খুলনা | রবিবার | ১৯ এপ্রিল ২০২৬ | ৬ বৈশাখ ১৪৩৩

রাতে স্ত্রীর সঙ্গে ঝগড়া, ভোরে আত্মহত্যা করেন রেলের কনস্টেবল সম্রাট

নিজস্ব প্রতিবেদক |
১২:৪১ এ.এম | ১৯ এপ্রিল ২০২৬


নিজ নামে ইস্যুকৃত রাইফেল দিয়ে নিজের মাথায় গুলি করে আত্মহত্যা করেছেন সম্রাট বিশ্বাস নামে এক কনস্টেবল। তিনি খুলনা রেলওয়ে পুলিশে কর্মরত ছিলেন। পরিবারের দাবি-দাম্পত্য কলহের জেরে তিনি আত্মহত্যা করেছেন। শনিবার ভোরে নগরীর সোনাডাঙ্গা আবাসিক এলাকার (দ্বিতীয় পর্যায়) খুলনা রেলওয়ে জেলা কার্যালয়ে অস্ত্রাগারে দায়িত্বরত অবস্থায় সম্রাট নিজের ইস্যুকৃত রাইফেল দিয়ে নিজের মাথায় গুলি করে আত্মহত্যা করেন।
নিহত সম্রাট বিশ্বাসের বাড়ি গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলায়। তাঁর বাবা শৈলেন বিশ্বাস। সম্রাটের স্ত্রী পূজা বিশ্বাসও একজন পুলিশ সদস্য, তিনি বর্তমানে সাতক্ষীরা জেলায় কর্মরত আছেন।
বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে খুলনা থেকে আইনানুগ প্রক্রিয়া শেষে সম্রাটের মরদেহ তার গ্রামের বাড়িতে পৌঁছায়। এ সময় স্বজনদের আহাজারিতে ভারি হয়ে ওঠে আশপাশের এলাকা।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভোর আনুমানিক সাড়ে ৪টা থেকে ৫টার মধ্যে খুলনা রেলওয়ে পুলিশ লাইনের অস্ত্রাগারে (ম্যাগাজিন গার্ড) দায়িত্ব পালন করছিলেন সম্রাট। এ সময় তিনি নিজের ইস্যুকৃত চাইনিজ রাইফেল দিয়ে মাথায় গুলি করেন। এতে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়।
খবর পেয়ে খুলনা রেলওয়ের সিনিয়র রেলওয়ে পুলিশ (এসআরপি) এবং খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের (কেএমপি) সোনাডাঙ্গা থানার সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেন।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, দুই বোন ও এক ভাইয়ের মধ্যে সম্রাট সবার ছোট। বড় বোন প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষিকা ও ছোট বোন মাস্টার্সে অধ্যায়নরত। ২০১৮ সালে পুলিশে কনস্টেবল পদে নিয়োগ পান সম্রাট। চাকরিরত অবস্থায় প্রেমে জড়িয়ে পড়েন সাতক্ষীরা জেলা পুলিশে কর্মরত নারী কনস্টেবল পূজা দাশের সঙ্গে। ছয় মাস আগে পরিবারের সম্মতিতে রেজিস্ট্রি করে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন তারা। সামনের মাসে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতার কথা ছিল তাদের। কয়েকদিন ধরে দাম্পত্য কলহ চলছিল সম্রাট ও তার স্ত্রীর মধ্যে। গত (শুক্রবার) রাতে স্ত্রীর সঙ্গে রাগারাগি হয় সম্রাটের। মানসিকভাবে হতাশাগ্রস্ত ছিলেন তিনি। এ কারণেই তিনি আত্মহত্যা করেছেন বলে দাবি পরিবারের।
সম্রাটের মামা সত্যজিৎ রায় বলেন, আমরা খবর পেয়ে খুলনা গিয়ে আমার ভাগ্নের মরদেহ হাসপাতালে পড়ে থাকতে দেখি। ৬ মাস আগে আমাদের সে জানায় সাতক্ষীরা পুলিশে চাকরি করে এক মেয়েকে সে ভালোবাসে এবং বিয়ে করতে চায়। পরিবারের একমাত্র ছেলে বলে আমরা আর কিছু না ভেবে দুই পরিবার থেকে রেজিস্ট্রি করে বিয়ে দেই। বিয়ের পর থেকে পরিবারে সে এক টাকাও দিত না। সব বউ নিয়ে যেত।
তিনি আরও বলেন, ওর সহকর্মীদের কাছ থেকে জানতে পারি প্রতিদিনই ওদের মধ্যে ঝগড়া বিবাদ লেগে থাকতো। গত (শুক্রবার) রাতে ফোনে দু’জনের মধ্যে রাগারাগি হয়। এরপরই এ ঘটনা ঘটিয়েছে।
সম্রাটের দুলাভাই বিপ্লব কুমার সেন বলেন, আমার শালাবাবু মা-বাবার সঙ্গে কোনো ঝামেলা ছিল না। পরিবারের একমাত্র ছেলে বলে যা বলতো পরিবার তাই মেনে নিত। ওই মেয়েকে বিয়ে করতে চেয়েছে পরিবার তাই মেনে নিয়েছে। স্ত্রীর সঙ্গে বেশ কিছুদিন যাবত ওর ঝগড়া বিবাদ লেগেই থাকতো। এর কারণেই ও আত্মহত্যা করেছে। এছাড়া আমরা আর কোনো কারণ খুঁজে পাই না। ওর সহকর্মীরাও বলেছে গতরাতে ওদের মধ্যে ঝগড়া হয়েছিল। আমরা সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষীর বিচার চাই।
খুলনা রেলওয়ে পুলিশের পুলিশ সুপার আহমেদ মাঈনুল হাসান বলেন, গত বছরের ৩ নভেম্বর সম্রাট বিশ্বাস এখানে যোগদান করেন। দায়িত্ব পালনেও তিনি ছিলেন নিয়মিত ও শৃঙ্খলাবদ্ধ। তবে “কি কারণে এই ঘটনা ঘটেছে তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, পারিবারিক বিভিন্ন কারণে তিনি মানসিকভাবে হতাশায় ভুগছিলেন, যদিও সহকর্মীদের কাছে এ বিষয়ে তিনি আগে কিছু জানাননি।"
তিনি আরও জানান, সম্রাট বিশ্বাস শনিবার ভোরে অস্ত্রাগার (ম্যাগাজিন গার্ড) এলাকায় দায়িত্ব পালন করছিলেন। আনুমানিক ভোর সাড়ে ৪টা থেকে ৫টার মধ্যে নিজের ইস্যুকৃত চাইনিজ রাইফেল দিয়ে মাথায় গুলি করে আত্মহত্যা করেন তিনি। মরদেহের সুরতহাল সম্পন্ন করা হয়েছে এবং তা স্বজনদের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে। এ ঘটনায় আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণের পাশাপাশি মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে বিস্তারিত তদন্ত শুরু হয়েছে।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ