খুলনা | শনিবার | ১৮ এপ্রিল ২০২৬ | ৫ বৈশাখ ১৪৩৩

‘কৃষক কার্ডের’ যুগে বাংলাদেশ চাষিদের মুখে হাসি ফুটুক

|
১২:৪০ এ.এম | ১৮ এপ্রিল ২০২৬


বাংলাদেশ জনবহুল দেশ। দেশের অর্থনীতি মূলত কৃষিনির্ভর, অথচ বরাবরই কৃষি অবহেলিত থেকে গেছে। বিভিন্ন সরকারের আমলে কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হলেও দেশের কৃষকের দুর্দিন ঘোচেনি। পাশাপাশি আমাদের কৃষিতে যে সম্ভাবনা রয়েছে, তা-ও অধরাই রয়ে গেছে। এ ক্ষেত্রে বর্তমান বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার নতুন করে আশা দেখিয়েছে। দেশের কৃষি খাত আধুনিকায়নের লক্ষে সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে, যার অংশ হিসেবে গত মঙ্গলবার ‘কৃষক কার্ড’ কর্মসূচি উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আমরা চাই, এর মধ্য দিয়ে দেশের কৃষিতে সোনালি সময় আসুক, চাষিদের মুখে হাসি ফুটুক।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তারেক রহমান যথার্থই বলেছেন, ‘এ দেশে প্রধান পেশা কৃষি। দেশে চার কোটি পরিবার আছে, প্রতিটি পরিবারে কেউ না কেউ কৃষির সঙ্গে সম্পর্কিত। দেশের কৃষক যদি সচ্ছল থাকেন, কৃষক যদি বেঁচে থাকেন, তাহলে পুরো বাংলাদেশ ভালো থাকতে পারবে। বাংলাদেশের মানুষ ভালো থাকতে পারবে।’ টাঙ্গাইলের শহিদ মারুফ স্টেডিয়ামে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ১৫ জনের হাতে কৃষক কার্ড তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী। এদিন ১১টি উপজেলায় পাইলট প্রজেক্ট হিসেবে ২২ হাজার ৬৫ জন কৃষকের হাতে এই কার্ড তুলে দেওয়া হয়। আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে এই সুবিধার আওতায় আসবেন দেশের দুই কোটি ৭৫ লাখ কৃষক। জানা গেছে, সরাসরি আর্থিক সুবিধা, কৃষি উপকরণ, আর্থিক বীমা, প্রযুক্তি পরামর্শ, ন্যায্যমূল্য ও প্রশিক্ষণের মতো গুরুত্বপূর্ণ অন্তত ১০টি সেবা এই কার্ডের মাধ্যমে কৃষকরা পাবেন।  
অতীতে দেখা গেছে, সরকারি প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নে অনিয়ম-অব্যবস্থাপনা থেকে যায়। সুবিধা প্রদানের ক্ষেত্রে ক্ষমতাসীন দলের স্থানীয় নেতাকর্মীদের প্রভাব থাকে। এতে যাঁদের সুফল পাওয়ার কথা, তাঁরাই বঞ্চিত হন। এবার সরকারের উচ্চ পর্যায় থেকে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে, কৃষক কার্ডের মতো কর্মসূচিতে অনিয়মের সুযোগ নেই। অনেক যাচাই-বাছাই করে প্রকৃত কৃষকদের নির্বাচন করা হয়েছে। আমরা চাই, দেশের কৃষিতে যে অফুরন্ত সম্ভাবনা রয়েছে, সেসব যথাযথভাবে বাস্তবায়িত হোক।
চলতি বছর ১৭ ফেব্র“য়ারি বর্তমান বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার পথচলা শুরু করেছিল। সেই হিসাবে সরকারের দুই মাস পূর্ণ হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বেশ কিছু ইতিবাচক পদক্ষেপ নিয়েছেন, যা জনমনে আশার সঞ্চার করেছে। এই ধারা অক্ষুণœ থাক। আশা করি, সব চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে সরকার সফলভাবে এগিয়ে যাবে।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ