খুলনা | শুক্রবার | ১৭ এপ্রিল ২০২৬ | ৩ বৈশাখ ১৪৩৩

‘শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধান পদে নিয়োগ পরীক্ষা ১৮ এপ্রিলেই অনুষ্ঠিত হবে’

খবর প্রতিবেদন |
০১:৪০ এ.এম | ১৭ এপ্রিল ২০২৬


বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধান ও সহকারী প্রধান নিয়োগ পরীক্ষা ১৮ এপ্রিল (শনিবার) অনুষ্ঠিত হবে। আদালতের আগের আদেশ স্থগিত করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার  আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি মোঃ রেজাউল হকের আদালত এ আদেশ দেন। এর ফলে আগামী ১৮ এপ্রিল পরীক্ষা হতে বাধা নেই বলে জানিয়েছেন অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল। বৃহস্পতিবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে।
এর আগে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) অধীনে আগামী ১৮ এপ্রিল অনুষ্ঠিতব্য প্রধান শিক্ষক ও সহকারী প্রধান শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিত করেছিলেন হাইকোর্ট।
বিচারপতি আকরাম হোসেন চৌধুরী ও বিচারপতি এ এফ এম সাইফুল করিমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ দেন। পরে এই আদেশ স্থগিত চেয়ে আবেদন করে রাষ্ট্রপক্ষ।
রিটের পক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট হুমায়ুন কবির বুলবুল বলেন, দেশের বিভিন্ন এলাকার স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা এবং কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ১১৪ জন আবেদনকারীর রিটের প্রেক্ষিতে আদালত এ আদেশ দেন।
গত ২৯ জানুয়ারি ইস্যুকৃত বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সারা দেশের স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ১৩,৫৫৯টি প্রতিষ্ঠান প্রধান ও সহকারী প্রধান পদে আগ্রহী প্রার্থীদের আবেদন আহŸান করা হয়। এক্ষেত্রে শিক্ষকদের ১০ থেকে ১৫ বছরের অভিজ্ঞতা চাওয়া হয়। কিন্তু আবেদনপত্র দাখিল করার ১৯ দিন পরে স্কুল ও কলেজ এবং ২৫ দিন পরে ভোকেশনাল, ব্যবসায় ব্যবস্থাপনা, টেকনোলজি ও ডিপ্লোমা এবং মাদ্রাসা শিক্ষা সংক্রান্ত জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালার পরিবর্তন আনা হয়। পরিবর্তিত নীতিমালা অনুসারে প্রতিষ্ঠান প্রধান ও সহকারী প্রধানের সকল পদে শিক্ষকদের ১৮ বছরের অভিজ্ঞতা চাওয়া হয়।
এর আগে আওয়ামী লীগ জমানার মতোই বেসরকারি শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত করার মাধ্যমে অর্থ উপার্জনের ধান্দাবাজরা সক্রিয় হয়েছে মর্মে নজির পাওয়া গিয়েছিলো। তবে নতুন আদেশে সে চেষ্টা ব্যর্থ হয়।
প্রতিষ্ঠান প্রধান ও সহ-প্রধান নিয়োগ পরীক্ষার মাত্র ৪০ ঘন্টা আগে এর ওপর স্থগিতাদেশ দিয়েছিলেন উচ্চ আদালত। একটি রিটের প্রেক্ষিতে আদালত এমন আদেশ দেন বলে জানা গিয়েছিলো।
আর এমন খবরে চরম ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধান পদে নিয়োগ পরীক্ষায় অংশগ্রহণে আগ্রহীরা। তারা রাষ্ট্রের নির্বাহী বিভাগের সিদ্ধান্তের ওপর বিচার বিভাগের এহেন হস্তক্ষেপকে ফ্যাসিস্ট আমলের সঙ্গে তুলনা করেছেন। এছাড়া রিটকারীদের নেতা খুরশিদা আক্তার, তোফায়েল আহমদ ও নেপথ্যে থাকা বেসরকারি শিক্ষক নেতাদের মুখোশ উন্মোচন করে শাস্তির আওতায় আনতে সরকারের প্রতি দাবি জানান।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়, এনটিআরসিএ এবং নিযুক্ত আইনজীবীরা  জানিয়েছিলেন, একটি রিটের প্রেক্ষিতে যে রুল দিয়েছেন আদালত তা স্থগিত করতে আইনি লড়াই চলছে। চেম্বার আদালতে আপিল করা হয়েছে। শুনানি হবে। অবশ্যই যথাসময়ে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। রিটকারী খুরশিদা আক্তার, তোফায়েল একজন সহকারী শিক্ষক। তার সঙ্গে বিভিন্ন অপপ্রচার ও সাংবাদিক নামধারী গুপ্তদের গভীর যোগাযোগ রয়েছে বলে শিক্ষকরা জানিয়েছিলেন। তবে এবার যথাসময়ে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার সিদ্ধান্ত জানিয়েছেন হাইকোর্ট।
এদিকে অনুসন্ধানে জানা যায়, এনটিআরসিএর মাধ্যমে নেওয়া পরীক্ষার মাধ্যমে নিয়োগ হলে বাণিজ্য বন্ধ হবে। তাই একটি গোষ্ঠী চাচ্ছে বিএনপি সরকারের একটা শুভ উদ্যোগ আদালতের মাধ্যমে বানচাল করতে।
উল্লেখ্য, আওয়ামী লীগ আমলে আইন ও বিধান পায়ে মাড়িয়ে হাইকোর্ট আদেশ দিয়েছিলো কয়েকজন নিবন্ধনধারীকে নিয়োগের। তখন দৈনিক শিক্ষাডটকম এর প্রতিবাদ জানিয়েছিলো। সংবাদের শিরোনাম ছিলো, শিক্ষক নিয়োগ রিটে না মেরিটে?

প্রিন্ট

আরও সংবাদ