খুলনা | শুক্রবার | ০১ মে ২০২৬ | ১৮ বৈশাখ ১৪৩৩

অতীতের সেই স্মৃতিমাখা ছইরুদ্দিনের লাঠি খেলায় রঙিন হলো মোংলার বৈশাখী বিকেল

মোংলা প্রতিনিধি |
১২:৩৬ এ.এম | ১৬ এপ্রিল ২০২৬


বাঙালির প্রাণের উৎসব পহেলা বৈশাখ ও বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উদ্যাপন উপলক্ষে মোংলায় বর্ণাঢ্য লাঠি খেলার আয়োজন করেছে উপজেলা প্রশাসন। গ্রাম বাংলার হারিয়ে যাওয়া এই প্রাচীন লোক-ঐতিহ্যকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে মঙ্গলবার বিকেলে মোংলা উপজেলা মাঠে এই জমজমাট প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়। এই উদযাপনের প্রধান আকর্ষণ হিসেবে গ্রাম বাংলার হারিয়ে যাওয়া ছইরুদ্দিনের ‘লাঠি খেলা’র। উপজেলা পরিষদ মাঠে এই শ্বাসরুদ্ধকর ও রোমাঞ্চকর ছইরুদ্দিনের লাঠি খেলা হাজারো দর্শক উপভোগ করেণ।
মোংলা ও আশপাশের এলাকায় এক সময় অত্যন্ত জনপ্রিয় ছিল ‘ছইরুদ্দিনের লাঠি খেলা’। আধুনিক বিনোদনের ভিড়ে হারিয়ে যেতে বসা এই শিল্পকে পুনরুজ্জীবিত করতে ২০ সদস্যের একটি চৌকস দল তাদের নৈপুণ্য প্রদর্শন করেন। ঢোলের তালের সাথে লাঠির ঝনঝনানি আর খেলোয়াড়দের রণকৌশল দেখে মোহিত হন মাঠে উপস্থিত কয়েক হাজার দর্শক। আগত দর্শনার্থীরা জানান, অনেক বছর পর এমন ঐতিহ্যবাহী আয়োজন শিশুদের যেমন আনন্দ দিয়েছে, তেমনি বড়দের স্মৃতি রোমন্থন করিয়েছে। এরকম কেরা-দুলার আয়োজন করা হলে মাদক থেকে যুব সমাজ বেঁচে যাবে, গঠন হবে আগামীর সুন্দর একটি রাষ্ট্র।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন মোংলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শারমিন আক্তার সুমী। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন মোংলা পোর্ট পৌরসভার সাবেক মেয়র মোঃ জুলফিকার আলী ও মাহবুবুর রহমান মানিক সহ বিএনপি রাজনৈতিক দলের বিভিন্ন নেতাকর্মী, স্কুল-কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও স্থানীয় হাজারো নারী-পুরুষ ও শিশুরা এসময় উপস্থিত ছিলেন। 
গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী এ লাঠি খেলার দল নেতা মোঃ আবুল বসার বলেন, ছইরুদ্দিনের লাঠি খেলা দলের সদস্যরা দীর্ঘদিন ধরে পূর্বপুরুষের এই ঐতিহ্যকে নিজেদের পকেটের টাকা খরচ করে টিকিয়ে রেখেছেন। খেলা শেষে উপস্থিত অতিথিদের মাধ্যমে সরকারের কাছে এই শিল্পের পৃষ্ঠপোষকতার দাবি জানান শিল্পীরা।তারা বলেন, ২০ সদস্যের এই প্রশিক্ষিত দলটি হয়তো অচিরেই হারিয়ে যাবে। পরবর্তী প্রজন্মের কাছে এই শিল্পকে পৌঁছে দিতে সরকারি সহযোগিতা এখন সময়ের দাবি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শারমিন আক্তার সুমী বলেন, আজ আমাদের এই মাঠ এক অনন্য উৎসবে মেতেছে। আধুনিক প্রযুক্তির যুগে যখন আমাদের শেকড়ের সংস্কৃতিগুলোপ্রায় বিলুপ্তির পথে, তখন লাঠি খেলার এই চমৎকার আয়োজন দেখে আমি অভিভূত। লাঠি খেলা কেবল একটি বিনোদন নয়, এটি আমাদের সাহসিকতা, শারীরিক কসরত এবং গ্রাম বাংলার হাজার বছরের ঐতিহ্য ও বীরত্বের প্রতীক। কিন্তু বর্তমান সময়ে মোবাইল ফোন এবং ডিজিটাল বিনোদনের ভিড়ে এই খেলাটি হারিয়ে যাচ্ছে। আসুন আমরা আমাদের সন্তানদের হাতে কেবল মোবাইল ফোন নয়, মাঝে মাঝে আমাদের এই গর্বের ঐতিহ্যের সরঞ্জামগুলোও তুলে দেই। এতে তাদের শরীর ও মন দু’টোই সতেজ থাকবে। আজকের এই চমৎকার আয়োজক ও শিল্পিদের আমি আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি। 

প্রিন্ট

আরও সংবাদ