খুলনা | বৃহস্পতিবার | ১৬ এপ্রিল ২০২৬ | ২ বৈশাখ ১৪৩৩

তাইমের বাবাকে এসআই শাহাদাত

‘উপরের অর্ডার, আমি গুলির কথা লিখতে পারবো না’

খবর প্রতিবেদন |
০১:৪৪ এ.এম | ১৬ এপ্রিল ২০২৬


জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ইমাম হাসান তাইমের সুরতহাল প্রতিবেদনে পুলিশের ছোড়া গুলির তথ্য গোপন করা হয়েছে বলে ট্রাইব্যুনালে জবানবন্দিতে জানিয়েছেন তার বাবা উপ-পরিদর্শক (এসআই) ময়নাল হোসেন ভ‚ঁইয়া। বুধবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর সদস্য বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীরের একক বেঞ্চে অনুষ্ঠিত জবানবন্দিতে তিনি এ কথা উলে­খ করেন। 
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে তাইম হত্যার ঘটনায় মানবুাবিরোধী অপরাধের মামলায় ১১ আসামির বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেন ময়নাল হোসেন। বর্তমানে রাজারবাগ পুলিশ লাইনসে কল্যাণ ও ফোর্স বিভাগে এসআই হিসেবে কর্মরত তিনি। ২০২৪ সালের ২০ জুলাই যাত্রাবাড়ীর কাজলা এলাকায় খুব কাছ থেকে গুলি চালিয়ে তার ছেলেকে হত্যা করে পুলিশ।
জবানবন্দির একপর্যায়ে ময়নাল বলেন, ২০২৪ সালের ২১ জুলাই সকালে পরিবারের সদস্য-সহকর্মীদের নিয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে অবস্থান করি আমি। তাইমের মরদেহ সুরতহাল ও ময়নাতদন্তের জন্য নেওয়া হয়। এর মধ্যেই আমার সঙ্গে দেখা করেন শাহবাগ থানার এসআই শাহাদাত। তখন পরিচয় দিয়ে তাইমকে পুলিশ গুলিবিদ্ধ করে মেরে ফেলেছে বলে জানাই। একইসঙ্গে সুরতহাল ও ময়নাতদন্তের ব্যবস্থা করার কথা বলি। কিন্তু একই পেশার সহকর্মী হিসেবে কোনো সান্ত¡না না দিয়ে আরেকজনের সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথা বলেন তিনি। এরপর অন্যান্য সহকর্মী ও নিজের ব্যক্তিগত কাজ করতে থাকেন এসআই শাহাদাত।
তাইমের বাবা বলেন, সকালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এলেও অকারণে দেরি করতে থাকেন শাহাদাত। দুপুর ১২টার দিকে সুরতহাল করতে যান তিনি। সুরতহাল করার সময় পুলিশের গুলিবিদ্ধ হওয়ার চিহ্নগুলো না লিখে কিছু ছিদ্র ও কালো স্পট থাকার কথা লিপিবদ্ধ করেন। আমি তাকে জিজ্ঞাসা করি ‘আপনি পুলিশের গুলিবিদ্ধ হওয়ার কথা না লিখে স্পট থাকার কথা কেন লিখলেন’। জবাবে এসআই শাহাদাত বলেছিলেন ‘এটা উপরের অর্ডার, আমি গুলির কথা লিখতে পারবো না’। তিনি আরও বলেন যে, ‘ছাত্র-জনতার আঘাতে ও গুলিতে আপনার ছেলে মারা গেছে’। এই বলে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে আমাকে স্বাক্ষর করতে বলেন। এতে আমি অনেক চিন্তায় পড়ে যাই।
ময়নাল হোসেন বলেন, আমার ছেলে মারা গেছে। চাকরি হারানোর সম্ভাবনা রয়েছে। ছেলের মৃত্যুর ২৪ ঘণ্টা পেরিয়ে গেছে। মরদেহে প্রায় পচন ধরে গেছে। এসব চিন্তা করে সুরতহাল প্রতিবেদনে স্বাক্ষর করতে বাধ্য হই। সুরতহাল শেষে প্রায় দুই-তিন ঘণ্টা পার হলেও ময়নাতদন্ত করা হয়নি। এ নিয়ে এসআই শাহাদাতের কাছে বারবার অনুরোধ করা হয়। কিন্তু তিনি কোনো সহযোগিতা করেননি। বিকেল ৪টার দিকে ময়নাতদন্তের জন্য নির্ধারিত কক্ষে নেওয়া হয়। সাড়ে ৪টার পর সম্পন্ন হলে আমরা তাইমের মরদেহটি বুঝে পাই।
এ মামলায় ১১ আসামির মধ্যে গ্রেফতার রয়েছেন দু’জন। তাদের আজ সকালে কারাগার থেকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। তারা হলেন-যাত্রাবাড়ী থানার তৎকালীন ওসি আবুল হাসান ও সাবেক এসআই শাহাদাত আলী।
পলাতকরা হলেন, ডিএমপির তৎকালীন কমিশনার হাবিবুর রহমান, যুগ্ম-কমিশনার সুদীপ কুমার চক্রর্বুী, ওয়ারি জোনের সাবেক ডিসি ইকবাল হোসাইন, এডিসি শাকিল মোহাম্মদ শামীম, ডেমরা জোনের তৎকালীন এডিসি মোঃ মাসুদুর রহমান মনির, তৎকালীন সহকারী পুলিশ কমিশনার নাহিদ ফেরদৌস, যাত্রাবাড়ী থানার তৎকালীন পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) জাকির হোসেন, পুলিশ পরিদর্শক (অপারেশন) ওহিদুল হক মামুন ও এসআই (নিরস্ত্র) সাজ্জাদ উজ জামান।
ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর সহিদুল ইসলাম সরদার। সঙ্গে ছিলেন প্রসিকিউটর আবদুস সোবহান তরফদার, মঈনুল করিমসহ অন্যরা।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ