই প্রেক্ষাপটে টিআইবি সরকারকে আইনটি পুনর্বিবেচনার আহŸান জানিয়েছে।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ