খুলনা | শুক্রবার | ১৭ এপ্রিল ২০২৬ | ৩ বৈশাখ ১৪৩৩

খুবিতে হিট সাব-প্রকল্পের ইনসেপশন কর্মশালা

ভবিষ্যতে লাইব্রেরি ভবনটি শুধুমাত্র লাইব্রেরি হিসেবেই ব্যবহার করা হবে : উপাচার্য

খবর বিজ্ঞপ্তি |
০২:০৪ এ.এম | ১৭ এপ্রিল ২০২৬


খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘এনহ্যান্সিং লাইব্রেরি ফ্যাসিলিটিজ ফর এ মডার্ন এন্ড ইনক্লুসিভ লার্নিং এনভায়রনমেন্ট’ শীর্ষক এক ইনসেপশন কর্মশালা বৃহস্পতিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গবেষণাগারের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত হয়েছে। ‘এনহ্যান্সিং ডিজিটাল অ্যাক্সেস এন্ড ইনফ্রাস্ট্রাকচার ফর অ্যান ইনক্লুসিভ এন্ড মডার্ন লার্নিং এনভায়রনমেন্ট অ্যাট খুলনা ইউনিভার্সিটি সেন্ট্রাল লাইব্রেরি’ শীর্ষক হিট সাব-প্রকল্পের আওতায় এ কর্মশালাটি আয়োজন করা হয়।
সকালে কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতা করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মোঃ রেজাউল করিম। তিনি বলেন, লাইব্রেরি একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক পরিচিতি বহন করে এবং এটিই গবেষণার প্রকৃত উৎকর্ষের স্থান। হিট সাব-প্রকল্পের আওতায় খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরিকে আরও আধুনিক ও সমৃদ্ধ করার কাজ শুরু হয়েছে। ভবিষ্যতে লাইব্রেরি ভবনটি শুধুমাত্র লাইব্রেরি হিসেবেই ব্যবহার করা হবে।
তিনি আরও বলেন, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরিকে ডিজিটালাইজেশনের পাশাপাশি এর পরিবেশগত উন্নয়নের দিকেও নজর দেওয়া হচ্ছে। উদ্ভাবনী ধারণা কাজে লাগিয়ে এবং অন্যান্য উন্নত প্রতিষ্ঠানের লাইব্রেরি পরিদর্শন করে সেখান থেকে অভিজ্ঞতা নিয়ে কেন্দ্রীয় লাইব্রেরিকে একটি রিসোর্সফুল ও শিক্ষার্থীদের কাছে আকর্ষণীয় স্থান হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।
বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. মোঃ হারুনর রশীদ খান। তিনি বলেন, একটি দেশের কত শতাংশ মানুষ বই পড়ে, তা দেখে সেই জাতির সভ্যতার মানদন্ড নিরূপণ করা যায়। হিটের এই সাব-প্রকল্পটি পুরোপুরি বাস্তবায়িত হলে আমাদের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি অনেক বেশি রিসোর্সফুল হয়ে উঠবে। এটি শিক্ষার্থীদের যেমন লাইব্রেরিমুখী করবে, তেমনি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিশ্ববিদ্যালয়ের র‌্যাংকিং বৃদ্ধিতেও বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে। এই উদ্যোগের ফলে দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরি অন্যতম সেরা হিসেবে গড়ে উঠবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। 
কর্মশালায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ট্রেজারার প্রফেসর ড. মোঃ নূরুন্নবী বলেন, সাব-প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে দেশে প্রচলিত লাইব্রেরি ব্যবস্থাপনা ও ধারণায় একটি ইতিবাচক ও দৃশ্যমান পরিবর্তন আসবে। এটি শুধু অবকাঠামোগত উন্নয়ন নয়, জ্ঞানচর্চার পরিবেশকেও নতুন মাত্রায় নিয়ে যাবে। তিনি আরও বলেন, প্রকল্পের প্রতিটি কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। বরাদ্দকৃত অর্থের যথাযথ ও পরিকল্পিত ব্যবহার নিশ্চিত করার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সকলকে নিয়ম-নীতি অনুসরণ করে দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করার আহŸান জানান।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন প্রকল্পের এসপিএম এবং খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রন্থাগারিক (ভারপ্রাপ্ত) প্রফেসর ড. মোঃ গোলাম রাক্কিবু। কর্মশালার শুরুতে তিনি টেকনিক্যাল প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে প্রকল্পের মূল লক্ষ্য, কর্মপরিকল্পনা ও সম্ভাব্য চ্যালেঞ্জ তুলে ধরেন। 
স্বাগত বক্তব্যে প্রকল্পের পরিচিতি তুলে ধরেন এএসপিএম প্রফেসর ড. মোঃ কামরুজ্জামান। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন লাইব্রেরি অফিসার ফারহানা আফরিন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পর মুক্ত আলোচনা পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। কর্মশালায় খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন স্কুলের ডিন, ডিসিপ্লিন প্রধান, ছাত্র বিষয়ক পরিচালক, প্রভোস্ট ও বিভাগীয় পরিচালকবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ