খুলনা | রবিবার | ১৯ এপ্রিল ২০২৬ | ৬ বৈশাখ ১৪৩৩

পাঁচ জেলায় বজ্রপাতে ১১ জনের মৃত্যু

খবর প্রতিবেদন |
০৬:০০ পি.এম | ১৮ এপ্রিল ২০২৬

 

দেশের পাঁচ জেলায় বজ্রপাতে একদিনে ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (১৮ এপ্রিল) সুনামগঞ্জ, রংপুর, ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা ও হবিগঞ্জ জেলার পৃথক পৃথক স্থানে এসব দুর্ঘটনা ঘটে।

সুনামগঞ্জের তিন উপজেলায় বজ্রপাতে পাঁচ কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। আজ শনিবার (১৮ এপ্রিল) দুপুরে তাহিরপুর, জামালগঞ্জ ও ধর্মপাশা ও দিরাই উপজেলায় বজ্রপাতের ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন-ধর্মপাশার হাবিবুর রহমান (৩০),  রহমত উল্লা (১৫), জামালগঞ্জের নাজমুল হোসেন (২৬), তাহিরপুরে আবুল কালাম (২৫) ও দিরাই উপজেলার লিটন মিয়া (৩০)।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার দুপুরে চার উপজেলায় হঠাৎ আকাশ কালো করে প্রচণ্ড ঝড় বৃষ্টি শুরু হয়। তখন তাহিরপুরের মাটিয়ান হাওরে ধান কাটার সময় বজ্রপাতে আবুল কালাম আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্বার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

তাহিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম বলেন, বজ্রপাতে এক কৃষক নিহত হয়েছেন। আইনি প্রক্রিয়া শেষে ওই কৃষকের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

এদিকে জামালগঞ্জের পাগনার হাওরে ধান কাটতে গিয়ে বজ্রপাতে নূর জামাল (২৬) নামে আরেক কৃষকের মৃত্যু হয়। নিহত কৃষক উপজেলার চানপুর গ্রামের আমির আলীর ছেলে। জামালগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি বন্দে আলী বলেন, পাগনার হাওরে ধান কাটতে গিয়ে এক কৃষক নিহত হয়েছে। এছাড়াও আরোও ১ জন আহত হয়েছে।

পাশাপাশি একই সময়ে ধর্মপাশার টগার হাওরে ধান কাটতে গিয়ে বজ্রপাতে হাবিবুর রহমান নামে আরেক কৃষক আহত হলে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে ধর্মপাশা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহত কৃষক উপজেলার পাইকরহাটি ইউনিয়নের বড়ই হাটি গ্রামের হাফিজুর রহমানের ছেলে।

একই উপজেলার জয়শ্রী ইউনিয়নের সরস্বতীপুর গ্রামে বাড়ির পাশে ধান শুকাতে গিয়ে বজ্রপাতে রহমত উল্লা (১৫) নামে আরেক জনের মৃত্যু হয়। ধর্মপাশা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সহিদ উল্ল্যা বলেন, হাওরে ধান কাটার সময় বজ্রপাতে দুজনের মৃত্যু হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাদের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

জেলার দিরাই উপজেলার বরাম হাওরে ধান কাটতে গিয়ে লিটন মিয়া (৩০) নামে আরেক কৃষকের মৃত্যু হয়। নিহত কৃষক উপজেলার হাসনাবাদ গ্রামের বাসিন্দা। দিরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এনামুল হক বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, বজ্রপাতে এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। পুলিশ ঘটনাস্থলে যাচ্ছে। পরে বিস্তারিত জানানো যাবে।

অন্যদিকে রংপুরের মিঠাপুকুরে বজ্রপাতে দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনা আহত হয়েছেন আরও পাঁচজন। শনিবার (১৮ এপ্রিল) সকালে উপজেলার বড় হযরতপুর এলাকার সখিপুরে এই ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন- বড় হযরতপুর এলাকার তালেব উদ্দিন (৬০) এবং মাছ ধরতে আসা মিলন মিয়া (৪০)।

স্থানীয়রা জানান, সকালে বৃষ্টির আগে একটি পুকুরে জেলেরা মাছ ধরছিলেন। সেই দৃশ্য দেখতে পাড়ে ভিড় করেন ১০ থেকে ১২ জন গ্রামবাসী। পাশের আরেকটি পুকুরে পানা কাটছিলেন একজন। হঠাৎ করে বৃষ্টি শুরু হলে বিকট শব্দে বজ্রপাত ঘটে। এতে ঘটনাস্থলেই অনেকে গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা দ্রুত আহতদের উদ্ধার করে মিঠাপুকুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক দুইজনকে মৃত ঘোষণা করেন।

মিঠাপুকুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নুরুজ্জামান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, আহতদের মধ্যে ৫ জন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।

নেত্রকোণার আটপাড়ায় ধলার হাওরে ধান কাটতে গিয়ে বজ্রপাতে আলতু মিয়া (৬০) নামে এক কৃষকের মৃত্যু। আজ শনিবার বিকেলে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন আটপাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. শাহ্‌নূর রহমান।

স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, সকালে ধলার হাওরে চলতি বোরো মৌসুমের ধান কাটতে যায় আলতু মিয়াসহ স্থানীয় কৃষকরা। এ সময় বৃষ্টি ও বজ্রপাত শুরু হলে স্থানীয় কৃষকরা যে যার মতো বিভিন্ন স্থানে আশ্রয় নেয়। বৃষ্টির থামলে কৃষকরা আবারো ধান কাটতে গেলে হাওরের জমিতে আলতু মিয়ার মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে।

শরীরের বিভিন্ন স্থানে ঝলসানো চিহ্ন দেখে স্থানীয়রা নিশ্চিত বজ্রপাতেই কৃষক আলতু মিয়ার মৃত্যু হয়। পরে পরিবারের সদস্যরা খবর পেয়ে তার মরদেহ বাড়ি নিয়ে যান।

এ বিষয়ে আটপাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. শাহ্‌নূর রহমান বলেন, ‘আমরা এরই মধ্যে সংবাদ পেয়েছি যে হাওড়ে কাজ করতে গিয়ে একজন কৃষক নিহত হয়েছেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে আমরা প্রাথমিকভাবে খোঁজখবর নিয়েছি। নিহত কৃষকের দাফন-কাফনের যাবতীয় প্রক্রিয়ার জন্য তার পরিবারকে দ্রুত আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হবে।’

এছাড়া ময়মনসিংহে দুজন এবং হবিগঞ্জে একজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ