খুলনা | বৃহস্পতিবার | ১৬ এপ্রিল ২০২৬ | ২ বৈশাখ ১৪৩৩

৯ হাজার ১১৬টি অভিযানে ৩ হাজার ৫১০টি মামলা, ৪৫ জনকে কারাদণ্ড

দেশে দুই মাসে জ্বালানির কোনো সমস্যা হবে না : মন্ত্রণালয়

খবর প্রতিবেদন |
০১:২৬ এ.এম | ১৬ এপ্রিল ২০২৬


মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ ও হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী ক্রুড অয়েল আমদানি ব্যাহত হলেও দেশে আগামী দুই মাসে জ্বালানির কোনো সংকট হবে না বলে আশ্বস্ত করেছে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়। বুধবার দুপুরে মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ও যুগ্ম-সচিব মনির হোসেন চৌধুরী সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এই কথা বলেন।
যুগ্ম-সচিব বলেন, ডিজেল নিয়ে আজকের দিনে আমি খুবই কমফর্টেবল। আমাদের এপ্রিল মাস তো বটেই, ইনশাআল­াহ মে মাসেও কোনো সমস্যা নেই। এটা আগে কিন্তু বলিনি, আগে এপ্রিল মাস পর্যন্তই বলেছি।
ব্রিফিংয়ে জ্বালানি বিভাগের এই যুগ্ম-সচিব উদ্ধার অভিযান ও বর্তমান মজুত পরিস্থিতির বিস্তারিত তুলে ধরে বলেন, প্রতি মাসেই জ্বালানির দাম সমন্বয় করা হয়। এপ্রিল মাসেও করা হয়েছে। আগামী মাসে কেমন দাম হবে তা পরিস্থিতি বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত হবে।
পেট্রোল পাম্পে ভিড় প্রসঙ্গে মনির হোসেন চৌধুরী বলেন, পেট্রোল পাম্পে অতিরিক্ত ভিড়-এই সমস্যা ঢাকার বাইরে নেই। ঢাকায় সমস্যাটা দেখা যাচ্ছে। কিন্তু প্যানিক বায়িংয়ের প্রয়োজন নেই। গত বছর একই সময়ে যে তেল পেট্রোল পাম্পগুলোতে দেওয়া হয়েছে, এ বছরও পরিমাণের তেল দেওয়া হচ্ছে। সরবরাহ কোনো ভাবেই কমানো হচ্ছে না। এতে তো সমস্যা হওয়ার কথা না।
শিল্প কারখানার ডিজেলে কোনো ঘাটতি নেই জানিয়ে তিনি বলেন, এক্ষেত্রে কোনো প্রতিবন্ধকতা নেই। তালিকা ধরে চাহিদা অনুযায়ী জ্বালানি দেওয়া হচ্ছে। বেসরকারিভাবে ১৪ লাখ মেট্রিক টন জ্বালানি আমদানির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
মার্চ ও এপ্রিল মাসে ক্রুড অয়েল আনতে পারেনি সরকার উলে­খ করে তিনি বলেন, এপ্রিল বা মে মাসের শুরুতে সৌদি আরব থেকে ভিন্ন রুটে ক্রুড অয়েল আসবে।
ব্রিফিংয়ে তিনি উদ্ধার অভিযান ও বর্তমান মজুত পরিস্থিতির বিস্তারিত তুলে ধরেন। যুগ্ম-সচিব মনির জানান, ৩ মার্চ থেকে ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত সারাদেশে মোট ৯ হাজার ১১৬টি অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। এসব অভিযানে ৩ হাজার ৫১০টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ সময় মোট ১ কোটি ৫৬ লাখ ৯ হাজার টাকা অর্থদণ্ড আদায় করা হয় এবং ৪৫ জনকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
অভিযানে বিপুল পরিমাণ অবৈধ মজুতকৃত জ্বালানি তেল উদ্ধার করা হয়েছে বলেও জানান তিনি। উদ্ধারকৃত জ্বালানির মধ্যে রয়েছে-ডিজেল ৩ লাখ ৬৬ হাজার লিটার, অকটেন ৩৯ হাজার ৭৭৬ লিটার এবং পেট্রোল ৮৭ হাজার ৯৫৯ লিটার। এছাড়া সম্প্রতি চট্টগ্রাম থেকে ৪৮ হাজার ৫০০ লিটার ফার্নেস অয়েল উদ্ধার করা হয়েছে। সব মিলিয়ে মোট ৫ লাখ ৪২ হাজার ২৩৬ লিটার অবৈধ জ্বালানি তেল উদ্ধার করা হয়েছে।
বর্তমান মজুত পরিস্থিতি তুলে ধরে মনির হোসেন চৌধুরী বলেন, দেশে বর্তমানে ডিজেল মজুত রয়েছে ১ লাখ ১ হাজার ৩৮৫ মেট্রিক টন, অকটেন ৩১ হাজার ৮২১ মেট্রিক টন, পেট্রোল ১৮ হাজার ২১১ মেট্রিক টন এবং ফার্নেস অয়েল ৭৭ হাজার ৫৪৬ মেট্রিক টন। এছাড়া জেট ফুয়েল মজুত রয়েছে ১৮ হাজার ২২৩ মেট্রিক টন।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ