খুলনা | মঙ্গলবার | ১৪ এপ্রিল ২০২৬ | ১ বৈশাখ ১৪৩৩

মধ্যপ্রাচ্যের শান্তি–স্থিতিশীলতা রক্ষায় চীনা প্রেসিডেন্টের চার প্রস্তাব

খবর প্রতিবেদন |
০৩:২২ পি.এম | ১৪ এপ্রিল ২০২৬

 

মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ও স্থিতিশীলতা রক্ষা ও তা এগিয়ে নেওয়ার লক্ষ্যে চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিনপিং চারটি প্রস্তাব পেশ করেছেন। তাঁর প্রস্তাব এমন এক সময়ে সামনে এল, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরান আগ্রাসনের কারণে পুরো মধ্যপ্রাচ্য অস্থিতিশীল হয়ে উঠেছে। সির প্রস্তাবে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোকে ঘনিষ্ঠ প্রতিবেশী হয়ে থাকার, জাতীয় সার্বভৌমত্বে অবিচল থাকার এবং আন্তর্জাতিক আইনের শাসনের প্রতি অবিচল থাকার প্রতি জোর দেওয়া হয়েছে।

চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাও নিং তাঁর অফিশিয়ালি ভেরিফায়েড এক্স হ্যান্ডেল থেকে এই প্রস্তাব চারটি প্রকাশ করেছেন। চীনা প্রেসিডেন্ট যে প্রস্তাব চারটি দিয়েছেন সেগুলো হলো—

১. শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের নীতিতে অবিচল থাকা: মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগরীয় দেশগুলো একে অপরের ঘনিষ্ঠ প্রতিবেশী, যারা বিচ্ছিন্ন হয়ে থাকতে পারে না। উপসাগরীয় দেশগুলোর পারস্পরিক সম্পর্ক উন্নয়নে সমর্থন জোগানো অত্যন্ত জরুরি। এ ছাড়া, মধ্যপ্রাচ্য ও উপসাগরীয় অঞ্চলে একটি অভিন্ন, সামগ্রিক, সহযোগিতামূলক এবং টেকসই নিরাপত্তা কাঠামো গড়ে তুলতে কাজ করতে হবে এবং শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের ভিত্তি মজবুত করতে হবে।

২. জাতীয় সার্বভৌমত্বের নীতিতে অবিচল থাকা: সার্বভৌমত্ব হলো সব দেশের, বিশেষ করে উন্নয়নশীল দেশগুলোর টিকে থাকার এবং সমৃদ্ধি অর্জনের মূল ভিত্তি; এটি কোনোভাবেই লঙ্ঘন করা যাবে না। উপসাগরীয় দেশগুলোর সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা এবং আঞ্চলিক অখণ্ডতাকে যথাযথভাবে সম্মান করতে হবে। সেই সঙ্গে তাদের জনবল, স্থাপনা ও প্রতিষ্ঠানগুলোর নিরাপত্তা জোরালোভাবে রক্ষা করা প্রয়োজন।

৩. আন্তর্জাতিক আইনের শাসনের নীতিতে অবিচল থাকা: জাতিসংঘকে কেন্দ্রে রেখে আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা, আন্তর্জাতিক আইনের ওপর ভিত্তি করে বিশ্বব্যবস্থা এবং জাতিসংঘের সনদের লক্ষ্য ও আদর্শ দ্বারা পরিচালিত আন্তর্জাতিক সম্পর্কের মৌলিক নিয়মগুলো দৃঢ়ভাবে বজায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ।

৪. উন্নয়ন ও নিরাপত্তার ভারসাম্যপূর্ণ পন্থায় অবিচল থাকা: নিরাপত্তা হলো উন্নয়নের পূর্বশর্ত এবং উন্নয়ন হলো নিরাপত্তার রক্ষাকবচ। উপসাগরীয় দেশগুলোর উন্নয়নের জন্য সব পক্ষকে একটি অনুকূল পরিবেশ তৈরি করতে হবে এবং ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে হবে। চীন তার আধুনিকায়নের সুযোগগুলো উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে ভাগ করে নিতে প্রস্তুত। আঞ্চলিক উন্নয়ন ও নিরাপত্তার জন্য একটি উর্বর ক্ষেত্র তৈরিতে চীন তাদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করতে চায়।

এদিকে, মার্কিন নৌ–অবরোধ শুরু হওয়ার অল্প কিছু সময় পরেই হরমুজ প্রণালি থেকে বের হয়ে গেছে চীনের একটি ট্যাংকার। বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে—ওয়াশিংটনের নিষেধাজ্ঞায় থাকা একটি চীনা তেলবাহী জাহাজ যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ সত্ত্বেও হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করেছে। সংস্থাটি এলএসইজি, মেরিনট্রাফিক এবং কেপলার নামের তিনটি প্রতিষ্ঠানের তথ্যের বরাত দিয়েছে।

রয়টার্স বলছে, জাহাজটির নাম রিচ স্ট্যারি। অবরোধ শুরুর পর এটিই প্রথম জাহাজ, যা প্রণালি পার হয়ে উপসাগর থেকে বেরিয়ে গেছে। জাহাজটি এবং এর মালিক প্রতিষ্ঠান সাংহাই শুয়ানরুন শিপিং কোম্পানি লিমিটেড। এর আগে ইরানের সঙ্গে লেনদেনের কারণে জাহাজটি যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়ে।

জাহাজটি সর্বশেষ সংযুক্ত আরব আমিরাতের হামরিয়াহ বন্দরে নোঙর করার সময় পণ্য তুলেছিল। এ ছাড়া রয়টার্স জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞায় থাকা আরেকটি জাহাজ মুরলিকিশান আজ প্রণালিতে প্রবেশ করছে। জাহাজটি ১৬ এপ্রিল ইরাকে অপরিশোধিত তেল তুলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এমকেএ নামে পূর্বে পরিচিত এই জাহাজটি রাশিয়া ও ইরানের তেল পরিবহন করেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

তথ্য অনুযায়ী, ইসরায়েল-ইরান যুদ্ধ শুরুর আগেও ইরানের তেলের সবচেয়ে বড় ক্রেতা ছিল চীন। ইরান থেকে রপ্তানি হওয়া মোট তেলের প্রায় ৮০ শতাংশই চীন আমদানি করত। শিপিং ডেটা ট্র্যাকিং সংস্থা কেপলার-এর তথ্যমতে: গত বছর চীন প্রতিদিন গড়ে ১৩ দশমিক ৮ লাখ ব্যারেল ইরানি তেল কিনেছে। এ ছাড়া চীনের মোট সমুদ্রপথে আমদানি করা তেলের প্রায় ১৩ দশমিক ৪ শতাংশ আসে ইরান থেকে।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ